কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

বিএনপিকে জামায়াত সঙ্গ অবশ্যই ছাড়তে হবে ॥ ইইউ

প্রকাশিত : ১১ ডিসেম্বর ২০১৪
  • আগামী নির্বাচন নিয়ে সংলাপ হতে পারে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশে এখনই নতুন করে জাতীয় নির্বাচন নয়, তবে আগামী নির্বাচনের বিষয়ে সমঝোতার লক্ষ্যে প্রধান রাজনৈতিকদলগুলোর সংলাপ করা প্রয়োজন বলে মনে করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এছাড়া বিএনপিকে জামায়াতে ইসলামী পরিত্যাগের বিষয়ে আগের আহ্বানে এখনও অনড় রয়েছে ইইউ। ইউনিয়নের পার্লামেন্ট সদস্য ও দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক প্রতিনিধিদলের চেয়ারপার্সন জ্যা ল্যাম্বার্ট বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। এছাড়া প্রতিটি বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-ের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচারের দাবি জানিয়েছে ইইউ।

ঢাকায় পাঁচদিনের সফর শেষে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পার্লামেন্টের সদস্য জ্যা ল্যাম্বার্ট সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। রাজধানীর ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের অফিসে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে ঢাকায় নিযুক্ত সংস্থাটির রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াডোনও উপস্থিত ছিলেন। এক প্রশ্নের উত্তরে জ্যা ল্যাম্বার্ট জানান, বাংলাদেশে এখন নতুন করে নির্বাচন নিয়ে নয়, আগামী জাতীয় নির্বাচনের বিষয়ে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে সংলাপ করা প্রয়োজন। তবে বাংলাদেশের নির্বাচনের বিষয়ে বাংলাদেশই সিদ্ধান্ত নেবে। এ নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিশেষ কোন নির্দেশনা নেই বলেও জানান তিনি।

জ্যা ল্যাম্বার্ট বলেন, নির্বাচন যখনই হোক না কেন, সেটা যেন প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে হয়। সাধারণ মানুষ যেন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে বিষয়ে সকলের জন্য একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকেই এ বিষয়ে ঐকমত্যে আসতে হবে।

বিএনপিকে জামায়াতে ইসলামী পরিত্যাগের বিষয়ে আগের আহ্বানে এখনও ইউরোপীয় ইউনিয়ন পার্লামেন্ট অনড় রয়েছে। এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপির সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়টি আলোচনা হয়নি। তবে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে বিএনপিকে জামায়াতে ইসলামী পরিত্যাগের বিষয়ে যে প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল, সে বিষয়ে পার্লামেন্ট এখন অনড়।

বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের কর্মপরিবেশ উন্নয়নে কিছুটা অগ্রগতি হলেও এখনও কিছু প্রতিবন্ধকতা আছে বলে উল্লেখ করেন জ্যা ল্যাম্বার্ট। এছাড়া এদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন পার্লামেন্টের এই সদস্য।

পোশাক শিল্পের কর্মপরিবেশের বিষয়ে ল্যাম্বার্ট বলেন, পোশাক কারখানায় পরিদর্শক নিয়োগসহ কিছু বিষয়ে অনেকটাই অগ্রগতি হয়েছে। তবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অবকাঠামো উন্নয়নসহ কিছু প্রতিবন্ধকতা এখনও আছে। এসব দূর করতে পরিবর্তিত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

বাংলাদেশের পোশাক শিল্প কারখানার কর্মপরিবেশ উন্নয়নের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, বিশ বছর আগে এখানকার পোশাক শিল্প মালিকরা শুধু উৎপাদন আর উৎপাদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন। এখন সেই মানসিকতার পরিবর্তন হচ্ছে। এখন শুধু উৎপাদন নয়, পোশাক কারখানার শ্রমিকদের দিকেও মনোযোগী হচ্ছে মালিকরা। আর এটি আরও বেশি করে সম্ভব হয়েছে রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর। এছাড়া পোশাক কারখানার কাজের পরিবেশ উন্নয়নে ইইউ, এ্যাকর্ড, এ্যালায়েন্স একযোগে কাজ করছে বলেও তিনি জানান।

বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে ল্যাম্বার্ট বলেন, বাংলাদেশের বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-, গুম, নির্যাতন নিয়ে ইইউ উদ্বিগ্ন। সরকারের তৈরি এনজিও নীতির খসড়া নিয়েও আপত্তি তোলেন এই ইউরোপীয় রাজনৈতিক নেতা। তিনি বলেন, এ নীতি বাস্তবায়িত হলে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের কণ্ঠরোধ হতে পারে। বাংলাদেশের একটি দায়িত্বশীল সুশীল সমাজ আছে। একটি দেশের উন্নয়নে সুশীল সমাজের অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরী।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সরকার জলবায়ু পরিবর্তন ঝুঁকি মোকাবেলায় বিশ্বের দরবারে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নও জলবায়ু পরিবর্তন ঝুঁকি মোকাবেলায় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ ও ইইউ এই খাতে একযোগে কাজ করবে।

প্রকাশিত : ১১ ডিসেম্বর ২০১৪

১১/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: