মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

মহিবুর ও মজিবুরের বিরুদ্ধে অগ্রগতি প্রতিবেদন ১৬ এপ্রিল

প্রকাশিত : ১২ মার্চ ২০১৫
  • যুদ্ধাপরাধী বিচার

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত হবিগঞ্জের দুই সহোদর রাজাকার কমান্ডার মহিবুর রহমান ওরফে বড় মিয়া ও মজিবুর রহমান ওরফে আঙ্গুর মিয়ার বিরুদ্ধে অগ্রগতি প্রতিবেদন দেয়ার জন্য প্রসিকিউশন পক্ষকে ১৬ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে প্রসিকিউশন পক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে গ্রেফতারকৃত দুই জনকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৬ মার্চ সেফ হোমে নেয়ারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ প্রদান করেছেন। চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীনের অনুপস্থিতিতে অন্য দুই সদস্য বিচারপতি মোঃ মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মোঃ শাহিনুর ইসলাম ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ১০ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনাল এই দুই জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর পরই হবিগঞ্জ পুলিশ দুই জনকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে তাদের ১২ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। ২৪ ঘণ্টা পর তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে ট্রাইব্যুনাল ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে ট্রাইব্যুনাল এক নির্দেশে তাদের জেলে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেন। বুধবার প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সিমন অগ্রগতি প্রতিবেদন দেয়ার জন্য সময় চান। একই সঙ্গে দুই আসামিকে তদন্তের স্বার্থে সেফ হোমে নিয়ে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রার্থনা করেন। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল অগ্রগতি প্রতিবেদন দেয়ার জন্য ১৬ এপ্রিল দিন নির্ধারণ করেন। অন্যদিকে সেফ হোমে নিয়ে জিজ্ঞসাবাদের জন্য ১৬ মার্চ দিন নির্ধারণ করেন। এ সময় প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা বেগম চমন উপস্থিত ছিলেন।

হবিগঞ্জের এই দুই রাজাকারের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, আটক, অপহরণ, নির্যাতন, ধর্ষণ ও বিতাড়নের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। তদন্ত সংস্থা এখনও তদন্ত করে যাচ্ছে। তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তা মোঃ নূর হোসেন মামলাটি তদন্ত করছেন। মামলার তদন্তে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ২৬ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ১০টার সময় আসামি মহিবুর রহমান ওরফে বড় মিয়া ও মুজিবুর রহমান ওরফে আঙ্গুর মিয়াসহ তাদের সঙ্গীয় রাজাকার বাহিনী ও ১০-১৫ জন পাকিস্তানী আর্মি নিয়ে তিনটি নৌকাযোগে হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং থানার মুক্তিযুদ্ধের উপ- সর্বাধিনায়ক মেজর জেনারেল (অব) এম এ রব সাহেবের খাগাউড়া গ্রামের বাড়িতে হামলা চালায়। আসামিদ্বয় ওই বাড়িতে আগুন দিয়ে পাঁচটি বড় টিনের ঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। একই দিন রাজাকাররা হিন্দুপাড়ায় মনীন্দ্র চন্দ্র দেব, রামাকান্ত দেব, শম্ভুদেব, করুনা দেবের বাড়িঘরে লুটপাট চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এই ঘটনার পর অধিকাংশ হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন প্রাণ ভয়ে ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করেন।

গ্রেফতারকৃত দুই সহোদর ১৯৭১ সালের ১১ নবেম্বর মুক্তিযোদ্ধা আকল আলীর বাড়ি ঘেরাও করে। এ সময় আকল আলী ও রজব আলী ঘরে বসে গল্প করছিল। মহিবুর রহমান ওরফে বড় মিয়া তার হাতে থাকা রাইফেল দিয়ে গুলি করে রজব আলীকে হত্যা করে। এর পর রাজাকার দুই সহোদর মুক্তিযোদ্ধা আকল আলীকে চোখ বেঁধে টেনেহিঁচড়ে আখাউড়া রাজাকার ক্যাম্পে নিয়ে যায়। সেখানে মহিবুর রহমান ওরফে বড় মিয়া ও মুজিবুর রহমান ওরফে আঙ্গুর মিয়া মুক্তিযোদ্ধা আকল আলীকে অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলে। আসামি বড় মিয়া ও আঙ্গুর মিয়া একাত্তরের ২৬ অক্টোবর বানিয়াচং থানার খাড়াউড়া বেড়িপাড় সাকিনে অভিযান চালায়। এ সময় পাকিস্তানী আর্মি আফতাব মিয়ার যুবতীকন্যা আগরচাঁন বিবিকে এবং একই গ্রামের মৃত মঞ্জুর উল্লাহর স্ত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

প্রকাশিত : ১২ মার্চ ২০১৫

১২/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: