কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

চিঠিগুলোর উৎস কী?

প্রকাশিত : ৩ মার্চ ২০১৫

সারাবিশ্বে এখন আতঙ্কের নাম জঙ্গী তৎপরতা। জঙ্গীদের নৃশংস ভয়াবহতা দেখছে বাংলাদেশের মানুষও। দেশে প্রকাশ্য ও গোপন জঙ্গী সংগঠন রয়েছে ১২৫টি। এদের মধ্যে আত্মঘাতী গ্রুপও রয়েছে কয়েকটি। অনেকেই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত।বেশিরভাগই মাদ্রাসা শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত। দেশের কয়েকটি উৎস থেকে এই জঙ্গীদের অর্থের যোগান আসে। চারদলীয় জোট সরকারের আমলেই মূলত রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এই সংগঠনগুলোর বিস্তার ঘটে। ২০০৯ সালের পর এরা তেমন সুবিধা করতে না পারলেও সাম্প্রতিক সময়ে ২০ দলের নাশকতামূলক রাজনীতির সুযোগে এরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। নানা নামে এরা রাজধানী ঢাকাসহ দেশে নাশকতা চালাচ্ছে। তাদের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে মুক্তমনা প্রগতিশীল মানুষ। তারা টার্গেট করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। চিঠি চালাচালি থেকে শুরু করে তথ্যপ্রযুক্তিকেও তারা নাশকতামূলক কাজে ব্যবহার করে। তাদের চিঠিগুলোর উৎস সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা গেলে জঙ্গীবাদ নির্মূলে সহায়ক হতে পারে।

৮ ফেব্রুয়ারি তামাবিল থেকে সিলেটগামী একটি বাস থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরকদ্রব্য জব্দ করে বিজিবি। সঙ্গে পাওয়া যায় উর্দু ভাষায় লেখা একটি চিঠি। চিঠিটির ভাষান্তর এরকম- ‘মিজান ভাই, সালাম নিবেন। আমি যে জিনিস দিয়েছি দেখতে যদিও সাধারণ, কিন্তু তা বড়ই ধ্বংসাত্মক। যদি কোন জনসভায় ছোড়া হয় তাহলে হাজার মানুষ মরবে। যত বড় স্থাপনা/বিল্ডিং এবং ব্রিজ/সেতু হোক, তার জন্য একটাই যথেষ্ট। বিমান ওঠানামার মুহূর্তে অথবা বিমানবন্দরে নিক্ষেপ করা হলে সবই ধ্বংস হয়ে যাবে।’ এই চিঠিসহ বিধ্বংসী ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) সিলেট সীমান্ত দিয়ে আসে বাংলাদেশে। ওদিকে ২৭ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার রাতে চট্টগ্রামের হালিশহরের একটি বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরকসহ নাশকতার সরঞ্জাম উদ্ধার করে র‌্যাব। জঙ্গীদের ব্যবহৃত এই আস্তানায় পাওয়া যায় বিভিন্ন লিফলেট ও জিহাদী বই। পাওয়া যায় শিবিরের রচিত সংবিধান ও সাংগঠনিক দলিল, ইসলামী ছাত্রী সংস্থার সাংগঠনিক প্রতিবেদনসহ বেশকিছু প্রচারপত্র। কয়েকদিন আগে হাটহাজারী ও বাঁশখালীতে দুটি জঙ্গী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সন্ধান পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই ধরনের প্রতিটি ঘটনায় হামলার নির্দেশনামূলক চিঠিসহ ভিন্ন মতের ওপর নাশকতায় উদ্বুদ্ধ করতে ছক, তালিকা, লিফলেট ও পুস্তিকা পাওয়া যায়। এসব জঙ্গী যে সংগঠনের নামেই গ্রেফতার হোক না কেন তাদের শেকড় একই সূত্রে গাঁথা। প্রশ্ন হচ্ছে- এই চিঠি বা লিফলেটের মূল উৎস কোথায়? এটি পরিচালিত হয় কোথা থেকে?

বিশ্বে বাংলাদেশের পরিচিতি একটি উদার ও অসাম্প্রদায়িক দেশ হিসেবে। হাজার বছরের ঐতিহ্য আর সংস্কৃতি লালন এবং ধারণ করে চলেছে এ দেশের সব ধর্মের, সব বর্ণের মানুষ। কোন গোষ্ঠী বা ব্যক্তিস্বার্থের জন্য জঙ্গী-অপশক্তির দ্বারা এ দেশের এই ভাবমূর্তি নষ্ট হতে পারে না। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে এই বাংলাদেশ। এই পতাকা, এই মানচিত্র, এই সংবিধানের পরতে পরতে লুকিয়ে আছে বিপুল রক্ত ও বেদনাবিধুর স্মৃতি। তাই জঙ্গী অপশক্তির স্থান এ দেশে হতে পারে না, হওয়া উচিত নয়। তাই চিঠিগুলোর উৎস সম্পর্কে তদন্ত করতে হবে, দেশ থেকে জঙ্গীবাদ নির্মূল করতে হবে। এ দেশের মানুষ শান্তিপ্রিয়। কেউ এদের উত্থান চায় না, সমর্থনও করে না। সরকার জঙ্গী উত্থান রোধে আরও কঠোর হবে- এটাই সবার প্রত্যাশা।

প্রকাশিত : ৩ মার্চ ২০১৫

০৩/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: