আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

কার্ডিফের পুনরাবৃত্তির অপেক্ষায় টাইগাররা

প্রকাশিত : ২১ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
কার্ডিফের পুনরাবৃত্তির অপেক্ষায় টাইগাররা
  • আজ বাংলাদেশ- অস্ট্রেলিয়া লড়াই

মিথুুন আশরাফ ॥ বিশ্বকাপের ম্যাচ। আজ সকাল সাড়ে ৯টায় ব্রিসবেনের গাব্বায় স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে লড়াই করতে নামবে বাংলাদেশ। অথচ কোন দলই মাঠে অনুশীলন করতে পারল না! ইনডোরে

প্রস্তুতি নিয়েই সুখী হতে হচ্ছে। কিন্তু কেন? ব্রিসবেনের গাব্বায় যে অনবরত বৃষ্টি পড়েই চলেছে। ম্যাচ হবে কি না তারই তো কোন নিশ্চয়তা নেই!

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি হবে কি না, এ নিয়ে শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। ম্যাচ থেকে দু’দলই ১ পয়েন্ট করে পাওয়ার সম্ভাবনাও থাকছে। এরপরও দুই দল প্রস্তুত। যে করেই হোক খেলতে চায়। এরপর ফল যা হবে দেখা যাবে। অস্ট্রেলিয়া তো যে করেই হোক মাঠে নামতে প্রস্তুত। ২ পয়েন্ট যে নিতে হবে।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার নিয়মিত অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক ইনজুরি থেকে পুরোপুরি সেরে না ওঠায় খেলতে পারেননি। বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলবেন এবং দলের নেতৃত্বও দেবেন। ক্লার্ক তো যে করে হোক ম্যাচটি খেলতে চাইছেন। বলেছেনও, ‘আমি শতভাগ প্রস্তত, আত্মবিশ্বাসীও। দলের সাফল্যে (বাংলাদেশের বিপক্ষে জয়ে) ভূমিকা রাখতেও চাই। আবহাওয়া ভাল সংবাদ দিচ্ছে না, তবে আমাদের কুইন্সল্যান্ডের মানুষদের নিয়ে ভাবনা আছে। তাদের জন্য খেলতে চাই। যদি মাঠে নামতে পারি, আমরা এর জন্য (জয়ের) প্রস্তুত।’

ক্লার্কের এমন ভাব, যেন বাংলাদেশ কোন দলই না। যে দলটিতে সাকিব আল হাসানের মতো বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার আছেন, সেই দলকে নিয়ে যেন কোন ভাবনাই নেই ক্লার্কের। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই ১১১ রানের বড় ব্যবধানে জিতে যেন উড়ছে অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশও কি কম বড় জয় পেয়েছে না কি। প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানকে ১০৫ রানে উড়িয়ে দিয়েছে। সেই জয়ের পর বাংলাদেশ ক্রিকেটাররাও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে। তাই তো বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা চাইছেন যে করেই হোক বৃষ্টি যেন দূর হয়ে যায়। পুরো ম্যাচই যেন হয়।

মাশরাফিই যেমন বলেছেন, ‘এক পয়েন্ট নিয়ে ভাবছি না। নেতিবাচক চিন্তা আমাদের নেই। আমরা পুরো ম্যাচ খেলার জন্য প্রস্তুত। ম্যাচ থেকে ওভার কেটে খেলা হোক, তাও চাই না। বৃষ্টি’র জন্য সত্যিই আমরা হতাশ। দুই দলই প্রস্তুতিতে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। আমরা খেলতে চাই।’

বাংলাদেশ যে অঘটন ঘটিয়েও দিতে পারে, সেই ভয় ক্লার্কের মধ্যে না থাকলেও উইকেটরক্ষক ব্রেড হ্যাডিনের মধ্যে ঠিকই আছে। তাই তো হ্যাডিন বলেছেনও, ‘দিনটিতে যারা ভাল করবে, তারাই জিতবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে দিয়েছে আয়ারল্যান্ড। যে কোন কিছু হতে পারে। দলটিতে (বাংলাদেশে) সাকিব আল হাসানের মতো বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার আছে। যে একাই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে।’

বাংলাদেশকে সমীহই করেছেন হ্যাডিন। অথচ ক্লার্ক ‘চাছাছোলা’ কথাই বলেছেন। যে সুর ক্লার্কের কণ্ঠে মানায় না। প্রশ্ন উঠতে পারে, কেন? কার্ডিফে যে ২০০৫ সালে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ, সেই দলের একমাত্র সদস্য ক্লার্কই এখন বর্তমান দলে আছেন। বাংলাদেশ যে তাদের হারিয়ে দেবে না, কে তা বলতে পারে।

ক্লার্কের মতো মাশরাফিও সেই ম্যাচে ছিলেন। বাংলাদেশের বর্তমান দলে সেই ম্যাচের স্মৃতি এখন কেবল মাশরাফিই ধারণ করে চলেছেন। আজ যখন আবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ, তখন নিশ্চয়ই মাশরাফি সেই ম্যাচের স্মৃতিকে অনুপ্রেরণা হিসেবেই নিচ্ছেন। বাংলাদেশ যে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৯ ম্যাচ খেলেছে, এর ১৪টিতেই মাশরাফি খেলেছেন। ১৮ ম্যাচে হারের বিপরীতে একটি ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেছেও। সেই ম্যাচটির পর মাশরাফি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১১ ম্যাচ খেললেও জয়ের দেখা আর মিলেনি। এবার যদি ১০ বছর আগের সেই কার্ডিফ ফিরে আসে ব্রিসবেনে। যদি জয় মিলে যায়। মাশরাফি অবশ্য সেই স্মৃতি নিয়ে বসে থাকতে রাজি নন। বলেছেন, ‘তা এখন অতীত। খেলেই জিততে হবে। যদি নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী ভাল খেলতে পারি, যে কোন দলকেই হারানো সম্ভব।’

ব্রিসবেনে প্রথমবারের মতো আবার খেলবে বাংলাদেশ। নাসির, তাসকিন, মুমিনুল, রুবেল, সৌম্য সরকারদের মতো তরুণ ও মাশরাফি, সাকিব, মুশফিক, তামিম, মাহমুদুল্লাহদের মতো অভিজ্ঞ দল নিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে চায়। সেই এগিয়ে যাওয়াতে বাংলাদেশের সামনে অবশ্য বড় বাধাই অপেক্ষা করছে। ক্লার্ক, ওয়ার্নার, ফিঞ্চ, ওয়াটসন, স্মিথ, ম্যাক্সওয়েল, মার্শ, হ্যাডিনরা হচ্ছেন বিশ্ব ক্রিকেটে অনেক বড় নাম। সেই নামগুলোর সঙ্গে গতির ঝড় তোলা জনসন, স্টার্ক, হ্যাজলউডরা আছেন। বাংলাদেশের জয় পাওয়া যে কঠিন, তা বোঝাই যাচ্ছে। এরপরও হাল ছেড়ে দিতে রাজি নন বাংলাদেশ ক্রিকেটাররা। ম্যাচ খেলতে চান।

সেই ম্যাচ হবে, তারই তো কোন নিশ্চয়তা নেই। দেখা যাবে, কত কথা হচ্ছে, কত প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে, কত ভাবনাই না করা হচ্ছে; কোন কিছুই আর কাজে লাগছে না। বৃষ্টি সব প- করে দেবে। তাতে অবশ্য লাভ বাংলাদেশেরই। বিশ্ব মাতৃভাষা দিবসে ১ পয়েন্ট তো মিলবে। যতই মাশরাফি বলুক, ‘আমরা ১ পয়েন্ট চাই না। পুরো ম্যাচ খেলতে চাই।’ বৃষ্টিতে ম্যাচ প- হয়ে গেলে ১ পয়েন্ট মিললে লাভ বাংলাদেশেরই আসলে হবে। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পথে যা কাজেও দিতে পারে। নিজের লাভ কে না চায়!

প্রকাশিত : ২১ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

২১/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: