মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

রাজশাহীতে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন তিন শ’

প্রকাশিত : ২৮ এপ্রিল ২০১৫
  • ভূমিকম্পে হেলে পড়েছে ছয় বহুতল ভবন

মামুন-অর-রশিদ, রাজশাহী ॥ সাত বছর আগে রাজশাহী নগরীর একটি বহুতল ভবন ভূমিকম্পে হেলে পড়ে আরেকটি বহুতল ভবনের ওপর। সেই সময় ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে বসবাসের অনুপযোগী ঘোষণা করা হয়। তবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে ছাত্রদের মেস হিসেবে এখনও ব্যবহার হচ্ছে নগরীর মাস্টারপাড়ার ‘হাজী ভবন’ নামের বহুতল ভবনটি। এরই মধ্যে গত শনি ও রবিবারের ভূমিকম্পে হেলে পড়ে আরও কয়েকটি ভবন। এখন হেলে পড়া এসব একাধিক ভবন রাজশাহী নগরীতে জন আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরই মধ্যে ভূমিকম্পের গুজবে রবিবার রাতে এসব ভবন থেকে বসবাসকারীরা বেরিয়ে আসে রাস্তায়।

জানা গেছে, সর্বশেষ শনি ও রবিবারের ভূমিকম্পে নগরীতে চারটি ভবন হেলে পড়ে। এ গুলোর বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তা একেক ধরনের তথ্য দেন। নগর পরিকল্পক আজমেরী আশরাফী বলেন, ভবনগুলো ভেঙ্গে ফেলার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে এস্টেট অফিসারদের সঙ্গে কথা বলতে অনুরোধ করেন। তবে এস্টেট অফিসার শেখ কামরুজ্জামান দায় এড়িয়ে জানান, হেলেপড়া ভবন অপসারণের বিষয়টি দেখে সিটি কর্পোরেশন।

এরপর কথা হয়, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হকের সঙ্গে। তিনি বলেন , এটি রাসিক এবং আরডিএর দুই পক্ষেরই দায়িত্ব। সিটি কর্পোরেশনের পরিধির মধ্যে সকল বিষয়ের দায়িত্ব রাসিকের এ কথা স্বীকার করলেও এ কর্মকর্তা উল্টো এ প্রতিবেদকের কাছে জানতে চান নগরীর কোথায় কোথায় ভবন হেলে পড়েছে। ভূমিকম্পের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ খোঁজ খবর না নিলেও এখন হেলে যাওয়া ভবনের বিষয়ে তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান।

নগরীর মাস্টার পাড়ায় ২০০৪ সালে ভূমিকম্পে হেলে পড়া বহুতল হাজী ভবনের অপসারণের বিষয়ে তিনি বলেন, এ ভবনের মালিক পক্ষের কাছে তা অপসারণের জন্য নোটিস দেয়া হয়েছে। মালিক পক্ষ অপসারণের জন্য সময় চেয়েছে। জানা গেছে ,এ ভবনের মালিক সিটি কর্পোরেশের এক কর্মকর্তা হওয়ায় বার বার নোটিস উপেক্ষা করে আসছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণ তো দূরের কথা সেই ভবনে গাদাগাদি করে ছাত্র মেস বানিয়ে রেখেছেন।

জানা গেছে, রাজশাহী নগরীর পুরান ও নতুন বহুতল ভবন ভূমিকম্পের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে অন্তত ৩০০টি। ভবন নির্মাণের সময় নিয়ম না মানা ও পুরান ভবনগুলোর ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ না করার জন্য ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে এসব বহুতল ভবন মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। নগরীর নবনির্মিত মাস্টারপাড়া দুটিসহ ৬টি বহুতল ভবন ও পুরাতন প্রায় শতাধিক ভবন ভূমিকম্পে হেলে পড়ার পর রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন ৩০০ ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করে। দীর্ঘদিন পার হয়ে গেলেও এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে মানুষ বাস করে আসছে। নেয়া হয়নি কোন সুরক্ষা।

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টির ডিন প্রফেসর ইকবাল মতিন বলেন, জননিরাপত্তার স্বার্থে হেলে পড়া ভবন অপসারণ করতে হবে দ্রুততার সঙ্গে। ভবন নির্মাণে সকল পক্ষকে সতর্ক থাকতে হবে। প্ল্যান পাস করে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। তার পরে কেউ যদি নি¤œমানের উপকরণ দিয়ে ভবন নির্মাণ করে তাহলে তো হেলে পড়ার মতো ঘটনা ঘটতেই থাকবে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. ইউনুস আহমেদ খান বলেন, যেসব ভবন ইতোমধ্যে হেলে পড়েছে সেগুলোর শক্তি অনেক কমে গেছে। সে কারণে ঘন ঘন মাঝারি ভূমিকম্প অনুভূত হলে এসব ভবন ভেঙ্গে পড়তে পারে। সে কারণে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীদের দিয়ে ভাল করে পরীক্ষা করে দেখা প্রয়োজন। তা না হলে প্রাণহানির আশঙ্কা থেকেই যাবে।

প্রসঙ্গত, গত শনিবারের ভূমিকম্পে নগরীতে নতুন করে চারটি ভবন হেলে পড়ে। ফাটল ধরার খবর পাওয়া যায় তিনটি ভবনের। এগুলো হলো কাদিরগঞ্জের কারিগরি প্রশিক্ষণ একাডেমির পাঁচতলা ভবন, কাদিরগঞ্জে একটি বাণিজ্যিক ভবন, রানিবাজার বাটার মোড় এলাকার একটি বাণিজ্যিক ভবন ও মনি চত্বরে চারতলা একটি বাণিজ্যিক ভবন হেলে পড়ে। এছাড়া ফাটল ধরা ভবনগুলোর মধ্যে রয়েছে সাগরপাড়া এলাকার ড. সুজিত ভদ্রর নতুন চারতলা বাড়ি, ভেড়িপাড়া কেশবপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন এবং মসজিদ মিশন একাডেমি ভবন।

রাবির মতিহার হলে ফাটল

রাবি সংবাদদাতা জানান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মতিহার হলের নবনির্মিত ভবনের বিভিন্ন জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। ভবন নির্মাণকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়াসহ তিন দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা। সোমবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে হলের সামনে তারা এ কর্মসূচী পালন করেন।

তাদের অন্য দাবিগুলো হলো, দ্রুত এই ঝুঁকিপূর্ণ মতিহার হল ভেঙ্গে নতুন ভবন নির্মাণ করা এবং আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের আবাসনের ব্যবস্থা করা।

মতিহার হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মোঃ রেজাউল করিম শামীমের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান রানা। এ সময় মানববন্ধনে তিন দফা সংবলিত স্মারকলিপি পাঠ করে শোনান লোক প্রশাসন বিভাগের ও মতিহার হলের আবাসিক শিক্ষার্থী বোরহান হোসেন বাপ্পী।

প্রকাশিত : ২৮ এপ্রিল ২০১৫

২৮/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



ব্রেকিং নিউজ: