আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

অসমকে বাদ দিয়ে স্থল সীমান্ত চুক্তি মানবে না বাংলাদেশ

প্রকাশিত : ৩ মে ২০১৫
  • ঢাকা-দিল্লী আলোচনা হয়নি ॥ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

তৌহিদুর রহমান ॥ অসমকে বাদ দিয়ে স্থল সীমান্ত চুক্তি মেনে নেবে না বাংলাদেশ। সীমান্ত চুক্তি বিষয়ে অসমের বিরোধিতা ভারতের একান্ত অভ্যন্তরীণ সমস্যা হিসেবেই মনে করে ঢাকা। এছাড়া অসমকে বাদ দিয়ে সীমান্ত চুক্তির বিষয়ে ঢাকা ও দিল্লীর মধ্যে কোন আলোচনা হয়নি। অপরদিকে অসমকে বাইরে রেখে সীমান্ত চুক্তি বিল মানবে না কংগ্রেসও। ঢাকা ও দিল্লীর কূটনৈতিক সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে। ঢাকা ও দিল্লীর কূটনৈতিক সূত্র জানায়, স্থল সীমান্ত চুক্তি বিল রাজ্যসভায় উপস্থাপন চলছে। তবে অসমকে বাদ দিয়ে এই চুক্তি বাংলাদেশ মেনে নেবে না। আর বাংলাদেশকে খুব সহজেই এ বিষয়ে মানাতে পারবে না বলেও মনে করছেন ভারতের ক্ষমতাসীন দলের নেতারা।

অসমকে বাদ দিয়ে সীমান্ত চুক্তির বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম জানিয়েছেন, স্থল সীমান্ত চুক্তির বিষয়ে অসমের বিরোধিতা ভারতের একান্তই অভ্যন্তরীণ বিষয়। চুক্তি বাস্তবায়ন বিষয়ে উভয় পক্ষকে চূড়ান্তভাবে একমত হতে হবে। এছাড়া অসমের বিরোধিতার বিষয়ে ভারত এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে কিছু জানায়নি বলেও জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

এদিকে ভারতের গণমাধ্যম জানিয়েছে, অসমকে বাদ দিয়েছে বাংলাদেশের সঙ্গে আংশিক সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন করতে চাইলে বাধা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। রাজ্যসভার বিরোধী দল নেতা গোলাম নবী আজাদ বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত সমস্যা মিটিয়ে ফেলতে মনমোহন সিং সরকারই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু অসমের ভোটে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে আপাতত এই রাজ্যকে ওই চুক্তির আওতার বাইরে রাখার চেষ্টা করছে বিজেপি। বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থের মধ্যে সংকীর্ণ রাজনীতির অনুপ্রবেশ কংগ্রেস মেনে নেবে না। সরকারের শীর্ষ মন্ত্রীদেরও এ বিষয়ে ইতোমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে কংগ্রেস। এছাড়াও কংগ্রেস নেতারা বলেছেন, রাজনীতির কারণে বিজেপি যদি অসমকে বিলের আওতা থেকে বাদ দিতে পারে, কংগ্রেসই বা তাদের ছাড় দেবে কেন। বিলটি রাজ্যসভায় রুখে দেয়ার চেষ্টা করবে কংগ্রেস।

সূত্র জানায়, ভারতে অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা সংবিধান সংশোধনের এই বিল পাস হলে ছিটমহল সমস্যার সমাধান হবে বলে বাংলাদেশের কাছে এই উদ্যোগ বহু প্রতীক্ষিত। চলতি সপ্তাহেই পার্লামেন্টের রাজ্যসভায় সংবিধান সংশোধন বিল উত্থাপন করা হতে পারে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

বাংলাদেশ-ভারতের স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অসমকে বাদ রেখে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, স্থল সীমান্ত চুক্তি নিয়ে অসমে অনেক সমস্যা ও বিক্ষোভ। তাই এখন স্থল সীমান্ত চুক্তি থেকে অসমকে বাইরে রাখা হবে।

যদিও অসমকে বাদ রেখে তাদের এই উদ্যোগে বাংলাদেশকে মানানো যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন ভারতের ক্ষমতাসীন দলের রাজ্যনেতারা। এই পদক্ষেপ বাংলাদেশ সরকার মেনে নেবে কি না তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে অসমের তেজপুরের বিজেপি এমপি আর পি শর্মা বলেন, সরকার বিলটি রাজ্যসভায় তুলতে পারে এবং সেটি পাসও হয়ে যেতে পারে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশ সরকার এতে রাজি হবে কি না।

ভারতে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিগত ইউপিএ সরকারও এই চুক্তি বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছিল। চুক্তি কার্যকরে তা অনুসমর্থনে পার্লামেন্টে সংবিধান সংশোধন বিল তুলেও ছিল তারা। তবে অসম গণপরিষদ এবং পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের বিরোধিতায় তা আটকে যায়।

কংগ্রেস সরকারের তোলা ওই বিলে পরিবর্তন এনে তুলতে যাচ্ছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার। এতে অসম রাজ্যের ভূমি বিনিময় বাদ রাখা হচ্ছে। চুক্তি বাস্তবায়ন হলে বিনিময় হিসেবে বাংলাদেশ থেকে অসম ভূমি পাবে তার চেয়ে তাদের বেশি দিতে হবে। এভাবে ভূমি বিনিময় করলে আগামী বছর অনুষ্ঠেয় বিধান সভা নির্বাচনে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় স্থল সীমান্ত চুক্তির বিরোধিতা করছেন বিজেপির অসমের নেতারা। দুটি চা বাগানসহ বাংলাদেশ থেকে ২৩১ একর জমি পাবে অসম। অন্যদিকে বাংলাদেশকে তাদের দিতে হবে ২৬৮ একর। এটাই অসমে এ চুক্তির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী বেঙ্কাইয়া নাইডু জানিয়েছেন, ৫ মের মধ্যে বিলটি সংসদে তোলা হবে। চলতি অধিবেশনেই এটি পাস করিয়ে নেয়া হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন। বিলটি কিছুটা সংশোধিত আকারে পাস করা হবে। বিলের আওতা থেকে বাদ দেয়া হবে অসমকে। তবে পশ্চিমবঙ্গ ও মেঘালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের ভূখ- বিনিময়ের অংশটি একই থাকবে।

স্থল সীমান্ত চুক্তি ও প্রটোকলের আওতায় ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের মোট সাত হাজার ১১০ একর আয়তনের ৫১ এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের মোট ১৭ হাজার ১৬০ একর আয়তনের ১১১ ছিটমহল বিনিময়ের কথা রয়েছে। বাংলাদেশের ছিটমহলগুলোতে জনসংখ্যা রয়েছে ১৪ হাজার। আর ভারতীয় ছিটমহলগুলোতে জনসংখ্যা রয়েছে ৩৭ হাজার। বিজেপি ও আসম গণপরিষদ শুরু থেকে এই বিলের বিরোধিতা করে আসছিল। কারণ ছিটমহল বিনিময় হলে যে পরিমাণ জমি হাতবদল হবে, তাতে ভারত প্রায় ৭ হাজার একর জমি হারাবে।

প্রকাশিত : ৩ মে ২০১৫

০৩/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: