মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বিশ্বব্যাংকের কাছে ৫০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা চেয়েছি ॥ অর্থমন্ত্রী

প্রকাশিত : ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ আগামী ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জন্য বিশ্বব্যাংকের কাছে ৫০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

মঙ্গলবার বিকেলে সচিবালয়ে বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস-প্রেসিডেন্ট এ্যানেট ডিক্সনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রোগ্রাম বাজেট কর্মসূচীর আওতায় এ সহায়তার প্রস্তাব ইতোমধ্যেই বিশ্বব্যাংকের কাছে পাঠানো হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে সহায়তা পাওয়া যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

বৈঠক প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ্যানেট ডিক্সন সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস-প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। এটা তার প্রথম বাংলাদেশ সফর। বৈঠকে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কোন আলোচনা হয়নি।

মন্ত্রী বলেন, বৈঠকে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রকল্প নিয়ে কথা হয়েছে। এর মধ্যে তিন-চারটির চুক্তি ইতোমধ্যে হয়ে গেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যেটি, বাজেট সহায়তা চুক্তি, সেটা এ বছরেই হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের দারিদ্র্য হার কমিয়ে আনা এবং বর্তমান সরকারের আমলে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

এ্যানেট ডিক্সন বলেন, বাংলাদেশের দীর্ঘ ইতিহাস আছে। দারিদ্র্য বিমোচন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমিকা প্রশংসনীয়। বৈঠকে বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে কোন আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা শুধু বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে কথা বলেছি।

চলমান রাজনৈতিক সহিংসতার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, মফস্বলে হত্যাকা- কমলেও রাজধানী ঢাকায় বাড়ছে। মুহিত বলেন, আমার কাছে মনে হয় এটা একটা ওর্থলেস সাবজেক্ট। এটা নিয়ে আলোচনার কিছু নেই। সন্ত্রাসী কর্মকা- চলছে, এখানে রাজনৈতিক কিছু নেই। সুতরাং এটা নিয়ে কারও সঙ্গে আলোচনার কোনো প্রয়োজন নেই। এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে ২০১৮ সাল নাগাদ দেশের দারিদ্র্যসীমার হার ২৪ থেকে ১৪ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে কিনা এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি টিকবে না। আমি নিশ্চিত।

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা জরুরীÑ বিশ্বব্যাংক ॥ বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে হলে বর্তমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনা জরুরী। একই সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদে বৈদেশিক ঋণপ্রবাহ বাড়ানো উচিত বলে মনে মন্তব্য করেছেন বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে দায়িত্বপ্রাপ্ত ভাইস প্রেসিডেন্ট এ্যানেট ডিক্সন। মঙ্গলবার দুপুরে বাংলাদেশ ব্যাংকের কনফারেন্স রুমে বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান। বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর ড. আতিউর রহমান, ডেপুটি গবর্নর এস কে সুর চৌধুরী, বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর জোহানেস জাটসহ বিশ্বব্যাংকের ৬ জন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। এ্যানেট ডিক্সন সাংবাদিকদের জানান, অর্থনৈতিক স্থিতিশিলতা বিষয়ে গবর্নরের সঙ্গে কথা হয়েছে। আরও কথা হয়েছে বেসরকারী খাতের অর্থায়ন প্রসঙ্গেও। এছাড়া সরকারের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে, তারা বলেছেন রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। ফলে তা অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে না। তিনি বলেন, প্রবৃদ্ধির স্বার্থে ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে চলমান পরিস্থিতি থেকে বাংলাদেশকে বের হয়ে আসতে হবে। ব্যবসার পরিবেশ নিশ্চত করতে সরকারকে পরামর্শ দেবে বিশ্বব্যাংক। তিনি বলেন, বেসরকারী খাতের উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়নের সুযোগ বাড়তে বাংলাদেশ ব্যাংকের পদক্ষেপগুলো সহযোগিতা করবে বলে আমি মনে করি।

এক প্রশ্নের উত্তরে এ্যানেট ডিক্সন বলেন, বিশ্বব্যাংকের চলমান প্রকল্পের বিষয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছে। নতুন কোন প্রকল্প নিয়ে কাজ করা যায় কি না সে বিষয়টা খুঁজে দেখছি। এ সময় বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বমূলক কাজের বিষয়গুলো দেখার জন্যও বাংলাদেশে এসেছেন বলে জানান তিনি। বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট আরো জানান, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে মুদ্রানীতি, ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমসহ অন্যান্য কার্যক্রম গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ব্যংক। সব কাজেই বিশ্বব্যাংক সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

প্রকাশিত : ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

২৫/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: