মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

শান্তি চাইলে জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতা দিন ॥ এরশাদ

প্রকাশিত : ২৫ জানুয়ারী ২০১৫
  • জ্বালাও পোড়াও হত্যার প্রতিবাদে মঙ্গলবার প্রতীকী গণঅনশন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, দেশে এখন অসুস্থ রাজনীতি চলছে। আমরা সবাই অসুস্থ। আমাদের চিকিৎসা প্রয়োজন। শনিবার বিকেলে রাজধানীর ভাটারাবাজারে আয়োজিত এক শান্তি সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। চলমান রাজনৈতিক সহিংসতা ও অগ্নিসংযোগ বন্ধের দাবিতে এই সমাবেশ আয়োজন করে ঢাকা মহানগর (উত্তর) জাতীয় পার্টি। এদিকে জ্বালাও, পোড়াও ও মানুষ হত্যার প্রতিবাদে মঙ্গলবার দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বেলা ১১-৪টা পর্যন্ত প্রতিকী গণঅনশন করবেন এরশাদ। সমাবেশে এরশাদ বলেন, আমরা মানুষকে ভালবাসতে ভুলে গেছি। সবাই হিংস্র হয়ে গেছি। মানবতা ভুলে গেছি। তা হতে পারে না। চলতে দেয়া যায় না। আমাদের সংবিধানে বলা আছে, সমস্ত ক্ষমতার মালিক জনগণ। কিন্তু আমরা সব ভুলে গেছি। আমরা নিজেকে মনে করি, দেশের মালিক। সব সম্পদ আমাদের। দেশের মানুষ আমাদের প্রজা।

তিনি বলেন, দেশের মালিককে আমরা পুড়িয়ে মারছি। গণতন্ত্র হয় একদিনের জন্য। তা হচ্ছে ভোটের দিন। ভোট শেষ, গণতন্ত্র শেষ। আমরা সব ভুলে যাই। নির্বাচনী ইশতেহারের কথা উল্লেখ করে এরশাদ বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে অনেক ভাল কথা লেখা থাকে। কিন্তু জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন হয় না। প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নও হয় না। এরশাদ বলেন, শনিবার সকল রেজিস্টার্ড রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি দিয়ে এলাম। বন্যা, সাইক্লোনের দুর্যোগে দেশ নয়, দেশ আজ ভয়াবহ রাজনৈতিক দুর্যোগে। আসুন আমরা সবাই এক টেবিলে বসি। তিনি বলেন, সরকার জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেয়ার শপথ নেয়। কিন্তু, কতজন মারা যাচ্ছে! বড় বড় বক্তব্য দিচ্ছে তারা। তারা লজ্জাবোধ করছে না। মানুষের নাভিশ্বাস উঠে গেছে। সবার একটাই কথা, সামনের দিকে কী হবে? এরশাদ বলেন, সরকার জনগণের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। যদি শান্তি চান তাহলে জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতা দিন। সঙ্কট সমাধানে সব দলকে এক টেবিলে বসার আহ্বান জানিয়ে এরশাদ বলেন, আসুন, আলাপ-আলোচনা করি। আগামী দিনে কীভাবে রাজনীতি চলবে, তা নির্ধারণ করি। আমরা শান্তি চাই, সন্ত্রাস চাই না। আমরা বাঁচতে চাই, মরতে চাই না। তিনি বলেন, আসুন, প্রতিরোধ গড়ে তুলি। মানুষ এগিয়ে এলে পেট্রোলবোমা বন্ধ হবে বলে মন্তব্য করেন এরশাদ। জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। মানুষ এখন ঘর থেকে বের হতে পারছে না। তিনি বলেন, প্রতিদিন আগুন দিয়ে মানুষ মারা হচ্ছে। আমরা আগুন চাই না। পেট্রোলবোমা চাই না। সরকার এই অরাজকতা ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে। এই ব্যর্থতার দায় সরকারকে নিতে হবে। তিনি বলেন, একদিকে ব্যর্থ সরকার, অন্যদিকে ব্যর্থ ২০ দলীয় জোট। আমরা এই দুই ব্যর্থতা থেকে মুক্তি চাই। মানুষ মুক্তি চায় ব্যর্থ সরকারের হাত থেকে। মানুষ মুক্তি চায় ২০ দলের হাত থেকে।

প্রেসিডিয়াম সদস্য এম এ হান্নান, এমপি বলেন, যারা ক্ষমতার মসনদের জন্য মানুষ পুড়িয়ে মারছেন, বাংলার মানুষ তাদের স্বপ্ন পূরণ হতে দেবে না। সরকারকে বলি, আপনারা যদি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন, তাহলে এরশাদের সহায়তা নিন। মহানগর (উত্তর) জাতীয় পার্টির সভাপতি এসএম ফয়সল চিশতীর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- প্রেসিডিয়াম সদস্য এরশাদের রাজনৈতিক সচিব সুনীল শুভরায়, যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, মহানগর (উত্তর) জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন বাবুল, জাতীয় ছাত্রসমাজের সভাপতি সৈয়দ ইফতেখার আহসান হাসান। এদিকে রাজনৈতিক সহিংসতা, জ্বালাও-পোড়াও, দমন-নিপীড়ন বন্ধের দাবিতে দুই দফা শান্তি সমাবেশ করার পর এবার অনশনে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

প্রকাশিত : ২৫ জানুয়ারী ২০১৫

২৫/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: