কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

মিঠা পানির অভাবে-

প্রকাশিত : ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

মিঠা পানির সঙ্কটে বনের হরিণ লোকালয়ে চলে আসার ঘটনা ঘটতে দেখা যায় সাধারণত তীব্র দাবদাহের সময় চৈত্রের শেষে বা বোশেখের শুরুতে। বিগত কয়েক বছর ওই সময়টাতেই ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মনপুরার বনাঞ্চল থেকে জনপদে হরিণেরা চলে আসে। এবার ফেব্রুয়ারি শেষ না হতেই এমনটা হলো। জনকণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বুধবার লোকালয়ে চলে আসা একমাত্র হরিণটিকে উদ্ধার করে বনপ্রহরীরা জংলার খালসংলগ্ন চর জামশেদে অবমুক্ত করে দেয়। পৃথিবীর জলবায়ু বদলে যাওয়ায় পরিবেশের বিপর্যয় ঘটছে, তাই শীতে আর ঠা-া লাগছে না তেমন, বসন্তু এসেই ফিরে যাচ্ছে। সেকারণেই আগাম দুঃসহ গরমে মিঠা পানির জন্য হরিণের হাহাকার আর অস্বাভাবিক বলে মনে হয় না।

তথ্যানুযায়ী পৃথিবীর প্রায় ১১০ কোটি মানুষ নিরাপদ পানীয় জল পায় না। তাছাড়া ২৬০ কোটি মানুষ নিরাপদ পানির অভাবে মৌলিক স্বাস্থ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত। গত বছর বিশ্ব পানি দিবসে মানব জাতির জন্য ভয়াবহ এ রিপোর্ট প্রকাশ করে জাতিসংঘের পরিবেশ ও উন্নয়নবিষয়ক সেল।

সুপেয় পানির সঙ্কট বিশ্বব্যাপী এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে বলা হচ্ছে, আগামীতে যদি বিশ্বযুদ্ধ বাধে, তাহলে তা পানির জন্যই বাধবে অথচ পৃথিবীর চার ভাগের তিন ভাগই পানি। এর বেশিরভাগই যে পানের অনুপযুক্ত লোনা পানি! বাংলাদেশের মতো জলাভূমি ভরপুর বহুল বৃষ্টিপাতের দেশটিতে প্রাকৃতিকভাবে সুপেয় পানির সঙ্কট থাকার কথা নয়। সমস্যা হয়েছে জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে। সেচ ব্যবস্থায় পাম্প প্রক্রিয়ায় ক্রমাগত মাটির তলদেশে পানি উত্তোলনের কারণে তলদেশের পানির প্রবাহ হ্রাস পাওয়ার কারণে সুপেয় পানি সঙ্কটের সৃষ্টি হয়েছে। দেশের দক্ষিণে রয়েছে বঙ্গোপসাগর, লোনা পানির বিশাল পারাবার। দক্ষিণের মানুষ লোনা পানি থেকে যত দূরে সরে যেতে চেয়েছে, ততই সাগর এগিয়ে এসেছে তাদের দিকে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে জোয়ার বা জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা বাড়ছে। বিশেষ করে ২০০৯ সালে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় আইলায় খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট অঞ্চলের উপকূলীয় বাঁধ ছিন্নভিন্ন হয়ে লোনা পানি ঢুকে যাওয়ার পর ওই এলাকায় সুপেয় পানির তীব্র সঙ্কট সৃষ্টি হয়।

মিঠা পানির পাওয়ার জন্য প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে মানুষ নানা কৌশল বের করেছে। গ্রামের দিকে রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং প্লান্ট, এমএআর প্লান্ট, পিএসএফ প্লান্ট, এসএফপি প্লান্ট, রিভার অসমোসিস প্লান্ট প্রভৃতির মাধ্যমে মিঠা পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। মিঠা পানির প্রাপ্তিতে সম্প্রতি উল্লেখযোগ্য সাফল্য বয়ে এনেছে বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ)। দেশের লবণাক্ত এলাকার মানুষের মিঠা পানির জন্য হাহাকারের অবসান ঘটবে, এমনটা আর দুরাশা নয়। মিঠা পানির সঙ্কটে মনপুরা থেকে লোকালয়ে চলে আসা অনেক হরিণই আর বনে ফিরে যেতে পারেনি। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এবার সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে যাতে বিপন্ন হরিণ মাংসলোভী মানুষের উদরস্থ না হয়। বন্যপ্রাণী সুরক্ষা আইন সবাইকে মেনে চলতে হবে।

প্রকাশিত : ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

২৮/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: