কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

নবায়নযোগ্য শক্তি থেকে বিদ্যুত উৎপাদনের গবেষণা শুরু হচ্ছে

প্রকাশিত : ১৪ জানুয়ারী ২০১৫
  • ইউএনডিপির সহায়তায় কার্যক্রম চলবে

রশিদ মামুন ॥ টেকসই নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিদ্যুত উৎপাদনে গবেষণা কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে বিদ্যুত বিভাগ। চলতি মাস থেকে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচীর (ইউএনডিপি) সহায়তায় বিদ্যুত বিভাগ এই কাজ শুরু করতে যাচ্ছে। দেশে সৌর শক্তি দিয়ে গ্রিডভুক্ত বিদ্যুত উৎপাদনের প্রচেষ্টা দীর্ঘদিনের হলেও এর সফলতা শূন্য। অন্যদিকে সোলার হোম সিস্টেম স্থাপনে বাংলাদেশ সারাবিশ্বে রেকর্ড করেছে। কিন্তু নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে গ্রিড সংযুক্ত বিদ্যুত কেন্দ্র কেন ব্যর্থ হচ্ছে সে বিষয়ে স্পষ্ট কোন ধারণা নেই কারও কাছে। বিদ্যুত বিভাগ বলছে এ ধরনের গবেষণায় দেশে নবায়নযোগ্য শক্তি থেকে বিদ্যুত উৎপাদনের সকল খুঁটিনাটি দিক বিশ্লেষণ করা হবে। বোঝা যাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে কিভাবে প্রকল্প গ্রহণ করলে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

বিদ্যুত বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, সৌর শক্তি দিয়ে ইতোমধ্যে যেসব গ্রিডভুক্ত বিদ্যুত উৎপাদন প্রকল্প করার জন্য চুক্তি করা হয়েছে তার একটিও সফল হয়নি। সরকার দরপত্র আহ্বান করেছে চুক্তি করেছে কিন্তু ওই সব প্রকল্পের কাজ আর শুরু হয়নি। কেন এসব প্রকল্প আলোর মুখ দেখছে না তা নিয়ে নানা আলোচনা হলেও এর উপযুক্ত কারণ নির্ধারণ হয়নি। ফলে ব্যর্থতার জায়গা চিহ্নিত করে নতুন করে কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। এসব বিষয়কে মাথার রেখেই ‘সাসটেনেবল রিনিউবল এনার্জি পাওয়ার জেনারেশন’ গবেষণার কাজ হাতে নেয়া হয়েছে।

প্রকল্পর আওতায় বায়োম্যাস বায়োগ্যাস ম্যাপিং, টেকসই নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুত উৎপাদন, তা গ্রিডে সংযুক্ত করতে হলে কোন ধরনের প্রযুক্তি প্রয়োজন, এ ধরনের জ্বালানি থেকে বিদ্যুত উৎপাদনের খরচ নির্ধারণ, সরকারের জন্য বিদ্যুত ক্রয় পক্রিয়া নির্বাচন, টেকসই নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে শক্তিশালী করা, কক্সবাজার এলাকায় অতিদরিদ্র মানুষের মধ্যে সোলার হোম সিস্টেম সম্প্রসারণ ছাড়াও পাইলট প্রকল্পর আওতায় দু’তিনটি ছোট ছোট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। যা দেখে বিনিয়োগকারীরা এ বিষয়ে ধরনা নিতে পারেন।

বিদ্যুত বিভাগ সূত্র জানায়, এখন দেশের বিনিয়োগকারীদেরও এ ধরনের বিদ্যুত প্রকল্প করার ক্ষেত্রে তেমন কোন ধারণা নেই। তাঁরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে অনুমান নির্ভর প্রকল্প প্রস্তাব দিয়ে থাকে। কিন্তু যখন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে যায় তখন সমস্যায় পড়তে হয়।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয় উপমহাদেশের সব থেকে বড় সোলার প্রকল্প হবে বাংলাদেশে। ময়মনসিংহের ফুলপুরের সৌরশক্তি চালিত ১৮ মেগাওয়াটের বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণের জন্য একটি বেসরকারী কোম্পানির সঙ্গে ২০১১ ডিসেম্বরে চুক্তি করে পিডিবি। পরে ওই প্রকল্পটির আর হদিস পাওয়া যায়নি। জামালপুরের ফুলপুরে তিন মেগাওয়াটের একটি সৌরবিদ্যুত প্যানেল স্থাপনের জন্য সম্প্রতি চুক্তি হয়েছে জার্মানির আইএফই (এরিকসেন) এবং বাংলাদেশের কনকর্ড প্রগতি কনসোর্টিয়াম (সিপিসি) ও জুপিটার এনার্জি লিমিটেড (জেইএল)-এর যৌথ কনসোর্টিয়াম। সরকার এখন পর্যন্ত কুড়িগ্রামের ধরলার পাশে সব থেকে বড় সোলার পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। পার্কটি থেকে ৩০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুত পাওয়া যাবে। প্রকল্পটির ভূমি অধিগ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয় কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসককে। আর সেখানেই জটিলতা শুরু হয়। বাস্তবায়ন করতে যাওয়া সকল প্রকল্পই নানা জটিলতায় আটকে যাচ্ছে।

অথচ সোলার হোম সিস্টেমের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সারাবিশ্বে রেকর্ড স্থাপন করেছে। বিদ্যুতের আলো পৌঁছায়নি এমন সব জায়গাতে সাধারণ মানুষ সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন করছে। সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে ২০১৭ সালের মধ্যে দেশে ৬০ লাখ সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন করা হবে। এখন যা ৩০ লাখ রয়েছে। কিন্তু হোম সিস্টেমের এই সাফল্যর কাছে পৌঁছাতে পারছে না বড় নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিদ্যুত উন্নয়ন প্রকল্প।

সরকারের মহাপরিকল্পনায় ২০১৫ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুত উৎপাদনের পাঁচ শতাংশ এবং ২০২০ সালের মধ্যে যা বৃদ্ধি করে ১০ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে। এই হিসেবে ২০১৫ সাল নাগাদ ৮০০ মেগাওয়াট এবং ২০২০ সালের মধ্যে দুই হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুত উৎপাদন হওয়ার কথা। যদিও সরকার দাবি করছে সোলার হোম সিস্টেম থেকে এখন দেশে ১৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুত পাওয়া যাচ্ছে। এখন চলতি বছরের লক্ষ্য স্পর্শ করতে হলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে আরও ৬৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদন প্রয়োজন।

বিদ্যুত বিভাগের এক পরিকল্পনায় দেখা যায়, সারাদেশে সৌর চালিত সেচ পাম্পে ১৫০ মেগাওয়াট, মিনি গ্রিড সিস্টেমে ২৫ মেগাওয়াট, সরকারী জমিতে ১১৫ মেগাওয়াটের সোলার পার্ক, রেলের জমিতে ২০ মেগাওয়াটের সোলার পার্ক, বাণিজ্যিক ও বাসাবাড়িতে ১০ মেগাওয়াট এবং শিল্পে আরও ২০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুত উৎপাদন করা হবে। এছাড়া সরকার নিজস্ব উদ্যোগে আরও ১৬০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুত উৎপাদন করবে। রেলওয়ের পরিত্যক্ত জমিতে ঢাকার আজমপুরে ১২ থেকে ১৫ মেগাওয়াট, চট্টগ্রামের হালিশহরে ৮ থেকে ১০ মেগাওয়াট, পাহাড়তলিতে ৫ থেকে ৭ মেগাওয়াট ও কুমিরায় ৬ থেকে ৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুতের প্যানেল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারী সোলার পার্ক স্থাপনের জন্য রাজশাহীর রাজবাড়ি হাটে ১৫ থেকে ২০ মেগাওয়াট, ঈশ্বরদীতে পিজিসিবির গ্রিড সাবস্টেশন এলাকায় ৫ থেকে ৬ মেগাওয়াট, রাজশাহীর পদ্মার চরে ১৫০ থেকে ১৬০ মেগাওয়াট ও বঙ্গবন্ধু সেতুর পাশে ৩০ থেকে ৪০ মেগাওয়াট সৌর প্যানেল স্থাপনের মতো জমি রয়েছে। পিডিবি ও আরইবি বাস্তবায়নের জন্য ৩৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুত প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে আইপিপি ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে ২০ মেগাওয়াট সোলার বিদ্যুত উৎপাদন করা হবে। এছাড়া কাপ্তাই-৫ মেগাওয়াট, জামালপুরে ৩ মেগাওয়াট ও রাজশাহীতে এক মেগাওয়াটের প্রকল্প রয়েছে। যদিও অধিকাংশ প্রকল্প কবে নাগাদ বাস্তবায়ন হবে তার কোন সময়রেখা নির্ধারণ করতে পারেনি বিদ্যুত বিভাগ।

বিদ্যুত বিভাগ বলছে ‘সাসটেনেবল রিনিউবল এনার্জি পাওয়ার জেনারেশন’ এই গবেষণার কাজ শেষ হলে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিনিয়োগকারীরা সুস্পষ্ট গাইড লাইন পাবেন। ইচ্ছা করলে বিনিয়োগকারী একটি জায়গা থেকে সকল তথ্য পাবেন। যা প্রকল্প প্রস্তাব তৈরিতে সহায়ক হবে।

প্রকাশিত : ১৪ জানুয়ারী ২০১৫

১৪/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: