মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় কেউ গ্রেফতার হয়নি

প্রকাশিত : ১৮ এপ্রিল ২০১৫

স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর ॥ হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) ছাত্রলীগের ২ গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ২ ছাত্রের ময়নাতদন্ত শুক্রবার দুপুরে সম্পন্ন করে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সহিংস ঘটনা অন্তে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ঘটনার জন্য পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দায়ী করেছে দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগ। হাবিপ্রবি’র পক্ষ থেকে হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পুলিশ এই ঘটনায় শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টায় হাবিপ্রবিতে ছাত্রলীগের রিয়েল-জেমি গ্রুপের আধিপত্য বিস্তার ও হল দখলকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংঘর্ষে রিয়েল সমর্থিত ২ ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদুল হাসান মিল্টন (২৬) ও মোঃ জাকারিয়া (২২) নিহত হন। নিহত মিল্টন নীলফামারী জেলার কিশোরীগঞ্জ উপজেলার ভেড়ভেড়ি গ্রামের মাহবুবুর রহমানের পুত্র ও কৃষি অনার্সের সেমিস্টার ২ লেভেল ৪-এর ছাত্র। নিহত মোঃ জাকারিয়া দিনাজপুর শহরের বড়গুড়গোলা মহল্লার গোলাম মোস্তফার পুত্র ও বিবিএ’র লেভেল ২ সেমিস্টার ২-এর ছাত্র। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ভেটেরিনারি অনুষদের নবীনবরণ উৎসব চলাকালীন শহর থেকে তিনটি মাইক্রোবাস করে ছাত্রলীগের রিয়েল গ্রুপের সমর্থকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে হামলা চালায়। এ সময় জেমি গ্রুপের সমর্থকরা উপস্থিত সাধারণ ছাত্রদের সঙ্গে নিয়ে পাল্টা হামলা চালালে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের সময় গুলির শব্দ ও ককটেল বিস্ফোরণের আওয়াজ শোনা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। রাত সাড়ে ৯টায় মিল্টনকে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রতিপক্ষের হামলায় মাথায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত জাকারিয়া ক্যাম্পাসের পানির ট্যাঙ্কের পাশের মাঠে মৃত অবস্থায় পড়ে ছিল। রাত সাড়ে ১১টায় পুলিশ দিমেক হাসপাতালে জাকারিয়াকে আনলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন। সংঘর্ষে জিয়া হলের সুপার অধ্যাপক ডাঃ ফজলুল হকসহ ২০ জন আহত হন। গ্রেফতার এড়ানোর জন্য আহত অনেকেই গোপনে বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা যায়।

শুক্রবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে কোতোয়ালি থানার এসআই আ.স.ম নুর, এসআই রাজিব ও এসআই পলাশ নিহত ২ ছাত্রলীগ নেতার লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরির পর ময়না তদন্ত সম্পন্ন করা হয়। দুপুর ১টায় লাশ ২টি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মিল্টনের লাশ গ্রামের বাড়ি নীলফামারীতে নিয়ে যাওয়া হয়। জাকারিয়ার জানাজা দুপুর পৌনে ৩টায় দিনাজপুর শহরের বড়গুড়গোলায় অনুষ্ঠিত হওয়ার পর দাফনের জন্য তার লাশ গ্রামের বাড়ি খানসামা উপজেলার ভাবকীগ্রামে নেয়া হয়।

সংঘর্ষে গুরুতর আহত হাবিপ্রবি’র ছাত্রলীগ নেতা জাহিদুর রহমান জাহিদকে (২৩) সকাল ৮টায় বগুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং রানা (২৪) ও ডলারকে (২২) রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। দিমেক হাসপাতালে গুরুতর আহত অবস্থায় ভর্তি ৬ ছাত্রলীগ নেতা হলেন রিয়ানুল হক (২২), শাওন (২২), বিজন (২৪), নয়ন (২২) ও সামিউল (২১)।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোঃ নজিবুর রহমান জানান, সংঘর্ষের ঘটনার প্রেক্ষিতে কৃষি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. আনিস খানকে আহ্বায়ক ও ছাত্র পরামর্শ বিভাগের পরিচালক প্রফেসর ড. শাহাদত হোসেন খানকে সদস্য সচিব করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ২ কার্য দিবসের মধ্যে কমিটিকে লিখিত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত ভিসি প্রফেসর রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে তার বাসভবনে অনুষ্ঠিত জরুরী বৈঠকে সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল পরীক্ষা ও ক্লাস যথারীতি চলবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়। রেজিস্ট্রার নজিবুর রহমান বলেন, তিনি বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করবেন। আইন উপদেষ্টা এ্যাডঃ মাহবুবুর রশিদের সঙ্গে পরামর্শ করে এজাহার লেখা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

পুলিশ সুপার মোঃ রুহুল আমিন জানান, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা না হলেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইমাম চৌধুরী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা, ব্যর্থতা ও উদাসীনতার জন্য এই হত্যাকা- ঘটেছে। তিনি ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীরা যেই হোক তাদেরকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। তিনি নিহত ছাত্রলীগের ২ নেতার রুহের মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের একজন নেতা অভিযোগ করেন, দলীয় কোন্দলের কারণেই এই হত্যাকা- সংঘটিত হয়েছে। সরকার ও দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ২ প্রভাবশালী ব্যক্তি রিয়েল ও জেমিকে প্রত্যক্ষভাবে মদদ দেয়ায় ছাত্রলীগের বিবাদ ও বিভেদ চরম আকার ধারণ করে। বৃহস্পতিবার রাতের ঘটনা সেই দ্বন্দ্বেরই নির্মম পরিণতি বলে সেই নেতা মন্তব্য করেন।

প্রকাশিত : ১৮ এপ্রিল ২০১৫

১৮/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: