মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বুড়িগঙ্গা মেঘনা শীতলক্ষ্যায় একের পর এক দুর্ঘটনা

প্রকাশিত : ৭ এপ্রিল ২০১৫
  • প্রতিকারে নেই উদ্যোগ

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ ॥ বালুবাহী বাল্কহেডগুলোর অদক্ষ চালক ও বেপরোয়া চালানোর কারণে বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা ও মেঘনা নদীতে একের পর এক নৌ- দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। এছাড়া নদী সংকোচন ও নদীর মাঝখানে বড় বড় কার্গো জাহাজ নোঙ্গর করে রাখা এবং নৌ-পথে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের অপতৎপরতার কারণেও নৌ-দুর্ঘটনা ঘটছে। কিন্তু দুর্ঘটনা রোধে নেই কোন প্রশাসনিক উদ্যোগ।

২ এপ্রিল ফতুল্লা থানার আলীগঞ্জের কাছে বুড়িগঙ্গা নদীতে বালুবাহী বাল্কহেডের ধাক্কায় একটি যাত্রীবাহী ট্রলার ডুবে ১৬ জন নিহত হয়। ৩০ মার্চ সিদ্ধিরগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীতে নৌকাডুবিতে আল আমিন নামে এক তরুণ নিহত হয়। ২৯ মার্চ বন্দর বিএম ইউনিয়ন স্কুল ঘাটের সামনে শীতলক্ষ্যা নদীতে মালবাহী ট্রলারের ধাক্কায় যাত্রীবাহী ট্রলার উল্টে শিল্পী বেগম নামে এক হোসিয়ারি শ্রমিক নিহত ও ৫ জন আহত হয়। ৭ ফেব্রুয়ারি বন্দর মদনগঞ্জ কয়লাঘাটের সামনে মালবাহী ট্রলারের ধাক্কায় যাত্রীবাহী ট্রলার ডুবে ২ শিশু নিহত হয়। নৌযান শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সবুজ শিকদার বলেন, অদক্ষ চালক ও বেপরোয়া নৌযান চলাচলের কারণেই প্রাণহানিরর ঘটনা ঘটেছে। শীতলক্ষ্যা ও বুড়িগঙ্গা নদীর বিভিন্ন স্থানে সিমেন্টসহ বড় বড় শিল্প কারখানাগুলোর সামনে বড় বড় কার্গো জাহাজ নোঙ্গর করে রাখায় নদী পথ সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। এতে করে নৌ-যান চলাচল ব্যাহত হয়। এছাড়া জোয়ার ভাটার কারণেও নদী পথ সংকীর্ণ হয়ে যায়। নদীতে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তৎপরতায় চালকরা দ্রুত গতিতে চালানোর কারণেও দুর্ঘটনা ঘটছে। এসব ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরী।

কার্গো ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মাহমুদ হোসেন বলেন, রাতে অবাধে নদীতে বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল করছে। কিন্তু প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। রাত জেগে নৌযান চালিয়ে আবার দিনের বেলায় নৌযান পরিচালনায় করার কারণেই এসব দুর্ঘটনা ঘটছে। তিনি রাতে বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল বন্ধের দাবি জানান। কার্গো ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম জানান, শীতলক্ষ্যা, বুড়িগঙ্গা ও মেঘনা নদীর বিভিন্ন স্থানে নৌ-যানে চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেছে। সন্ত্রাসীরা চাঁদা না দেয়ায় নৌ-যান শ্রমিকদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। এতে করে সারিবদ্ধভাবে দ্রুত গতিতে নৌযান চলাচলের কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। নারায়ণগঞ্জ নৌ-পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ রিয়াজ উদ্দিন জানান, নদী পথে নিরাপত্তায় নৌপুলিশের একটি মাত্র শ্যালো ইঞ্জিন চালিত ট্রলার দিয়ে বিশাল বড় বড় বালুবাহী বাল্কহেড নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। তারা মাঝে মাঝে নৌ-পুলিশের সিগন্যাল মানতে চান না। নৌ-যান মালিক-শ্রমিক সকলের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে নৌ-দুর্ঘটনারোধ করা সম্ভব।জেলা পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদউদ্দিন জানান, এই ধরনের অনাকাক্সিক্ষত প্রাণহানির ঘটনারোধে নৌ-দুর্ঘটনারোধে শীতলক্ষ্যা, বুড়িগঙ্গা, বালু ও ধলেশ্বরীর ব্যস্ত ঘাটগুলো সচেনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাইকিং ব্যবস্থা, অবৈধ ও লাইসেন্সবিহীন নৌযান ও চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। নৌ-যান চালক-শ্রমিকদের মধ্যে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। না হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। নৌ-পথে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নৌ পুলিশকে বলা হয়েছে।

প্রকাশিত : ৭ এপ্রিল ২০১৫

০৭/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



ব্রেকিং নিউজ: