ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

আওয়ামী লীগ সরকার শ্রমিক বান্ধব

নিজাম উদ্দিন হাজারী

প্রকাশিত: ২৩:৩৩, ৩০ এপ্রিল ২০২৪

আওয়ামী লীগ সরকার শ্রমিক বান্ধব

নিজাম উদ্দিন হাজারী

শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার শপথ নেওয়ার দিন পয়লা মে। সারা দুনিয়ার মতো আমাদের দেশেও এ দিনটি পালিত হয় যথাযথ মর্যাদায়। যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের শ্রমিকরা ১৮৮৬ সালের পয়লা মে বুকের রক্ত দিয়ে নিজেদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন। রক্তাক্ত আন্দোলনের মুখে মালিকপক্ষ ন্যায্য মজুরি ও দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজের সীমা মেনে নেয়। পয়লা মের পথ ধরে স্বীকৃত হয় শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার। 

১৮৮৬ সালের রক্তক্ষরণের এ দিনটি দুনিয়ার দেশে দেশে শ্রমিক সংহতির দিন হিসেবেও পালিত হয়ে আসছে। বুলেটবিদ্ধ শ্রমিকদের রক্তে ভেজা শার্ট আন্দোলন-সংগ্রামের লাল পতাকা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে শ্রমজীবী মানুষের কাছে। ১৮৮৬ সালে শিকাগো শহরে মালিকপক্ষের নৃশংসতার শিকার শ্রমিকরা প্রাণ দিয়ে প্রমাণ করেন শ্রমজীবী মানুষের শৃঙ্খল ছাড়া কিছুই হারানোর নেই। মহান মে দিবসের পথ ধরে পরে সংঘটিত হয় রুশ বিপ্লব। চীন, ভিয়েতনাম, উত্তর কোরিয়া, পূর্ব ইউরোপ, কিউবাসহ বিভিন্ন দেশে প্রতিষ্ঠিত হয় শ্রমিক শ্রেণির শাসন। মে দিবস বিশ্বজুড়ে সমাজবাদী চেতনারও বিকাশ ঘটায়।

বাংলাদেশে শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছেন রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা। তিনি স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের যে লক্ষ্য নিয়েছেন, সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে শ্রমিক শ্রেণি তার অন্যতম ভ্যানগার্ড। শেখ হাসিনা মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার নিশ্চিত করেছেন, তিনি ক্ষমতায় থাকলেই শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

উনষত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনায় জাতীয় শ্রমিক লীগ গঠন হয়। ছয় দফা আন্দোলনে শ্রমিক নেতা মনু মিয়া ও হাসানুজ্জামান প্রাণ দেন। মুক্তিযুদ্ধের সূচনাপর্বে চট্টগ্রাম বন্দরে পাকিস্তানী অস্ত্রবাহী সোয়াত জাহাজ অবরোধে শ্রমিক-জনতার আত্মবলিদান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

সভ্যতার মহান কারিগর শ্রমিক শ্রেণি। সমাজ প্রগতির পুরোভাগে শ্রমিক থাকলে গণতন্ত্র, সাম্য, মৈত্রী ও স্বাধীনতা নিরাপদ থাকবে। এই নিরাপদ থাকার সাহসী ঠিকানা শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগ সরকার শ্রমিক বান্ধব। তাই এই সরকারের আমলে দাবি আদায়ের জন্য শ্রমিকদের আন্দোলন করতে হয়নি। স্বপ্রণোদিত হয়ে শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এক সময় একজন শ্রমিক এক বেলা ভাতের জন্য সারাদিন পরিশ্রম করতেন। কিন্তু সেই চিত্র এখন আর নেই। দিন বদলে গেছে, বাংলাদেশ বদলে গেছে। এ দিনবদলের অন্যতম কারিগর হলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মানুষের জীবনযাত্রার মান বাড়ার পাশাপাশি শ্রমিকদের মজুরিও বেড়েছে। স্বাধীন দেশ উপহার দিয়েছেন জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান। তারই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত মুক্ত করেছেন।

শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই শেখ হাসিনার সরকার উন্নত বাংলাদেশ গড়ে চলেছেন। শেখ হাসিনার সরকার অর্থনীতি ও সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে শ্রমিক অধিকারের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েছে। মানবাধিকার এবং শ্রমিকের অধিকারের সুরক্ষায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় অঙ্গীকারের কারণে অর্থনীতি অবস্থায় আছে। বাংলাদেশের শ্রমিকদের জীবনমান পাল্টে গেছে। বদলে গেছে দিন, বদলে গেছে বাংলাদেশ। এ দিনবদলের অন্যতম কারিগর হলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

লেখক: সংসদ সদস্য, ফেনী-২ (সদর) ও ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

×