কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

কারা নীতিমালা সংশোধন হচ্ছে ॥ বন্দীরা মুঠোফোনে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন

প্রকাশিত : ২৬ জানুয়ারী ২০১৫
  • হাজতিরা ১৫ দিন আর কয়েদিরা ৩ দিন অন্তর একবার কথা বলতে পারবেন

মশিউর রহমান খান ॥ কারাগারে আটক থাকা অবস্থায়ই বাইরে স্বজনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলতে পারবেন বন্দীরা। সন্তান, মা, বাবা কিংবা স্ত্রীর সঙ্গে ভাগ করতে পারবেন তাদের সুখ-দুঃখের কথা। অপর প্রান্তের স্বজনও নিমিষেই জানতে পারবেন আটক স্বজনের সর্বশেষ খবর। আদালতের নির্দেশে আটক ঘোষিত হওয়ার পর কারাগারে নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে বন্দী তার আত্মীয় বা অভিভাবক হিসেবে তার ২ জনের মোবাইল নম্বর প্রদান করতে হবে। আটককালীন ঐ ২ নম্বরেই কেবল মোবাইল ফোনে কথা বলতে পারবেন বন্দী। তবে কারা নিরাপত্তা তথা জননিরাপত্তা বিঘিœত হওয়ার মতো কোন কথা বলা বা যে কোন ধরনের ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করলে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। প্রতি বন্দী ১৫ মিনিট পর্যন্ত কথা বলতে পারবেন। শুধু স্থানীয় নম্বরে ও আটক দেশী বন্দীরা কথা বলার এ সুযোগ পাবেন। তবে বিদেশী বন্দীরা শর্তসাপেক্ষে দূতাবাসের নির্দিষ্ট নম্বরে কথা বলতে পারবেন।

মোবাইল ফোনে কথা বলার মাধ্যমে কারাভ্যন্তরীণ স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে না। বৃদ্ধ বাবা-মাকে তার প্রিয় সন্তানকে একনজর দেখার জন্য অতি দূর থেকে কষ্ট করে দেখা করতে আর কারাফটকে আসতে হবে না। শ্রম ও সময় বাঁচবে বন্দীর আত্মীয়ের। প্রতিমাসের নির্দিষ্ট তারিখে বন্দীর ধরন বুঝে একবার বা কোন কোন ক্ষেত্রে একাধিকবার ফোনে কথা বলার সুযোগ দেয়া হবে। খবরটি অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্যি হতে যাচ্ছে। কারাগারে বসেই মোবাইল ফোনে কথা বলার পদ্ধতি চালু করতে যাচ্ছে কারা কর্তৃপক্ষ। কারাগারকে শুধু শাস্তির স্থান নয় সংশোধনাগার ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতেই কারা কর্তৃপক্ষ এ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, নির্দিষ্ট কয়েক প্রকার বন্দী ছাড়া সারাদেশে আটক প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ হাজার বন্দী কথা বলার সুযোগ পাবেন। এ লক্ষ্যে কারা কতৃপক্ষ ‘কারাগারে মোবাইল ফোন বুথ নির্মাণ ও পরিচালনা’ নামে একটি নীতিমালা তৈরি করেছে। প্রস্তাবিত নীতিমালাটি অনুমোদনের জন্য ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। নীতিমালাটি অনুমোদনের পর কারা কর্তৃপক্ষ মোবাইল ফোনে কথা বলার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সরকারের নীতি অনুযায়ী ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের অংশ হিসেবে ও তথ্যপ্রযুক্তি সেবা দেশের সাধারণ মানুষের ন্যায় কারাভ্যন্তরে বন্দী নাগরিকদের হাতের নাগালে সহজলভ্য করাই এর অন্যতম লক্ষ্য। কারাগারে থাকা অবস্থায় বন্দীর মাঝে হতাশা ও বিষাদগ্রস্ততা তৈরি হয়। এতে অনেকেই আত্মহত্যা করতে চায় বা পলায়ন প্রবণতার দিকে ঝুঁকে পড়ে। সেই বিষাদগ্রস্ততা দূর করে বন্দীদের মাঝে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য স্বজনের সঙ্গে নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর কথা বলতে পারলে তা দূর হতে পারে চিন্তা করে এ উদ্যোগ হাতে নেয়া হয়েছে।

মোবাইল ফোনে বন্দীর সঙ্গে তার আত্মীয়ের কথা বলা সম্পর্কে প্রস্তাবে বলা হয়েছে, একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় ও কারাগারের যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কারাগারে আটক বন্দীর সঙ্গে তাদের স্বজনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ তথা কথা বলার সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে কারাগারে মোবাইল ফোন বুথ স্থাপনের কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত নীতিমালায় যা রয়েছে ॥ কারাগারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নীতিমালায় বলা হয়েছে, আদালত কর্তৃক বা সরকার ঘোষিত কোন শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং অপহরণ ও চাঁদাবাজি মামলায় অভিযুক্ত কোন ব্যক্তি মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুযোগ পাবেন না। একজন বন্দী সর্বোচ্চ ১৫ মিনিট কথা বলতে পারবেন। মোবাইল ফোনে বলা সকল কথা রেকর্ড করা হবে। সকল ভয়েস কলের মূল্য স্বাভাবিক কলের ন্যায় হবে। রেকর্ডকৃত ভয়েস ডাটা পরবর্তী ১ মাস কারা কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করবে। তবে কারিগরি ত্রুটি বা যে কোন কারণে কথা রেকর্ড করতে সমস্যার সৃষ্টি হলে এ সেবা প্রদান কার্যক্রম বন্ধ রাখা হবে। কথা বলার সময় কোন বন্দী অবোধগম্য বা সাংকেতিক ভাষায় কথা বলবে না, সকল কলের রেজিস্টার সংগ্রহ করবে কারা কর্তৃপক্ষ। যে ফোনে বন্দী কথা বলবে সেই ফোনে শুধু আউটগোয়িং সুবিধা থাকবে সকল প্রকার ইনকামিং সুবিধা ব্লক করা থাকবে। এছাড়া ফোন কল ছাড়া এসএমএম, ইন্টারনেট ডাটা ব্যবহারসহ অন্যান্য সুবিধা বহাল থাকবে। ফলে কোন লোক এ ফোনে কল করতে বা মেসেজ পাঠাতে পারবে না।

কারা নিরাপত্তা রক্ষায় ডিউটি অফিসার বা জেলার, সুপার কর্তৃক সিস্টেমের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে যে কোন বন্দীর লাইভ কল বা সরাসরি কথোপকথন যে কোন সময় বুথ নম্বর ভিত্তিক শোনা ও প্রয়োজনে কল বাতিল করতে পারবেন। ফলে সন্দেহজনক যে কোন কথা বা সংকেত পাওয়ামাত্রই কথা বলা বন্ধ করা সহজ হবে। মোবাইল ফোনে কথা বলার আগেই এই ফোনটি যে কারাগার থেকে করা হয়েছে অপর প্রান্তের ব্যক্তি তা বুঝতে কারা সংশ্লিষ্ট ভয়েস মেসেজ আকারে ব্যাকগ্রাউন্ড সংযোজন করা হবে এবং সকল কথা যে রেকর্ড ও মনিটর করা হচ্ছে তা বলা হবে। কোন বিদেশী বা অস্বাভাবিক নম্বরে কথা বলা যাবে না। এজন্য শুধু দেশী নম্বরে কথা বলতে পারবেন। তবে বিদেশী বন্দীদের ক্ষেত্রে অনুমতি সাপেক্ষে শুধু নির্দিষ্ট দূতাবাসে ফোন করতে পারবেন। প্রতিটি বন্দীকে মোবাইল ফোনে কথা বলার জন্য কারাগার কর্তৃপক্ষ তাকে ২ টি পিন নম্বর সরবরাহ করবে। যা ব্যবহার করেই বন্দীর কেবল ফোন করা সম্ভব হবে। পিন নম্বর হারিয়ে গেলে কোনক্রমেই কথা বলা সম্ভব হবে না। একজন কারাগারে প্রবেশের পর পর প্রদের দুটি নম্বরের লোকের সঙ্গে তার সম্পর্কের ধরন কি তা উল্লেখ করতে হবে। পাশাপাশি উক্ত ব্যক্তির সঙ্গে বন্দী কথা বলতে চাইলে তার কোন আপত্তি নেই এ মর্মে তাদের কাছ থেকে প্রত্যয়ন এনে কারা কর্তৃপক্ষকে জমা দিতে হবে। এর পরই কেবল মোবাইল ফোনে কথা বলতে পারবেন বন্দী।

উল্লেখ্য, বন্দী প্রদত্ত দুটি নম্বর প্রতি ৬ মাস অন্তর কারা কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদনের মাধ্যমে পরিবর্তনের সুযোগ পাবেন। ফিক্সড ডায়ালিং নম্বর সুবিধা ব্যবহার করে ওই টেলিফোন সেটের মাধ্যমে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট নম্বরে কল করার ব্যবস্থা করা হবে। ফলে ফোন থেকে কারাগারের তালিকাভুক্ত নম্বর ছাড়া অন্য কোন নম্বরে কল করা সম্ভব হবে না। নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে মোবাইল ফোন অপারেটর কোম্পানি কর্তৃক ওই মোবাইল সেটে কল ফরওয়ার্ডিং, কনফারেন্স কল বা থ্রিওয়ে কল সুবিধা ব্লক করে দেয়া থাকবে। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কোন বন্দী গণমাধ্যমে সাক্ষাতকার প্রদান করতে পারবে না। এমনকি কোন গণমাধ্যম এ সাক্ষাতকার প্রচার করাও জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা অনুযায়ী নিষিদ্ধ থাকবে। মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় এমন কোন কথা বলা যাবে না যাতে কারাগার তথা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিঘœ ঘটে। এক্ষেত্রে কোন প্রকার তথ্য আদান-প্রদান করলে আটক বন্দী ও অপর প্রান্তে অবস্থানরত ব্যক্তি তার বা উভয়ের সহযোগী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কারা কর্তৃপক্ষ ফৌজদারি আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

কিভাবে ফোন বুথ গঠন ও স্থাপন করা হবে ॥ ফোন বুথ গঠন ও স্থাপন সম্পর্কে নীতিমালায় বলা হয়েছে, সাক্ষাত কক্ষের মতো ৩ দিক সাদা গ্লাসযুক্ত একটি স্বচ্ছ ফাইবার কাঁচের ঘর বুথ হিসেবে ব্যবহার করা হবে। এতে কারাগার বুঝে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বুথ তৈরি করা হবে। মোবাইল ফোন ব্যবহারের পরিবর্তে সিমকার্ড সুবিধাযুক্ত ফিক্সড ল্যান্ডফোন ব্যবহার করা হবে। প্রতি ৫০০ বন্দীর জন্য একটি বুথ তৈরি করা হবে। পুরুষ ও মহিলা বন্দীর জন্য কথা বলার পৃথক কক্ষ বা বুথ থাকবে। সকাল নয়টা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত কথা বলার সুযোগ পাবেন তবে মধ্যাহ্ন বিরতির জন্য দুপুর বারোটা থেকে একটা পর্যন্ত কথা বলা বন্ধ থাকবে। বিশেষ দিবসে বা অন্য কোন প্রয়োজনবোধে সিনিয়র জেল সুপার বা জেল সুপার পূর্বানুমতি সাপেক্ষে এ সময়ের হ্্রাস বা বৃদ্ধি করতে পারবেন। কোন বিশেষ কারণে এ সুবিধা বন্ধ থাকলে তা কারা কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই জানিয়ে দেবে।

মোবাইল ফোনে কথা বলতে হলে প্রতিটি বন্দীকে একদিন আগে থেকেই কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দিতে হবে এবং সেজন্য সিরিয়াল নেবেন। তবে ওই বন্দীর কথা বলতে চাইলে তার প্রিজনার্স ক্যাশ অর্থাৎ পিসিতে প্রয়োজনীয় অর্থ থাকতে হবে। অন্যথায় ফোন করতে পারবেন না। সার্বিক বিবেচনায় বন্দীকে একটি নির্ধারিত তারিখ, সময় ও বুথ নম্বর কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেবেন। প্রতি বন্দী ২ টি নম্বরে সর্বসাকুল্যে ১৫ মিনিট কথা বলতে পারবেন। এজন্য ওই বন্দী দায়িত্বরত ব্যক্তিকে কোন্ ফোন নম্বরে কত মিনিট কথা বলবেন তা জানিয়ে দেবেন। তবে একজন হাজতি বন্দীর ক্ষেত্রে ১৫ দিন পর পর এবং সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি বন্দীর ক্ষেত্রে প্রতি একমাসে একবার কথা বলার সুযোগ পাবেন। নিকট আত্মীয়ের মৃত্যু বা গুরুতর অসুস্থতা ইত্যাদি যুক্তিসঙ্গত কারণে বন্দীর লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে বর্ণিত নিয়মের বাইরেও জেল সুপার বা জেলার কথা বলার সুযোগ দিতে পারবেন। কল রেজিস্টারে সকল তথ্য লেখা থাকবে যেখানে বন্দী ও অপারেটর উভয়ের স্বাক্ষর থাকবে। ওই মোবাইল ফোনের যদি কোন প্রকার অপব্যবহার করা হয় সেজন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা কর্মচারী দায়ী থাকবেন।

বন্দীদের প্রতি দেয়া নির্দেশাবলী সম্পর্কে বলা হয়েছে, পূর্ব নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে বন্দী যদি কথা বলতে না চান তাহলে কারা কর্তৃপক্ষকে আগে থেকেই জানাতে হবে। পরবর্তী সময়ে তিনি কথা বলতে পারবেন। নির্দিষ্ট ব্যক্তি নির্দিষ্ট সময়ে কথা বলতে না পারলে ঐ দিন সময় থাকা সাপেক্ষে সবার কথা বলা শেষ হলে ইচ্ছে হলে তিনি কথা বলতে পারবেন। ফোন করার সময় কোন ব্যক্তি চিৎকার করা, বা উচ্চৈস্বরে কথা বলা, কাউকে হুমকি দেয়া বা ভীতি প্রদর্শন করা, গালিগালাজ বা অশালীন ভাষা ব্যবহার করতে পারবেন না। কোন বিদেশী বন্দী যৌক্তিক কারণে শুধু দূতাবাস বা কনস্যুলেটে কথা বলতে পারবেন। একজন বন্দী কারাগারে আগমনের পর যত দ্রুত সম্ভব তার পরিচিত ২ ব্যক্তির নাম ও নম্বর প্রদান করবেন। কারা কর্তৃপক্ষকে কথা বলার বুথে সকল কথা রেকর্ড করা হচ্ছে তা বড় আকারে লিখে এবং মোবাইল ফোনে কথা বলার নীতিমালা বুথে দৃশ্যমান আকারে সাঁটিয়ে দিতে হবে, যাতে কেউ নিয়ম ভঙ্গ না করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন বলেন, ‘রাখিব নিরাপদ দেখাবো আলোর পথ’ এ ভিশন সামনে নিয়ে চলা কারা কর্তৃপক্ষ কারাগারকে সংশোধনাগার হিসেবে প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট। বর্তমানে জনকল্যাণে ও জনস্বার্থে কারাগারকে পরিচালনা করা হচ্ছে। কারা বিভাগের কার্যক্রম সহজীকরণের লক্ষ্যে এরই অংশ হিসেবে সরকার বন্দীদের মোবাইল ফোনে কথা বলার সুযোগ প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নিরাপত্তার বিষয়টি প্রাধান্য দিয়ে সারাদেশের সকল কারা কর্মকর্তার সঙ্গে পরামর্শ ও যাচাই-বাছাই শেষে একটি নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে, যা প্রস্তাব আকারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কারাবন্দীদের কারাগারে কথা বলার সুযোগ প্রদান করা হলেও এ ব্যবস্থা চালু করা গেলে বাংলাদেশে হবে এটিই প্রথম উদ্যোগ। কারা মহাপরিদর্শক বলেন, কারাগারকে সংশোধনাগারে পরিণত করার পূর্বশর্ত হলো বন্দীদের মাঝে হতাশা এবং মানসিক অশান্তি দূর করা। এ লক্ষ্যে কারাগারের যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কারাবন্দীদের সঙ্গে তার স্বজনের কথা বলা বা নিয়মিত যোগাযোগ করানোই এর মূল উদ্দেশ্য। প্রস্তাব অনুযায়ী প্রতিটি বন্দীর কথা রেকর্ড করা হবে। প্রতি বন্দী তার দেয়া ২ টি নম্বরে সর্বোচ্চ ১৫ মিনিট পর্যন্ত কথা বলতে পারবেন। যার অর্থ তার প্রিজনার্স ক্যাশে (পিসি) থাকতে হবে। হাজতির ক্ষেত্রে ১৫ দিন ও কয়েদিদের ক্ষেত্রে ৩০ দিন পরপর কথা বলার সুযোগ দেয়া হবে। এতে করে বন্দীদের মাঝে হতাশা ও বিষাদগ্রস্ততা দূর হবে এবং বন্দীদের দর্শনার্থী সংখ্যা কমবে যার কারণে কারাগারে শৃঙ্খলায় ফিরে আসবে। তবে বন্দী কারা নিরাপত্তা তথা জননিরাপত্তা বিঘিœত হওয়ার মতো কোন কথা বলা বা যে কোন ধরনের ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করলে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। ফলে তার ও অপর প্রান্তের লোকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কারাগারকে শুধু শাস্তির স্থান নয় সংশোধনাগার ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতেই কারা কর্তৃপক্ষ এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তৈরি প্রস্তাবিত নীতিমালাটি চূড়ান্ত হলে আশা করি, কারাগারের বন্দীদের জীবনমান বর্তমানের চেয়ে আরও উন্নত হবে।

প্রকাশিত : ২৬ জানুয়ারী ২০১৫

২৬/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: