রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

আজ বিএনপি জোটের হরতাল

প্রকাশিত : ২৯ ডিসেম্বর ২০১৪

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ডাকে আজ সোমবার সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল। গাজীপুরে সমাবেশ করতে না দেয়ার প্রতিবাদে ও গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে শনিবার ২০ দলীয় জোটের বৈঠক শেষে এ হরতাল পালনের ঘোষণা দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই দাবিতে শনিবার গাজীপুরে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ব্যর্থ হওয়ার পর আবার কেন সারাদেশে হরতাল ডাকা হয়েছে তা নিয়ে জনমনে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা চলছে। তবে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আজকের হরতালে বিএনপি-জামায়াত নাশকতামূলক কর্মকা-ের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রবিবার সন্ধ্যা থেকেই রাজপথে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে আজকের হরতালের সমর্থনে রবিবার রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় মিছিল করেছে জামায়াত-শিবির। এ নিয়ে বেলা ২টায় মহাখালীতে শিবির-পুলিশ ধাওয়া পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। হরতালের সমর্থনে ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর উত্তর মহাখালী কলেরা হাসপাতালের গেট থেকে একটি মিছিল নিয়ে নাবিস্কোর দিকে যাওয়ার পথে পুলিশ বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় শিবিরকর্মীরা উত্তেজিত হয়ে কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করে।

এর আগে দুপুর সোয়া ১টার দিকে হরতালের সমর্থনে মিরপুর বিআরটিএ এলাকায় মিছিল করে জামায়াতের নেতাকর্মীরা। ঢাকা মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মোবারক হোসাইনের নেতৃত্বে মিছিলে বেশ ক’জন নেতাকর্মী অংশ নেয়। বিকেল সোয়া ৪টায় মগবাজার রেলগেট এলাকায় হরতালের সমর্থনে মিছিল করেছে জামায়াতের নেতাকর্মীরা।

হরতালের নামে নাশকতার চেষ্টা করলে সরকার তা কঠোর হস্তে দমন করার প্রস্তুতি নিয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ইতোমধ্যেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধির ব্যবস্থা করা হয়েছে। হরতালের নামে বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরাও তৎপর থাকবে বলে রবিবার ১৪ দলের এক সভায় সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়েছে। রবিবার এক অনুষ্ঠানে খাদ্যমন্ত্রী ও ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম বলেছেন, হরতালের নামে কোন সন্ত্রাস করলে বিএনপির সব নেতাকে গ্রেফতার করা হবে। তিনি বলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও যুবদলের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরও দু-একজন গ্রেফতার হবে। হরতালের নামে কোন সন্ত্রাস করলে বিএনপি সব নেতারই গয়েশ্বর ও আলালের পরিণতি হবে। দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, হরতাল দিয়ে বিএনপি আবারও নৈরাজ্য করতে চায়। রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমাদেরও দায়িত্ব আছে জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার। তারা মাঠে নামলে আমাদেরও মাঠে থেকে ব্যবস্থা নিতে হবে। কী ব্যবস্থা নেবেন, এটা আপনারা বুঝে নিয়েন। জ্ঞানীদের জন্য ইশারাই যথেষ্ট। আর ত্রাণ ও দর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী ও ঢাকা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছেন হরতালের নামে নাশকতার চেষ্টা করা হলে তা রাজপথেই মোকাবেলা করা হবে।

উল্লেখ্য, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ২২ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। কিন্তু সেদিন হরতাল ডেকে মাঠে ছিলেন না বিএনপি জোটের নেতাকর্মীরা। ফলে নামকাওয়াস্তে হরতাল পালনের মধ্য দিয়ে বিএনপি জোটের দুর্বলতাই প্রকাশ পায়। দেশের সর্বস্তরের মানুষ এ হরতাল প্রত্যাখ্যান করায় দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতালের সময় যানবাহন চলাচলসহ সব কিছুই ছিল স্বাভাবিক। তবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিচ্ছিন্নভাবে হরতালকারীরা মাঝে-মধ্যে ককটেল বিস্ফোরণ ও ঝটিকা মিছিল করে রাজপথ উত্তপ্ত করার চেষ্টা করলেও পুলিশের প্রতিরোধের মুখে তারা ব্যর্থ হয়। তবে কোথাও কোথাও পুলিশ ও হরতালকারীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। হরতাল চলাকালে পুলিশ সারাদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শতাধিক হরতালকারীকে গ্রেফতার করে।

সরকার টালমাটাল হয়ে গেছে- রিজভী ॥ বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট হরতাল ঘোষণা করায় সরকার টালমাটাল হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। রবিবার সকালে নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, হরতাল ঘোষণার পর থেকে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে পুলিশ হামলা চালাচ্ছে, আটক করছে। পুলিশী বাধা উপেক্ষা করে তিনি নেতাকর্মীদের হরতাল সফল করার আহ্বান জানান। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপিকে সমাবেশ করতে না দিলে আওয়ামী লীগকেও কোথাও সমাবেশ করতে দেয়া হবে না।

হরতালে বিএনপির শীর্ষ নেতারা মাঠে থাকবে কিনা জানতে চাইলে রিজভী বলেন, বিএনপি কোন ভুঁইফোড় সংগঠন নয়। বিএনপির নেতারা ঘরে বসে নেই। হরতালে সবাই মাঠে থাকবে। যা হওয়ার হবে। যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ অন্যান্য নেতাদের আটকের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি অবিলম্বে তাদের মুক্তি দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সহদফতর সম্পাদক আব্দুল লতিফ জনি, আসাদুল করিম শাহীন, যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি এ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ।

বিকেল সাড়ে ৫টায় দ্বিতীয় দফা সংবাদ সম্মেলন করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, একদলীয় দুঃশাসন নিশ্চিত করতেই সরকার নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে তল্লাশি ও গ্রেফতার অভিযান চালাচ্ছে। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধীদলের যে অধিকার থাকার কথা বর্তমান ক্ষমতাসীনরা তা কেড়ে নিয়েছে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের লালদিঘীর ময়দান হরতালের আওতামুক্ত থাকবে।

সরকার ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে চায়- ফখরুল : বর্তমান সরকার রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে চায় এবং এ জন্য একের পর এক ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এ সরকারের আমলে বিচারবহির্ভূত প্রতিটি গুম ও খুনের জবাব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জনগণের কাছে দিতে হবে। রবিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে সিঙ্গাপুর বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, মন্ত্রী-এমপিদের দাম্ভিকতা শুনে মনে হচ্ছে তারা এদেশের রাজা আর দেশটি তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি। তাদের আচরণে প্রমাণিত হচ্ছে ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচন একতরফা করতেই তখন বিএনপির শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতার করা হয়েছিল। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ৩১০ জনকে হত্যা ও ৬৫ জনকে গুম করা হয়েছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, গুম ও খুন মানবতাবিরোধী অপরাধ আর সে হিসেবে এ সরকারও মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত। যারা গুম ও খুনের সঙ্গে জড়িত তাদের একদিন শাস্তির আওতায় আনা হবে।

আলোচনা সভায় সরকার সব জায়গায় ব্যর্থ মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, রাজধানীর শাহজাহানপুরে পাইপের ভেতরে সরকার মানুষ খুঁজে পায় না, খুঁজে পায় টিকটিকি। তিনি বলেন, আমরা কোন গণতান্ত্রিক দেশে বাস করছি যেখানে প্রতিনিয়ত গুম-খুন হচ্ছে। এটা কোন সভ্য দেশ হতে পারে না। এই গুম-খুন হওয়ার জন্যই কী মানুষ জীবন দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিল।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সিঙ্গাপুর বিএনপি সভাপতি আবদুল কাদের। এতে বক্তব্য রাখেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা প্রমুখ। আলোচনা সভায় বর্তমান সরকারের সময়ে গুম ও খুন হওয়া ২২টি পরিবারের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকার একটি চেক তুলে দেয় সিঙ্গাপুর বিএনপি।

প্রকাশিত : ২৯ ডিসেম্বর ২০১৪

২৯/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: