আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

শিশুকন্যা আর মায়ের চিন্তায় আরও বেশি কাতর দগ্ধ টিটেন

প্রকাশিত : ২৪ জানুয়ারী ২০১৫

সমুদ্র হক ॥ অগ্নিদগ্ধ হওয়া ট্রাকচালক টিটেন মিয়া (৪১) হাসপাতালের বেডে যত না কাতরাচ্ছে নিজের জন্য তার চেয়ে বেশি চাপা আর্তনাদে আকুলি বিকুলি করছে মা ও ৫ বছরের মেয়ে আঁখির জন্য। চিকিৎসক কাছে গেলেই বলছে ‘ডাক্তার সাহেব আমার কথা শুনে মা যে কষ্ট পাচ্ছে তার চেয়ে বেশি কষ্ট আমাকে দেন। আমার মা যেন স্বস্তি পায়। আমার ছোট্ট মেয়ে আঁখি যেন আমার কথা না শোনে, আমার এই চেহারা না দেখে। অবুঝ মেয়ে, ভয় পাবে।’ টিটেন মিয়ার এই কথা শুনে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের ডাক্তার নার্স চোখের জল ধরে রাখতে পারছেন না। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কামাল পাশা নির্দেশ দিয়েছেন, বার্ন ইনজুরিদের সর্বক্ষণিক নিবিড় পরিচর্যার জন্য। কারণ অগ্নিদগ্ধদের দেহের বেশিরভাগ পুড়ে গেলে তার বাঁচার আশা কম থাকে। টিটেন মিয়ার এই আর্তনাদ মায়ের মনে পৌঁছলেও অবরোধের কারণে ছেলেকে দেখার জন্য বগুড়া যেতে পারছেন না। বৃহস্পতিবার রাতে বগুড়ার নিশিন্দারা এলাকায় আসবাবপত্রবাহী একটি ট্রাকে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ ও অগ্নি সংযোগে যে তিন ব্যক্তি অগ্নিদগ্ধ হয় তাদের মধ্যে হেলপার আবদুর রহিমকে (৪০) ঢাকায় পাঠানোর পর শুক্রবার সকালে সে মারা যায়। তার বাড়ি সাতক্ষীরা, এমনটি জানিয়েছেন চিকিৎসক। এর বেশি আর কিছু জানাতে পারেননি। এই ট্রাকেরই চালক ছিলেন টিটেন মিয়া। তার বাড়ি পিরোজপুর জেলার কাউখালী গ্রামে। স্ত্রী ও এক মেয়ে নিয়ে সংসার। যৌবনেই ভারি যানবাহন চালানো শিখে সে এখন ট্রাক চালক। দিন কয়েক আগে ট্রাক নিয়ে সে বগুড়া যায়। ফেরার পথে কনট্রাক্ট পায় নড়াইলের একটি মেলায় ফার্নিচার পরিবহনের। এই সময়টায় দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় বাঙালী সংস্কৃতির ঐতিহ্যের মেলা শুরু হয়েছে। যা চলবে বর্ষার আগে পর্যন্ত। ঐতিহ্যের এইসব মেলায় বড় আকর্ষণ আসবাবপত্র। দেশের বিভিন্ন এলাকার কাঠ শিল্পীরা (কাঠ মিস্ত্রি) নানা ধরনের আসবাবপত্র বানিয়ে রাখে মেলার জন্য। বগুড়ার নুনগোলা এলাকার কাঠ শিল্পীরাও আসবাবপত্র বানিয়ে রেখেছে।

শিবগঞ্জের ব্যবসায়ী সাজু মিয়া বৃহস্পতিবার বিকেলে বগুড়া নামুজার নুনগোলা থেকে টিটেন মিয়ার ট্রাকে আসবাবপত্র তুলে দক্ষিণাঞ্চলের নড়াইলের উদ্দেশে রওনা হয়। ট্রাকে থাকে চালক টিটেন মিয়া, হেলপার আবদুর রহিম ও ব্যবসায়ী সাজু। রাত ৮টার দিকে নিশিন্দারা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে দুর্বৃত্তরা কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ট্রাকের গতিরোধ করেই পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে আগুন ধরিয়ে দেয়। সঙ্গে সঙ্গেই ঝলসে যায় ওই তিনজন। ফায়ার সার্ভিস গিয়ে আগুন নিভিয়ে তাদের শজিমেক হাসপাতালে পাঠায়। অবস্থার অবনতি হলে রাতেই দুইজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়। এদের একজন মারা যায়। সাজু মিয়ার অবস্থাও আশঙ্কাজনক। তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তবে স্বজনরা অবরোধের কারণে ঢাকা যেতে পারছে না। এই ঘটনায় মামলা দায়ের হলে পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতেই নুনগোলা ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মুরাদুজ্জামান, ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি রানা ও ইউনিয়ন বিএনপির সেক্রেটারি আতিকুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে। বগুড়ায় এ পর্যন্ত অন্তত দশটি ট্রাকে পেট্রোলবোমা নিক্ষেপে আগুন দেয়া হয়েছে। জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে পেট্রোলবোমায় দগ্ধ আরও এক চালক ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।

প্রকাশিত : ২৪ জানুয়ারী ২০১৫

২৪/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: