ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩

রাজবাড়ীতে তেলবাহী ট্রেনের  ধাক্কায় বাস-মাহিন্দ্রা-ইজিবাইক ক্ষতিগ্রস্ত,

প্রকাশিত: ১৪:০৪, ২৭ জুলাই ২০২৬

রাজবাড়ীতে তেলবাহী ট্রেনের  ধাক্কায় বাস-মাহিন্দ্রা-ইজিবাইক ক্ষতিগ্রস্ত,

জনকণ্ঠ রিপোর্ট :
রাজবাড়ীর সদর উপজেলার খানখানাপুর রেলগেটে তেলবাহী ট্রেনের পাঁচটি বগি মূল ট্রেন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে তিনটি যানবাহনে সজোরে ধাক্কা দিয়েছে। এতে একটি যাত্রীবাহী বাস, একটি মাহিন্দ্রা ও একটি ইজিবাইক দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এ ঘটনায় মাহিন্দ্রার দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন এবং অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।
রোববার রাতে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের খানখানাপুর রেলগেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড় এলাকার মনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী এবং বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের শামুকখোলা গ্রামের মালেক শেখ। তারা দুজনই মাহিন্দ্রার যাত্রী ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর থেকে রাজবাড়ীগামী একটি তেলবাহী ট্রেন খানখানাপুর রেলগেট অতিক্রম করার সময় পেছনের পাঁচটি বগি মূল ট্রেন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ইঞ্জিন ও সামনের অংশ রেলগেট পার হয়ে যাওয়ায় গেটম্যান রেললাইন ফাঁকা মনে করে ব্যারিয়ার তুলে দেন। ঠিক সেই সময় একটি যাত্রীবাহী বাস, একটি মাহিন্দ্রা ও একটি ইজিবাইক রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করলে বিচ্ছিন্ন বগিগুলো সেগুলোর ওপর উঠে আসে এবং সজোরে ধাক্কা দেয়।
এতে মাহিন্দ্রা ও ইজিবাইক দুমড়ে-মুচড়ে যায়। বাসটিও ধাক্কায় রেললাইনের পাশের দিকে সরে যায়। দুর্ঘটনায় মাহিন্দ্রার চালকসহ সাত থেকে আটজন আহত হন। ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী জামাল মোল্লা জানান, ট্রেনের ইঞ্জিন ও সামনের অংশ রেলগেট পার হওয়ার পরই গেটম্যান ব্যারিয়ার তুলে দেন। কিন্তু তখনও বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া পাঁচটি বগি পেছন থেকে এগিয়ে আসছিল। ফলে রেললাইন পার হতে যাওয়া বাস, মাহিন্দ্রা ও ইজিবাইক দুর্ঘটনার শিকার হয়।
বাসযাত্রী শরিফুল হোসেন বলেন, ফরিদপুর থেকে দৌলতদিয়াগামী বাসটি রেললাইন পার হওয়ার সময় হঠাৎ বিচ্ছিন্ন বগির সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে বাসের যাত্রীরা ছিটকে পড়েন এবং কয়েকজন আহত হন।
আহলাদীপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদুর রহমান মুরাদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। গুরুতর আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে দুজন মারা যান। দুর্ঘটনার বিষয়টি রেলওয়ে পুলিশকে জানানো হয়েছে।
রাজবাড়ী রেলওয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান জানান, ঘটনার তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ফরিদপুর থেকে একটি ইঞ্জিন এনে বিচ্ছিন্ন বগিগুলো সরানোর পর রেল চলাচল স্বাভাবিক করা হবে।
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও রেলওয়ে কর্মকর্তারা উদ্ধার ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। কী কারণে তেলবাহী ট্রেনের পাঁচটি বগি মূল ট্রেন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×