আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

কে আছো জোয়ান হও আগুয়ান ...

প্রকাশিত : ২ মার্চ ২০১৫
  • শাহীন রেজা নূর

॥ ১ম পর্ব ॥

সংলাপ সংলাপ বলে এক শ্রেণীর টিভি টকার মুখ দিয়ে ফেনা তুলে ফেলছেন। এদের সঙ্গে সারেঙ্গী ও তবলায় সংগৎ দেবার জন্য কিছু বিদেশী মহলকেও বেশ তৎপর হতে দেখা যাচ্ছে। দেশের অগ্রগণ্য আইনবিদ, সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ও বঙ্গবন্ধুর আশীর্বাদধন্য এককালীন আইন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেনসহ বেশ কিছু ‘নাগরিক’ সংলাপের জন্য উদগ্রীব। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিত্বের দাবিদার কিছু নাগরিক ইতোমধ্যেই প্রেসিডেন্টের কাছে পত্র মারফত এ ব্যাপারে ধরনাও দিয়েছেন। অন্যদিকে নিরপেক্ষতার ভানকারী সাবেক উপাচার্য ড. এমাজউদ্দিন আর বিএনপি নেতা ড. মঈন খান তো জাতিসংঘ মহাসচিব বরাবরে সংলাপ অনুষ্ঠানে সরকারকে চাপ প্রয়োগের জন্য আর্জি পেশ করেছেন। তাছাড়া, কিছু কিছু বিদেশী কূটনীতিকের মাধ্যমেও বিএনপি-জামায়াত সংলাপ বিষয়ে এই চাপ প্রয়োগের কৌশল অব্যাহত রেখেছে। সুশীল তো বটেই এমনকি বেশ কিছু পতিত রাজনীতিককেও এ ব্যাপারে জোরদার দাবি উচ্চারণ করতে শোনা যাচ্ছে। ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী উচ্চৈ:স্বরে বলে চলেছেন যে, সঙ্কট নিরসনের একমাত্র উপায় নাকি ‘সংলাপ’। এমনকি কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান খানও একই কথা বলেছেন। অবশ্যই বিএনপি জামায়াতের সংশ্রব ত্যাগ না করলে সংলাপের কোন ফললাভ হবে কিনা সে বিষয়ে তিনি সংশয়ও প্রকাশ করেছেন। ইত্যবসরে বিশিষ্ট নাগরিক পরিচয়ে কিছু সাবেক আমলা, এনজিও নেতা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা প্রমুখ সংলাপের ব্যাপারে জোর তৎপরতা শুরু করেছেন একটি নতুন কমিটি গঠনের মাধ্যমে। কারা এদের নাগরিকদের প্রতিনিধি বানাল নাকি নিজেরাই স্বঘোষিত বিশিষ্ট নাগরিক সেজে তৃতীয় কোন পক্ষের উমেদারি করতে মাঠে নেমেছেন কিনা সেটিও একটি বড় প্রশ্ন। এসব মুখচেনা ও নিরপেক্ষতার ভানকারীরা হয়ত ভুলেই বসে আছে যে এদেশের পোড় খাওয়া ও সংগ্রামী জনগণ এদের বেশ ভাল করেই চেনে! এদের মতলব ও কপটতা সম্পর্কে জনগণ এখন এত বেশি ওয়াকিবহাল যে, এদের প্রত্যেকের প্রতিটি পদক্ষেপই জনমনে সন্দেহ ও ক্ষোভ সঞ্চার করে। মান্না-খোকার টেলিকথোপকথন ফাঁস হয়ে পড়ায় এদের আসল মতলব সম্পর্কে অনেক কিছু খোলাসা হয়ে গেছে।

এরা গণতন্ত্রের জন্য যে ধরনের মায়াকান্না করছে তাতে জনগণ এদের বিএনপির ভাঁড়রূপে চিহ্নিত করছে বৈকি! বদরুদ্দোজা চৌধুরী তার প্রাক্তন দলের মাস্তানদের দ্বারা ধাওয়া খাওয়ার কথা বেমালুম ভুলে গেছেন। জাতির সঙ্কট সন্ধিক্ষণে সত্যের মুখোমুখি হবার মতো মানসিক শক্তি, বুদ্ধিবৃত্তিক সামর্থ্য এবং বিবেকের তাড়না এরা সম্পূর্ণ খুইয়ে ফেলেছেন। তাই বিএনপি-জামায়াত রাজনীতির নামে যে সন্ত্রাসী তা-ব চালাচ্ছে এবং দেশটিকে ধ্বংস করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে তা তাদের দৃষ্টিতে পড়ে না। বিএনপির অপরাজনীতির তাঁবেদার এই সকল সুবিধাভোগী, স্বার্থমগ্ন ও লোভী ব্যক্তি অবরোধ-হরতালের নামে মানুষ হত্যার জঘন্য পৈশাচিকতাকে রাজনীতি হিসেবে জায়েজ করবার জন্য সারাসার মিথ্যার জাল বুনে চলেছেন। ড. কামাল হোসেন, বদরুদ্দোজা চৌধুরীরা খালেদা জিয়াকে এই সন্ত্রাস বন্ধের ব্যাপারে কোন প্রকার চাপ প্রয়োগ না করে সরকারকে সংলাপ আয়োজনের জন্য উল্টো চাপ দেবার কৌশল অবলম্বন করে ফিরছেন। বিএনপি এখন সর্ব অর্থে সন্ত্রাসী সংগঠন। এই সংগঠন এখন ইসলামী জঙ্গীগোষ্ঠীর অন্যতম বাহু এবং জামায়াত কর্তৃক সম্পূর্ণ গ্রাসকৃত বাংলাদেশবিরোধী একটি দল। রাজনীতির মোকাবেলা রাজনৈতিকভাবে করা যায়; কিন্তু সন্ত্রাসের মোকাবেলা করতে কঠোর হস্তে তা দমন ভিন্ন কোন দ্বিতীয় পথ থাকে না। সুতরাং সন্ত্রাসীদের সঙ্গে কিসের সংলাপ?

খালেদা জিয়া এবং তার জামায়াতি উপদেষ্টারা হরতাল-অবরোধের নামে জনগণের বিরুদ্ধে যে ধরনের যুদ্ধ শুরু করেছে চরিত্রগতভাবে এর সঙ্গে একাত্তরে পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসরদের (বিএনপি-জামায়াতের পূর্বসূরী) নৃশংসতার সাদৃশ্য বিদ্যমান। পাক হানাদাররা পোড়ামাটি নীতি অবলম্বন করে অসাম্প্রদায়িক চেতনার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী বা প্রগতিবাদী জনগোষ্ঠী ও সংখ্যালঘু হিন্দু, বৌদ্ধদের নিধনে মেতে উঠেছিল ধর্মের নামে একটি তথাকথিত ‘সাচ্চা মুসলিম-ভূমি’ বানানোর ধান্দায়! কিন্তু এই দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও বহমান অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উজ্জীবিত গণমানুষ তা প্রতিহত করেছে একাত্তরে সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে। পরবর্তীতে নানা চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বলে দাবিদার ব্যক্তি, দল, সংগঠন ও রাজনীতিকদের অনেকের নানা দুর্বলতা এবং আত্মস্বার্থে জাতি ও দেশবিরোধী ভূমিকার কারণে ওই অপশক্তির পক্ষে স্বাধীন বাংলাদেশেও ওই ধান্দা অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়েছে। ইসলামের মতো শান্তি ও ঔদার্যের ধর্মকে নিয়ে ব্যবসার ফাঁদ পেতে পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই’র মদদে বিএনপি-জামায়াত যা করছে তা গণতন্ত্র, মানবতা এবং রাজনীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এরা তো মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে স্বীকার করে না। পাকিস্তান রাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের সশস্ত্র অভ্যুদয়টি ধর্মপ্রাণ মানুষদের মিথ্যা প্রচারণার দ্বারা বিভ্রান্তকারী জামায়াত-বিএনপি কিছুতেই মেনে নিতে পারেনি, পারছেও না। ফলে তাদের সাধের সেই পাকিস্তান রাষ্ট্রের সঙ্গে পুনরায় গাঁটছড়া বেঁধে ‘ইসলাম রক্ষার’ নামে ওরা বাংলাদেশকে আজ ধ্বংস করতে উদ্যত। বিএনপি-জামায়াতপন্থী বুদ্ধিজীবীরা অহোরাত্র যে মিথ্যাচার করে বেড়াচ্ছে তাতে তাদের কেবল জার্মানীতে হিটলার তথা নাৎসিবাদের উত্থানে বুঝে না বুঝে সমর্থন বা প্রশ্রয় দানকারী ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে তুলনা করা চলে। হিটলার কমিউনিজম ঠেকানোর নামে যে প্রতারণাপূর্ণ রাজনীতির আশ্রয় নিয়েছিলেন তাতে বহু বুদ্ধিজীবী সায় দিয়েছিলেন সেদিন। ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী চ্যাম্বারলিনতো মিউনিখ চুক্তি সই করে হিটলারের ইউরোপ দখলাভিযানের পথটি সুগম করে দিয়েছিলেন। নাৎসিদের ভয়ঙ্কর চেহারা যখন স্পষ্ট হয়ে উঠল তখন কিন্তু অনেক দেরি হয়ে গেছে। হিটলার তখন রীতিমতো অপ্রতিরোধ্য এবং নাৎসিদের পৈশাচিকতায় ইউরোপের সব কিছু ল-ভ- হবার যোগাড়। নাৎসিরা কমিউনিস্ট ও ইহুদী নিধনের নামে ইউরোপের দখলিকৃত দেশগুলোতে কী জঘন্য নারকীয়তা সেদিন চালিয়েছিল তা ভাবতে আজও গা শিউরে ওঠে। সেদিন হিটলার কমিউনিজম ঠেকানোর নামে যা করেছিল বাংলাদেশে বিএনপি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে তাই করছে। নির্বাচনের জন্য বিএনপি যে দাবি তুলেছে তা নিছক পানি ঘোলা করার অপচেষ্টা মাত্র। আজকের বাংলাদেশের এক শ্রেণীর তথাকথিত বুদ্ধিজীবী বিএনপি-জামায়াতের লেজুড়বৃত্তি করছে কেবল ব্যক্তি ও গোষ্ঠীস্বার্থে। দেশ রক্ষার পরিবর্তে দেশ ধ্বংসের পাঁয়তারায় এরা লিপ্ত। এদের পেছনে আছে বিদেশী তথা সাম্রাজ্যবাদী অপশক্তি। ওই বিদেশী প্রভুদের কাছে এরা নিজ নিজ আত্মা বন্ধক রেখেছে শুধুমাত্র ব্যক্তি ও গোষ্ঠীস্বার্থ উদ্ধারের আশায়। একদিকে এসব বিদেশী রাষ্ট্রের অর্থানুকূল্যে গড়ে ওঠা বাংলাদেশের এক শ্রেণীর তথাকথিত মানবাধিকার সংস্থা বা বিভিন্ন এনজিও তাদের বিদেশী প্রভুদের মনোবাঞ্ছা পূরণের জন্য বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে তৎপর রয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি-জামায়াত মানুষের জীবন, রুটি-রুজি ও নিরাপত্তার ওপর চরম সন্ত্রাসী আঘাত হেনেছে। উভয়ই ভিন্ন ভিন্নভাবে দেশবিরোধী অপকর্ম ও সন্ত্রাসে লিপ্ত। বিএনপি-জামায়াতের অন্যায় এই হরতাল-অবরোধকে মেনে নিয়ে এসব জাতি ও দেশবিরোধী সন্ত্রাসীর সঙ্গে কোন প্রকার সংলাপে অংশগ্রহণের প্রশ্ন উঠতে পারে না। কিন্তু রাজনীতিক ও ব্যবসায়ী বা বিভিন্ন পেশাজীবীর মধ্য থেকেও কেউ কেউ সংলাপের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন। তারা ওই বদরুদ্দোজা চৌধুরী গংদের মতোই এ ক্ষেত্রে আসলে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়েছেন। অথবা রাজনীতিবিদ হবার সুবাদে অর্জিত নানা সুযোগ-সুবিধা ও বিত্তবৈভবের রক্ষণাবেক্ষণ এদের কাছে এখন অনেক বেশি জরুরী। তাই রাজনীতির উদ্দেশ্য-আদর্শ সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা-অবজ্ঞা করতে এদের এতটুকু বাধছে না। একটি বিষয় তাদের পরিষ্কারভাবে বুঝতে হবে যে, বর্তমানে বিএনপি-জামায়াতের সার্বিক তৎপরতা হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ এবং অসাম্প্রদায়িক প্রগতিবাদী ও মানবিক চিন্তা-চেতনাকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে আমাদের সংস্কৃতি-ইতিহাসকে উৎখাত করা এবং বাংলাদেশকে ‘ধর্মাশ্রয়ী’ উগ্রবাদী দানবদের হাতে তুলে দেয়া। যেসব জঙ্গী সংগঠনের সারথী হয়ে বিএনপি আজ ‘গণতন্ত্র’ ‘গণতন্ত্র’ বলে চিৎকার জুড়ে দিয়েছে তাদের সঙ্গে গণতন্ত্র ও মানবতন্ত্রের কোন সম্পর্ক নেই। বিএনপি নিজেও গণতন্ত্রে বিশ্বাসী কোন দল নয়।

বর্তমানে দেশে যা চলছে তা হাসিনা-খালেদার ব্যক্তিগত কাইজ্যা-ঝগড়া নয়। যদিও সুবিধাবাদী বা ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের জন্য অপেক্ষমাণ তথাকথিত বাটপার সুশীলরা বা ‘বিশিষ্ট নাগরিকরা’ একে দুই নেত্রীর কাইজ্যা হিসেবে চিহ্নিত করতে তৎপর। এ আসলে বাংলাদেশের পক্ষে-বিপক্ষের লড়াই। যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং বাঙালী জাতীয়তাবাদী চেতনায় বিশ্বাসী তাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানবাদী ধর্মব্যবসায়ীদের যুদ্ধ এটি। শেখ হাসিনার সাহস ও বাংলাদেশের সামগ্রিক স্বার্থের প্রতি তাঁর পূর্ণ সমর্থন তাঁকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আস্থাবানদের নেতায় পরিণত করেছে। অন্যদিকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধকারী জামায়াতের সঙ্গে অটুট বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বেগম জিয়া ও তারেক বাংলাদেশবিরোধী নেতা হয়ে উঠেছে। এখানে বাংলাদেশবিরোধী বলতে তারাÑ যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে পরাজিত হয়ে আজ পুনরায় তাদের সাধের পাকিস্তানী প্রতিক্রিয়াশীল চিন্তা-চেতনা-ব্যবস্থা পুনর্প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে।

আমি কিছুতে ভেবে পাই না যে, খালেদা জিয়ার মানুষ পোড়ানোর এই রাজনীতিকে মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল (অব.) ইব্রাহিম (বর্তমানে কল্যাণ পার্টির ব্যানারে দেশ ও জাতির কল্যাণে (!) ব্যস্ত) গংরা সমর্থন দেন কি করে? সুজন নামধারী বদিউল আলম মজুমদাররা গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়ল গোছের স্বঘোষিত বিশিষ্ট নাগরিক সেজে সমাজে জায়গা করে নিয়েছে এক শ্রেণীর স্বাধীনতাবিরোধী কুচক্রী মিডিয়ার কল্যাণে। এসব মিডিয়ায় প্রতিরাতে টকশোতে এসে যারা বিএনপির সন্ত্রাসকে ইনিয়ে-বিনিয়ে রাজনৈতিক আন্দোলন হিসেবে চিত্রিত করে, মানুষ নিধনের এই অপরাজনীতির নিন্দা করে না, বিএনপি নেত্রী ও জামায়াতের জঘন্য এই অপরাধের পক্ষে কূটতর্ক ও কূটচালের মাধ্যমে বক্তব্য রাখে, পত্রিকায় স্বনামে নিবন্ধ ফাঁদেÑ তারা তো দেশবিরোধী কুচক্রী ছাড়া আর কিছু নয়! তথাকথিত প্রশ্নবিদ্ধ সুশীলরা এখন নানা মজা পেয়ে গেছে। বিদেশী প্রভুরা এদের এতসব সুযোগ-সুবিধা দিয়ে লালন-পালন করে যে প্রভুদের পা-চাটা গোলামে পরিণত না হয়ে এদের উপায়ও নেই। এরা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রে পৌঁছাতে চায়, ওই ক্ষমতার ভাগিদার বনতে চায় যাতে করে বিদেশী প্রভুদের স্বার্থ রক্ষায় এরা ভূমিকা রাখতে পারে এবং নিজেরাও রাষ্ট্রের সকল প্রকার সুবিধা অন্যায়ভাবে ভোগ করতে পারে। ঢাবির সাবেক উপাচার্য এমাজউদ্দিন আহমেদের দিকে তাকিয়ে দেখুনÑ একজন স্বনামখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী কিভাবে আত্মবিবেক বন্ধক রেখেছেন গণবিরোধী অপশক্তির কাছে। কোথায় আমাদের শান্তিবাদী অধ্যাপক ইউনূস? দেশে বিএনপি-জামায়াতের এই নৈরাজ্য ও শান্তি বিনাশী তৎপরতায় তিনি বিচলিত নন কেন? তার মুখে কুলুপ আঁটা কেন? শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কার পেলেন, দেশের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য রাজনীতি করতে চাইলেন, অথচ এখন বিএনপি-জামায়াতের মানুষ পোড়ানোর রাজনীতিকে এখন পর্যন্ত তিনি কেন নিন্দা জানান না? এ থেকে কি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে না যে, এই শান্তির পায়রাটিকে কারা, কেন ও কোন্্ প্রয়োজনে তৈরি করেছে এবং তাদের স্বার্থোদ্ধারের জন্য এই ব্যক্তি জোর চেষ্টা করে চলেছেন? আমাদের দেশের অনেক স্বার্থান্বেষী রাজনীতিক, বুদ্ধিজীবী আর একটি বাংলা ও একটি ইংরেজী দৈনিক ক্রান্তিকালে সত্য কথা না বলতে পারা, সত্যের মোকাবিলা করতে না পারা এই নোবেল লরিয়েটকে নিয়ে কিছুকাল আগেও কি-না মাতামাতি করেছে! আওয়ামী লীগ সরকার বিগত আমলে এই তথাকথিত শান্তিবাদী নোবেল পুরস্কার লাভকারী অধ্যাপক ইউনূসের আসল মতলব ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে যখন নানা তথ্যানুসন্ধান করছিল তখন টিভিতে ও পত্রিকায় কিছু মতলববাজ ড. ইউনূসকে ফেরেশতা বানাবার জন্য কি নির্লজ্জ প্রচারণা না করেছিল জনগণকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে! ড. ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকে ফিরে আসার জন্য এমন কোন দেশবিরোধী কাজ নেই যা করেননি সে সময়। জাতিকে বোঝানো হচ্ছিল যে, ইউনূসকে খোঁচা দেয়ার পরিণাম এমন ভয়াবহ হবে যে, সরকার বানের জলের মতো ভেসে যাবে। কিন্তু কিসের কি, ড. ইউনূস এখন লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে গেছেন। সত্য প্রকাশের কোন সৎ সাহস তিনি দেখাতে পারেননি। যে দুটি পত্রিকায় ড. ইউনুসকে নিয়ে এত বাড়াবাড়ি করা হয় তাদের নাড়িও কিন্তু পোঁতা রয়েছে একই জায়গায়। অর্থাৎ ড. ইউনুস, ওই দুই পত্রিকার সম্পাদকদ্বয়, আর ইউনূসবাদী ও বিএনপি-জামায়াতি বুদ্ধিজীবীসহ সুশীলদের সবার নাড়ি পোঁতা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব ও ইউরোপের দেশে দেশে। এরা সবাই ওদের হয়ে এখানে কাজ করে। গণতন্ত্রের জন্য মায়াকান্না কাঁদে, সংলাপের জন্য একদেশদর্শী হয়ে কথা বলে। কয়েক বছর আগেও এদের প্রকৃত চেহারা জনগণের পক্ষে বোঝা খুব দুরূহ ছিল।

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক

প্রকাশিত : ২ মার্চ ২০১৫

০২/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: