কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি ॥ লাপাত্তা হাটহাজারীর জনপ্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১০ মার্চ ২০১৫
  • গভীর অরণ্যে বিস্ফোরক মজুদের আশঙ্কা

নিজস্ব সংবাদদাতা, ফটিকছড়ি, ৯ মার্চ ॥ বিগত ৬৪ দিন যাবত দেশজুড়ে বিএনপি ও জামায়াত- শিবিরের নাশকতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জঙ্গী সংগঠনগুলো হাটহাজারীতে তৎপর রয়েছে। ১৯ ফেব্রুয়ারি হাটহাজারী পৌর সদরের সুলতান আহম্মদ সড়কের শাহিন ভবনে জিহাদী বই, অডিও-ভিডিও ক্যাসেটসহ ১২ জঙ্গীকে র‌্যাব আটকের পর থেকে পুলিশ প্রশাসন আরও তৎপর হয়ে পড়েছে। ৪ মার্চ হাটহাজারী চারিয়া এলাকায় সিএনজি ট্যাক্সিতে পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ এবং পরবর্তীতে রণজিত নাথ নামে এক দিনমজুর বোমায় দ্বগ্ধ হয়ে দুই দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে নিহতের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি আরও বেড়েছে। ১৯ ফেব্রুয়ারির পর থেকে হাটহাজারী উপজেলা পরিষদের এক জনপ্রতিনিধি লাপাত্তা হয়েছেন। ওই জনপ্রতিনিধি হেফাজতে ইসলাম এবং বিএনপির স্থানীয় সমন্বয়ক হিসেবে পরিচিত হয়ে আসছিল। ২০১৩ সালের মার্চে ওই জনপ্রতিনিধির কর্মকা-ের ব্যাপারে স্থানীয় জনগণ বেশ অবগত হলেও বর্তমানে আইনশৃঙ্খলার অবনতির বিষয়ে তাঁর প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ইন্দন রয়েছে বলে বিজ্ঞমহল ধারণা করছেন। এ জনপ্রতিনিধি গত এক সপ্তাহ ধরে লাপাত্তা হওয়ায় জনগণের সন্দেহ আরও প্রকট হয়েছে। বিশেষ করে হাটহাজারী সদর এবং সমগ্র চারিয়া এলাকায় তাঁর আধিপত্য রয়েছে। এ অজুহাতে তিনি ধরাকে সরাজ্ঞান করে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর ব্যাপারে সর্বদা সচেষ্ট থাকেন। উচ্ছৃঙ্খলতা, নাশকতা, পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ, অতর্কিত হামলাসহ আইনশৃঙ্খলা অবনতির যা কিছু রয়েছে তিনি খোদ ইন্ধন দিয়ে হাটহাজারী উপজেলাতে শান্তি ভঙ্গের আলামত সৃষ্টি করার অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ প্রশাসন তার ব্যাপারে অবগত হলেও তাকে গ্রেফতার করা নিয়ে এখনও কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০০৫ ও ২০০৬ সালে র‌্যাব-৭ এর জঙ্গীবিরোধী সেল হাটহাজারী মূলাতলীর পাহাড়, রাঙ্গুনিয়া এবং মিরসরাইয়ের গহীন অরণ্যে জঙ্গী প্রশিক্ষণ ক্যাম্প আবিষ্কার, ২০১১ সালের জুলাইয়ে র‌্যাব-৭ এর একটি বিশেষ টিম রাউজান উপজেলার গোদারপাড়া এলাকায় নিষিদ্ধ হরকাতুল জিহাদের (হুজি) একটি প্রশিক্ষণ ক্যাম্প আবিষ্কার, ১৯ ফেব্রুয়ারি হাটহাজারী সদরের শাহিনা ভবন (অস্থায়ী থানা ভবন) থেকে জঙ্গী গ্রেফতারের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আরও নড়েচড়ে বসে। এ প্রেক্ষিতে র‌্যাব, পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো হাটহাজারী পাহাড়ি এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি করেছে। ভৌগোলিক দিক দিয়ে চট্টগ্রাম সেনানিবাস থেকে উত্তর দিকে যে পাহাড় রয়েছে এর পূর্ব সীমানায় হাটহাজারী এবং ফটিকছড়ি, পশ্চিম সীমানায় সীতাকু- ও মীরসরাইয়ের অবস্থান। এ চার উপজেলার মাঝ বরাবর দীর্ঘ আনুমানিক ৬৫ কিলোমিটার পাহাড় টিলায় নাশকতাকারী ও জঙ্গীরা নিরাপদে আস্তানা স্থাপন করতে পারে। কারণ দুষ্কৃতিকারীরা এ সব পাহাড়ের যে কোন স্থানে আস্তানা নিয়ে উল্লেখিত চার উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নাশকতা করতে পারে। এ সন্দেহ মাথায় রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ওই দীর্ঘ পাহাড়ী এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে বলে জানা গেছে। ৪ ফেব্রুয়ারি হাটহাজারীর চারিয়ায় পেট্রোলবোমায় দগ্ধ রণজিত নাথের মৃত্যুর পর পানিসম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি রণজিতের পরিবারকে এককালীন সাহায্য এবং দুই ছেলের লেখাপড়া খাতে মাসিক এক হাজার টাকা ঘোষণা করায় তাঁর (মন্ত্রী) নির্বাচনী এলাকায় প্রশংসিত হয়েছেন। তিনি হাটহাজারীসহ সব এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, নাশকতা ও জঙ্গী তৎপরতা রোধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশনা দিয়েছেন।

প্রকাশিত : ১০ মার্চ ২০১৫

১০/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



ব্রেকিং নিউজ: