আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

রাজধানীতে প্রতি রাতে যাচ্ছে ২০ ট্রাক জাটকা

প্রকাশিত : ২২ এপ্রিল ২০১৫
  • থামছে না নিধন

নিজস্ব সংবাদদাতা, শরীয়তপুর, ২১ এপ্রিল ॥ কোন পদ্ধতিতেই শরীয়তপুরের পদ্মা ও মেঘনা নদীতে জাটকা নিধন বন্ধ করা যাচ্ছে না। নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর থেকে ভেদরগঞ্জ উপজেলার তারাবুনিয়া পযর্ন্ত ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা নদীতে অভয়াশ্রমে মাছ ধরাও বন্ধ হচ্ছে না।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতি রাতে সখীপুর থানাসহ ভেদরগঞ্জ, গোসাইরহাট, নড়িয়া ও জাজিরা উপজেলার বিভিন্ন রুট দিয়ে প্রায় ২০টি ট্রাকে করে ৫০ হাজার কেজিরও বেশি জাটকা যাচ্ছে রাজধানী ঢাকায়। সূত্র জানায়, গোসাইরহাট উপজেলার কোদালপুর থেকে মোল্লারহাট হয়ে সখীপুর-নড়িয়া-জাজিরা রাস্তা দিয়ে জাটকা বহনকারী ট্রাক মাওয়া ফেরিঘাটে পৌঁছায়। এছাড়াও গোসাইরহাট থেকে বুড়িরহাট হয়ে কানারবাজার দিয়ে এবং গোসাইরহাটের কোদালপুর থেকে ভেদরগঞ্জ উপজেলা সদর হয়ে কানারবাজার দিয়ে জাটকাবাহী ট্রাক মাওয়া ফেরিঘাটে পৌঁছায়। রাত ১২টার পরই এসব রুটে জাটকাবাহী ট্রাকের অবাধে চলাচল শুরু হয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন রাতে ব্যারিকেড দিয়ে জাটকাবাহী ট্রাক থামানোর চেষ্টা করলে ট্রাকচালকরা বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালায় বিধায় দুর্ঘটনার ভয়ে তা সম্ভব হয় না। মাওয়া-কাওড়াকান্দি ফেরিঘাটটি মাদারীপুর সীমানায় অবস্থিত হওয়ায় শরীয়তপুরের পুলিশ প্রশাসনের কোন নজরদারি না থাকায় অবাধে এই ঘাট দিয়ে রাত ১২টার পর পাচার হচ্ছে শত শত মণ জাটকাবাহী ট্রাক। এসব রুটের সংশ্লিষ্ট থানার কিছু দুর্নীতিবাজ পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা জাটকা পাচারে সহযোগিতা করায় মৎস্য বিভাগের স্বল্পসংখ্যক কর্মকর্তাসহ সাধারণ লোকজন জাটকা বহনকারী দু-একটি ট্রাক মাঝেমধ্যে রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে আটকালেও তাতে নদীতে জাটকা সংরক্ষণে কোন ফল বয়ে আনছে না। সরকার একদিকে যেমন জাটকা সংরক্ষণে জেলেদের কোটি কোটি টাকার খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে, অন্যদিকে জেলেরা অবাধে জাটকা নিধন করে চলছে।

ভেদরগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মোঃ জিল্লুর রহমান রিগান জানান, সোমবার রাত সাড়ে ১১টায় ভেদরগঞ্জ-ডামুড্যা সড়কের বাঐকান্দি এলাকায় রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে ২০ মণ জাটকা বহনকারী একটি ট্রাক আটকানো হয়েছে।

জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১ জানুয়ারি থেকে ২১ এপ্রিল পযর্ন্ত ১০টি জাটকা বহনকারী ট্রাক রাস্তায় আটকানো হয়েছে এবং জাটকা বহনের সঙ্গে জড়িতদের বিভিন্ন মেয়াদে জেল-জরিমানা করা হয়েছে। জেলা মৎস্য অফিস সূত্র জানায়, পহেলা নবেম্বর থেকে ৩০ জুলাই পযর্ন্ত নদীতে জাটকা নিধন, পরিবহন, সংরক্ষণ, বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এছাড়াও শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর থেকে ভেদরগঞ্জ উপজেলার তারাবুনিয়া পযর্ন্ত ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা নদীতে অভয়াশ্রমে সকল প্রকার মাছ ধরাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এজন্য এই মৌসুমে শরীয়তপুরের জাজিরা, নড়িয়া, ভেদরগঞ্জ ও গোসাইরহাট উপজেলার ১৬ হাজার ২শ’ ২৬ জন জেলেকে চিহ্নিত করে তাদের মধ্য থেকে ১২ হাজার ১শ’ ৯৬ জন জেলের প্রত্যেককে ৪০ কেজি করে মোট ১ হাজার ৯শ’ ৫১ টন চাল বিতরণ করেছে সরকার।

প্রকাশিত : ২২ এপ্রিল ২০১৫

২২/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



ব্রেকিং নিউজ: