ছবি: জনকণ্ঠ
লঞ্চের কেবিনে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের প্রতিবাদে হাতিয়ায় ভিন্ন ভিন্ন প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে এনসিপি ও বিএনপি। মুখোমুখি মিছিলে উভয় পক্ষের মাঝে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে ৭ জন আহত হয়।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলা সদরে এ প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করা হয়।
এসময় মুখোমুখি মিছিলে এনসিপি ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৭ জন আহত হয়।
আহতরা হলেন, হাতিয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেন ইলিয়াস, পৌরসভা ছাত্রদলের আহবায়ক শরিফুল ইসলাম দুখু, পৌরসভা যুবদল নেতা আশিক, সাখাওয়াত হোসেন হিরো। অপরদিকে হাতিয়া উপজেলা যুব শক্তির আহবায়ক ইউসুফ রেজা, ছাত্র শক্তির আহবায়ক নেয়ামত উল্লাহ নীরব, সমর্থক জহির উদ্দিন।
এই বিষয়ে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির উদ্দিন বলেন, বিক্ষোভ মিছিলে উভয় পক্ষের হাতাহাতির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। যদি কেউ লিখিত অভিযোগ দেয় সে বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জানা যায়, গত ৮ মার্চ রোববার দুপুরে হাতিয়ার তমুরদ্দিন লঞ্চঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাওয়া ফারহান-০৪ লঞ্চের ৩২৮ নম্বর কেবিনে কলেজছাত্রীকে তুলে দেন তার বাবা। ঠিক একই সময় ওই লঞ্চঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে লঞ্চে ওঠেন মোহাম্মদ সাকিব উদ্দিন ও মোহাম্মদ নুরুজ্জামান মিঠু। লঞ্চ ছাড়ার কিছু সময় পর তারা ওই কলেজছাত্রীর কেবিনের দরজায় নক করেন।
এরপর তারা কৌশলে কেবিনে প্রবেশ করে তার বেডে বসে। কথাবার্তার একপর্যায়ে সাকিব উদ্দিন তাকে বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হলে অভিযুক্তরা তার গলা ও মুখ চেপে ধরে। এ সময় মিঠু তার মোবাইল ফোনটি কেড়ে নিয়ে কেবিন থেকে বের হয়ে যায়। পরে সাকিব উদ্দিন কেবিনের দরজা বন্ধ করে কলেজছাত্রীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, এ সময় ভুক্তভোগী চিৎকার করার চেষ্টা করলে সাকিব উদ্দিন ঘটনাটি কাউকে জানালে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেন এবং কেবিন থেকে বের হয়ে যান। পরে রাত ৮টার দিকে সাকিব ও মিঠু আবারও কেবিনে প্রবেশ করলে ভুক্তভোগী চিৎকার করার চেষ্টা করেন। তখন ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে তারা তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে আবারও জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
বর্তমানে ধর্ষণের শিকার ওই শিক্ষার্থী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এই ঘটনায় অভিযুক্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। এর আগে সোমবার সকালে ভুক্তভোগীর ভাই বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মোহাম্মদ সাকিব উদ্দিন (২৬), হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড পশ্চিম বড়দেইল গ্রামের সাহাব উদ্দিনের ছেলে এবং মোহাম্মদ নুরুজ্জামান মিঠু (৩২), একই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড জোটখালী গ্রামের আবুল কালামের ছেলে।
শহীদ








