কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অফিস ফাঁকির অভিযোগ

প্রকাশিত : ৭ নভেম্বর ২০১৪
  • টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলা

নিজস্ব সংবাদদাতা, টাঙ্গাইল, ৬ নবেম্বর ॥ টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলা পরিষদসহ প্রায় সব সরকারী দফতরের কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়েছে। কর্মস্থলে অবস্থান না করা ও অফিস ফাঁকি দেয়ার কারণে দূর- দূরান্ত থেকে কাজে আসা মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সর্বশেষ প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সরকারী কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী উর্ধতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবে না। কিন্তু বাসাইলে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ প্রজ্ঞাপনকে উপেক্ষা করে দিনের পর দিন ঢাকা-টাঙ্গাইলসহ দূরবর্তী বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করেন।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার ছাড়া বাসাইলে কর্মরত সব কর্মকর্তা ঢাকা ও টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন স্থান থেকে এসে বাসাইলে অফিস করেন। উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুছ ছাত্তার, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ নূরুল ইসলাম তালুকদার, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আকলিমা চৌধুরী, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুজিবুল আহসান, উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মন্তোষ চন্দ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল ফারুক, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা হাজেরা আক্তার, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাহমুদা খাতুন, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নেহনুমা নওরীন, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা ওয়াজেদ আলী, ভারপ্রাপ্ত পরিসংখ্যান কর্মকর্তা আশরাফ সিদ্দিকী অফিস করেন টাঙ্গাইল থেকে এসে। ঢাকা থেকে অফিস করেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সাইদুর রহমান খান। উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা শফিকুর রহমান খান অফিস করেন তাঁর নিজ এলাকা উপজেলার শেষ প্রান্তের গ্রাম কাঞ্চনপুর দক্ষিণপাড়া থেকে। বাসাইলের বাইরে থেকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন ও খাদ্য কর্মকর্তা মনসুর আলী মিয়া। কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রায় সব দফতরের কর্মচারীরা অফিস করেন টাঙ্গাইলসহ দূরবর্তী এলাকা থেকে। এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দাফতরিক কাজে জেলা সদর বা ঢাকায় গেলে বাসাইল উপজেলা পরিষদ কর্মকর্তা শূন্য হয়ে পড়ে। কর্মস্থলে কর্মকর্তা না থাকার কারণে কোন মুক্তিযোদ্ধা মারা গেলে কখনও কখনও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে দাফন করার জন্য নির্বাহী কর্মকর্তার পক্ষে কোন প্রতিনিধি পাঠাতে বিলম্ব হয়। ফলে ভুক্তভোগী স্বজনদের অনেক সময় দাফনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। এ বিষয়টি সাধারণ মানুষের কাছে অমানবিক মনে হয়। উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মশিউর রহমান খান আপেল বলেন, কর্মকর্তারা কর্মস্থলে অবস্থান না করায় বাসাইলের মানুষ তাদের সেবা থেকে বঞ্চিত। সরকার মোটা অঙ্কের টাকা খচর করে তাদের রুটি-রুজির যোগান দিচ্ছে, অথচ তারা মানুষের সেবা করছে না। বাসাইল পৌর বিএনপির সভাপতি মামুন আল জাহাঙ্গীর বলেন, এসব কর্মকর্তার যারা সরকারী আইন ভঙ্গ করছে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। এ ব্যাপারে বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলিয়া শারমিন বলেন, অধিকাংশ কর্মকর্তা বিভিন্ন স্থান থেকে এসে অফিস করেন। আমি এ উপজেলায় নতুন এসেছি। কর্মকর্তাদের উপস্থিতির বিষয়ে সব দফতরে একটি করে চিঠি দেব।

প্রকাশিত : ৭ নভেম্বর ২০১৪

০৭/১১/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: