কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বিশ্বকাপ দল নিয়ে সন্তুষ্ট তিন সাবেক তারকা, তবে...

প্রকাশিত : ৭ জানুয়ারী ২০১৫
  • আলাপচারিতায় রকিবুল হাসান, গাজী আশরাফ হোসেন লিপু ও আতহার আলী খান

মোঃ মামুন রশীদ ॥ আগামী বিশ্বকাপের জন্য চূড়ান্ত দল ঘোষণা হয়ে গেছে। অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য একাদশ বিশ্বকাপের জন্য বিচার-বিশ্লেষণ করে ১৫ ক্রিকেটারকে নিয়ে দল সাজিয়েছেন জাতীয় নির্বাচকরা। এবার নিয়ে প্রথম কোন প্রধান নির্বাচক হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করলেন ফারুক আহমেদ। তিনি আগেই জানিয়েছিলেন সম্প্রতি নৈপুণ্য এবং অভিজ্ঞতা বিবেচনায় দল দেয়া হবে এবং দল যেভাবেই করা হোক শতভাগ সন্তুষ্ট করা সম্ভব হবে না সবাইকে। দল ঘোষণার পর বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটাররাও তাঁদের বিশ্লেষণে তেমনটাই তুলে ধরলেন। সাবেক ক্রিকেটাররা ঘোষিত দল নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও দুয়েকটি ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম প্রত্যাশা করেছিলেন। এক্ষেত্রে অনেকেই তৃতীয় ওপেনার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন সৌম্য সরকারের পরিবর্তে অভিজ্ঞ ইমরুল কায়েসকে এবং কেউ কেউ আরাফাত সানির বদলে একমাত্র লেগস্পিনার হিসেবে জুবায়ের হোসেন লিখনকে দলে নিলে ভাল হতো বলে নিজেদের বিশ্লেষণে বলেছেন। পেস আক্রমণে অভিজ্ঞ শফিউল ইসলামকেও দলে রাখা গেলে ভাল হতো বলে মনে করেন অনেকেই। বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দল নিয়ে দৈনিক জনকণ্ঠের সঙ্গে কথা বলেছেন সাবেক প্রধান নির্বাচক আতহার আলী খান, সাবেক অধিনায়ক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু ও রকিবুল হাসান।

গত বিশ্বকাপ খেলা ১৫ জনের মধ্যে এবার ১০ জনই অনুপস্থিত। মাত্র ৫ ক্রিকেটার তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহীম, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও রুবেল হোসেন এবারের দলে টিকে আছেন। ইনজুরির কারণে গত বিশ্বকাপ খেলতে না পারলেও দলের অধিনায়ক হয়েই ফিরেছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। বাকি ৯ ক্রিকেটারই এবার প্রথম বিশ্বকাপ মঞ্চে খেলার সুযোগ করে নিয়েছেন। অভিজ্ঞদের মধ্যে বাদ পড়েছেন বাঁহাতি স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক, শফিউল ইসলাম, ইমরুল কায়েস ও নাঈম ইসলাম। আর দলে বড় চমক হিসেবে ঠাঁই পেয়েছেন সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান রুম্মান, তাইজুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ। ঘোষিত দল নিয়ে সাবেক ক্রিকেটাররা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সামান্য ব্যতিক্রম হলে পুরোপুরি নিখুঁত একটি দল হতো বলে মনে করেন তাঁরা। দল ঘোষণার পরই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেছিলেন, ‘অভিজ্ঞতার কথা চিন্তা করে আব্দুর রাজ্জাককে বিশ্বকাপ দলে রাখা প্রয়োজন ছিল।’ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক শফিকুল হক হীরার মতে, ওপেনে ইমরুল কায়েসের কথা বিবেচনা করা যেতে পারত। আরেক সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজন বলেছিলেন, ‘দুর্দান্ত একটি দল দিয়েছেন নির্বাচকরা।’ তাঁদের কথার অনুসরণ দেখা গেল আতহার, লিপু ও রকিবুলের কণ্ঠেও।

রকিবুল হাসান ॥ আমার কাছে দলটা ভাল হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশন, জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে পারফর্মার ও ঢাকা প্রিমিয়ার লীগের পারফর্মারদের দিয়ে দলটা গড়া হয়েছে। সাকিব আল হাসানকে নিয়ে দলে মোট আট-নয় জন ব্যাটনম্যান রয়েছে। এছাড়া মাশরাফি ও সৌম্য সরকারকে ধরে পাঁচ পেসার দলে রাখা হয়েছে। হিসেবে ভাল দলই বলা যায়। কিন্তু আমার কাছে মনে হয় একটা বাজি ধরতে পারতেন নির্বাচকরা। আমরা অস্ট্রেলিয়ায় বিশ্বকাপ জিততে যাচ্ছি না। কেউ যদি মনে করেন আমরা বিশ্বকাপ জয়ের জন্য যাচ্ছি তাহলে সে বোকার স্বর্গে বাস করছে। কারণ আমাদের প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ড, ইংল্যান্ডের মতো দলগুলো। তাই একজন লেগ-স্পিনার নেয়া গেলে হয়ত ভালই হতো।

আতহার আলী খান ॥ আমি বলব বিশ্বকাপের জন্য যে দল ঘোষণা করা হয়েছে সেটা মোটামুটি ভালই। তবে যে দলটি দিয়েছে এর মধ্যে আমি ১২ জনকে নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট। আর বাকি তিনটি জায়গা নিয়ে আমি অন্যরকম চিন্তা করছিলাম। নিজে নিজে একটা টিম চিন্তা করেছিলাম সেখানে অন্য তিনজনকে রেখেছিলাম। আমার ব্যক্তিগত মতামত অনুসারে তাঁরা হয়ত কিছুটা এগিয়ে ছিল। এক, সৌম্য সরকারের জায়গায় ইমরুল কায়েস। আমরা জিম্বাবুইয়ের বিরুদ্ধে সর্বশেষ সিরিজটা বিবেচনায় এনেছি। ইমরুল হয়ত সেখানে ভাল করতে পারেননি, কিন্তু তিনি অভিজ্ঞ খেলোয়াড় এবং নিউজিল্যান্ডে আগে ভাল খেলে এসেছিলেন, ২০১১ বিশ্বকাপেও ভাল খেলেছেন। বিশ্বকাপের মতো এত বড় একটি আসরে সৌম্যকে না খেলিয়ে অভিজ্ঞ ইমরুলকে আমি আমার দলে রেখেছিলাম তৃতীয় ওপেনার হিসেবে। আর আল-আমিনের জায়গায় শফিউলকে রেখেছিলাম। আল-আমিন অবশ্যই অনেক ভাল বোলার এবং বেশ কয়েকটি ম্যাচে ভালও করেছেন। এ্যাকশনের ত্রুটি কাটিয়ে উঠতে গিয়ে তিনি স্বাভাবিকতা হারিয়েছেন কিছুটা। কিন্তু অভিজ্ঞ শফিউল ইনজুরি থেকে ফিরে খুব ভাল করছিলেন এবং আমরা জানি ২০১১ বিশ্বকাপে সে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অলরাউন্ড নৈপুণ্য দেখিয়ে বাংলাদেশ দলকে জিতিয়েছিল। আরেকটি জায়গা আরাফাত সানির বদলে আমি রেখেছিলাম লেগস্পিনার জুবায়েরকে। যেহেতু আমরা জানি দুই বাঁহাতি সাকিব এবং তাইজুল দলে থাকবেন সেক্ষেত্রে একটু বৈচিত্র্যের জন্য জুবায়েরকে এগিয়ে রেখেছিলাম আরাফাতের চেয়ে। লেগস্পিনারদের বলের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা কঠিন কিন্তু আমরা তাঁকে দেখে মুগ্ধ হয়েছি যে দারুণ নিয়ন্ত্রণ আছে তাঁর। তাঁর বলে গতি ছিল, টার্ন ছিল, গুগলিও করতে পারে। তাই তাঁকেই এগিয়ে রেখেছিলাম।

গাজী আশরাফ হোসেন লিপু ॥ ব্যাটিং-বোলিং নিয়ে যে সমন্বয় দেয়া হয়েছে প্রায় ঠিকঠাকই মনে হচ্ছে। তবে আমার মনে হচ্ছে যদি ওপেনিং পজিশন নিয়ে অন্যরকম কিছু ভাবা যেত। সৌম্য সরকার অনেক ভাল করেছেন এবং তাঁকে নিয়ে হয়ত জিম্বাবুইয়ে সিরিজের আগে থেকেই চিন্তা করা হয়েছে। তবে আমি মনে করি এক্ষেত্রে অভিজ্ঞ কাউকে রাখা হলে ভাল হতো। কারণ তামিমের ইনজুরির একটা বিষয় আছে, সেক্ষেত্রে সৌম্য খুব বেশি নতুন হয়ে যায় এমন একটি আসরে অপরিচিত পরিবেশে। ইমরুল কায়েস সম্প্রতি খুব ভাল ফর্মে নেই কিন্তু কিছু অভিজ্ঞতা কিছু কিছু জায়গায় খুব কার্যকর হয়। আর খুব ভাল হতো যদি আমরা ৭/৮ নম্বরে সলিড একজন অলরাউন্ডার পেতাম। সেটা আমাদের নেই। এ কারণে অনেক আগে থেকেই আমাদের একটু নাড়াচাড়া করা প্রয়োজন ছিল। মুক্তার আলী একজন খেলোয়াড় ছিলেন তাঁকে নিয়ে আরেকটু আগে থেকে ভেবে নিয়ে সুযোগ দিয়ে এখন হয়ত বিবেচনায় আনা যেত।

প্রকাশিত : ৭ জানুয়ারী ২০১৫

০৭/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

খেলার খবর



ব্রেকিং নিউজ: