মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

আখাউড়া-লাকসাম রেল লাইন উন্নয়নসহ ৮ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন

প্রকাশিত : ২৪ ডিসেম্বর ২০১৪

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ আখাউড়া-লাকসাম রেললাইন উন্নয়নসহ আটটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ১০ হাজার ৬২৫ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারী তহবিল থেকে ২ হাজার ৫২৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা। বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৫ হাজার ৪৭৮ কোটি টাকা এবং সংস্থার নিজেস্ব অর্থায়ন থেকে ২ হাজার ৬১৮ কোটি ৪১ লাখ টাকা। মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে এ অনুমোদন দেয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনা।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান, পরিকল্পনা সচিব ভূঁইয়া সফিকুল ইসলাম, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. শামসুল আলম, পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য আরাস্তু খান প্রমুখ।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলওয়ে অচিরেই ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ের একটি প্রধান করিডরে পরিণত হবে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশগুলোকে চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে মালামাল পরিবহন সুবিধা দিতে পারবে। এতে করে দেশী-বিদেশী উদ্যোক্তারা আকৃষ্ট হবেন।

একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হচ্ছে, আখাউড়া-লাকসাম পর্যন্ত ডুয়েল গেজ ডাবল রেললাইন নির্মাণ এবং বিদ্যমান রেললাইন ডুয়েল গেজে রূপান্তর, এটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৬ হাজার ৫০৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা । এর মধ্যে সরকারী তহবিল থেকে ১ হাজার ২৬ কোটি এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এডিবি ও ইআইবি দেবে ৫ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা। প্রি-পেমেন্ট মিটারিং প্রজেক্ট ফর ৫ এনওসিএস ডিভিশন আন্ডার ডিপিডিসি, এটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ২২৪ কোটি ৪২ টাকা।

আখাউড়া-লাকসাম রেল উন্নয়ন প্রকল্পের বিস্তারিত হচ্ছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলওয়ে বাংলাদেশ রেল নেটওয়ার্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ সেকশনটি ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে এবং উপ-আঞ্চলিক করিডরের একটি বড় অংশ। এ উপ-অঞ্চলে পরিবহন এবং ট্রান্সশিপমেন্টের কেন্দ্র বিন্দু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের। যমুনা নদীর উপর বঙ্গবন্ধু সেতু এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলওয়ে করিডর দিয়ে বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশসমূহকে চট্টগ্রাম পোর্টের মাধ্যমে মালামাল পরিবহনের সুবিধা প্রদান করতে পারে। এর মাধ্যমে এদেশে দেশী ও বিদেশী বিনিয়োগে উদ্যোক্তাদের আকৃষ্ট করা সম্ভব হবে। তাছাড়া বাংলাদেশ সাউথ এশিয়া সাবরিজিওয়নাল ইকনোমিক কো-অপারেশন, সাউথ এশিয়ান এ্যাসোসিয়েশন ফর রিজিওনাল কো-অপারেশন এবং দ্য বে অব বেঙ্গল ইনিসিয়েটিভ ফর মাল্টি সেক্টরাল টেকনিক্যাল এ্যান্ড ইকনোমিক কো-অপারেশনসহ বিভিন্ন বৃহৎ আন্তর্জাতিক ট্রেড করিডর অবস্থিত। প্রকল্পের আওতায় প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে, ১৪৪ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ মেইন লাইন ট্রাকের জন্য ২৬ হাজার ৫২৬ টন রেল সংগ্রহ, ৪০ দশমিক ৬০ কিলোমিটার লুপ ও সাইডিং লাইনের জন্য পাঁচ হাজার ২০ টন রেল সংগ্রহ, দুই লাখ ৯১ হাজার ২৫৪টি ডুয়েল গেজ প্রি-স্ট্রেসড কনক্রিট সিøপার সংগ্রহ, ১১ স্টেশনের সিগন্যালিং ব্যবস্থা আধুনিকায়ন, এক শ’ একর জমি অধিগ্রহণ এবং ৫৯টি ছোট-বড় ব্রিজ ও ১১ স্টেশন ভবন নির্মাণ করা হবে।

এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) সরবরাহের জন্য মহেশখালী থেকে আনোয়ারা পর্যন্ত গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণ করা হচ্ছে। গ্যাসের প্রবাহ বৃদ্ধি, বিভিন্ন বিদ্যুত কেন্দ্র, সার কারখানা এবং শিল্প কারখানায় গ্যাস সরবরাহ করার জন্যই ৯১ কিলোমিটার এ লাইন নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ২০১৬ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়নের কাজ শেষ করবে জিটিসিএল। আমদানিকৃত এ এলএনজি গ্যাসে রূপান্তরিত করার পর দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট হারে সরবরাহের লক্ষ্যে পেট্রোবাংলা কক্সবাজার জেলার মহেশখালী দ্বীপের কাছে গভীর সমুন্দ্রে এলএনজি টার্মিনাল তথা ফ্লটিং স্টোরেজ এ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) নির্মাণ কাজ বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

প্রকাশিত : ২৪ ডিসেম্বর ২০১৪

২৪/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: