আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

তিস্তায়ও মমতার সম্মতি, আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে

প্রকাশিত : ১০ ডিসেম্বর ২০১৪
তিস্তায়ও মমতার সম্মতি, আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে
  • ডিসেম্বরেই চুক্তি!

নিজস্ব সংবাদদাতা, লালমনিরহাট থেকে ॥ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যৌথ নদী কমিশনের সুপারিশ মতে তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা বিষয়ে একটি অস্থায়ী চুক্তি রয়েছে। যৌথ নদী কমিশনের সুপারিশে চুক্তিটি বহু বছর ধরে স্থায়ীভাবে স্বাক্ষরিত ও বাস্তবায়ন হয় হয় করে হচ্ছে না। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার রাজি হলে, রাজি হয় না পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এভাবে ঝুলে আছে ভারত বাংলাদেশের মধ্যে প্রবাহিত অভিন্ন নদী তিস্তার পানি চুক্তির বিষয়টি। তবে এবারে এই পানি চুক্তি কূটনৈতিক সফলতার দ্বারপ্রান্তে উপনিত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বৃহস্পতিবার ভারতের কোচবিহার জেলার দিনহাটা থানার নয়ারহাট সরকারী একটি অনুষ্ঠানে তিস্তা চুক্তি স্থায়ীভাবে স্বাক্ষর ও বাস্তবায়ন নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি তার ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। ছিটমহল বিনিময় চুক্তি, তিস্তা নদীর পানি চুক্তি ও স্থলসীমান্ত চুক্তির দ্রুত বাস্তবায়ন চায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের সঙ্গে সব দ্বিপক্ষীয় সমস্যা সমাধানে আন্তরিক। তিস্তা পানি চুক্তি ও ছিটমহল চুক্তি সম্পূর্ণ ও বাস্তবায়ন করে নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিজয় দিবসের উপহার দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি তিস্তা পানি চুক্তি নিয়েও কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে তার মতামত প্রকাশ করেছেন। তিস্তা চুক্তি করতে (তার হ্যাঁ সূচক) রাজি আছেন। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারকে পত্র দিয়ে জানিয়ে দিয়েছেন। ভারতীয় পত্র-পত্রিকায় এই নিয়ে লেখা লেখি হয়েছে। মমতা ব্যানার্জি তিস্তা পানি চুক্তি নিয়ে ঘোষণার পর চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আশায় বুক বেঁধেছে তিস্তা পাড়ের মানুষ। এবারে তিস্তা চুক্তি হবেই হবে। এই ডিসেম্বর মাসেই চুক্তিটি হতে পারে। তিস্তা চুক্তি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বাংলাদেশে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাংলাদেশে সফরে আসছেন। এদিকে ১৮ ডিসেম্বর ভারতের রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এ্যাডভোকেট মোঃ আব্দুল হামিদ ভারত সফরে যাচ্ছেন। দুই দেশের রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ নেতারা দুই দেশ সফর করবেন। এই সফরে শুভেচ্ছাস্বরূপ পশ্চিমবঙ্গ সরকার তিস্তা নদীতে শুষ্ক মৌসুমে ইতোমধ্যে ৪৫ হাজার কিউসেক পানি সরবরাহ করেছে। তাই ডিসেম্বর মাসে তিস্তা নদীতে প্রচুর পরিমাণে পানিপ্রবাহ লক্ষ্য করা গেছে।

’৭৪-এর ৬ মে মুজিব ইন্দিরা চুক্তির আলোকে তিস্তা পানি চুক্তির বিষয়টি নিয়ে পুনরায় স্থায়ী চুক্তি হতে যাচ্ছে। পানি বিশেষজ্ঞরা ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চুক্তি হউক বা না হউক। এবারে তিস্তা নদীতে শুষ্ক মৌসুমে পানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

এবারে শুষ্ক মৌসুমে ভারত সরকার ও পশ্চিমবঙ্গ সরকার এখনও সম্পূর্ণরূপে তিস্তা নদীর পানিপ্রবাহ বন্ধ করে রাখেনি। তিস্তা নদীতে এখনও প্রায় ৩৫-৪৫ হাজার কিউসেক পানিপ্রবাহ আছে। এই পানিপ্রবাহ গত কয়েক বছরের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। তিস্তা ব্যারাজের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মাহাবুবুর রহমান জানান, তিস্তা ব্যারাজে এবার শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধায় তেমন ব্যাঘাত সৃষ্টি হবে না। তিস্তা নদীতে পানি প্রবাহ আছে।

লালমনিরহাট দোয়ানি তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্পও কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবারে খরিপ এক মৌসুমে বোরো ধানের চাষ করতে তিস্তা সেচ প্রকল্প এলাকার কৃষকদের রংপুর, নীলফামারী, দিনাজপুর, বগুড়া, জয়পুরহাট পর্যন্ত ৮৫ হাজার হেক্টর জমিতে পানি সেচ দেয়া হবে। তিস্তা ব্যারাজের সেচের আওতায় থাকা ৭১০ দশমিক ৪৫ কিমি প্রধান নালাজুড়ে (খাল) সেচের পানি ভরে উঠেছে। এখন প্রতিদিন ৩৩ দশমিক ৬৮ কিমি প্রধান নালা, ৭৪ দশমিক ৪৩ কিমি মেজর দ্বিতীয় নালা ও ৮৭ দশমিক ৬৫ টার্শিয়ারি নালা ১২ ঘণ্টা অন্তর অন্তর ৫ হাজার কিউসেক করে বোরো মৌসুমে কৃষক সেচ পাবে।

তিস্তা ব্যারাজ সেচ প্রকল্পের সূত্রে জানা গেছে, সাধারণত ডিসেম্বর মাসে তিস্তা নদীর পানিপ্রবাহ কমে যেত। এবারে তিস্তা নদীর পানিপ্রবাহ ভাটিতে প্রচুর রয়েছে। তিস্তা নদীর পানি ধরে রাখার প্রধান জলাশয়ে প্রচুর পরিমাণ পানি সংরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। এছাড়াও প্রতিদিন উজান হতে পানি আসছে। অন্যান্য বছরে এই সময় তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেট বন্ধ করে রেখে পানি ভাটিতে ধরে রাখা হয়ে থাকত। এবারে তিস্তা ব্যারাজের গেটগুলো বন্ধ রাখা হলেও একটু খুলে রেখে বন্ধ করা হয়েছে। যাতে উজানের অতিরিক্ত তিস্তা নদীর পানি ভাটির দিকে প্রবাহিত হয়। তিস্তা নদীর মূল স্রোত ধারা ও তিস্তা নদী একদম শুকিয়ে না যায়। উজানের পানি ব্যারাজের ৭১০ কিমি সেচের আওতায় থাকা প্রধান প্রধান নালাগুলোতেও সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে।

বিগত কয়েক বছর ধরে তিস্তা নদীতে নবেম্বর ডিসেম্বর মাসে শুষ্ক মৌসুমে গড়ে উজানের পানির প্রবাহ ছিল দুই হতে তিন হাজার কিউসেক। এবারে নবেম্বর ডিসেম্বর মাসে পানির প্রবাহ গড়ে ১০-১৫ কিউসেক রয়েছে। বর্তমানে তিস্তা নদীতে প্রায় ৭০ হাজার কিউসেক পানি সংরক্ষিত রয়েছে, যা বর্ষা মৌসুমে প্রায় ৯০ হাজারে থাকে। বালুময় তিস্তা নদীতে বোরো মৌসুমে প্রায় ৪৫ হাজার কিউসেক পানির প্রয়োজন হবে। বর্তমানে যে পরিমাণ পানি সংরক্ষিত রয়েছে। তাতে সেই চাহিদা মিটিয়ে যাবে। তারপর ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে তিস্তায় পানি ছাড়া হবে।

প্রকাশিত : ১০ ডিসেম্বর ২০১৪

১০/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: