কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

মশা না জেনেই মানুষকে কামড়ায়!

প্রকাশিত : ৩ জুলাই ২০১৫

প্রতি বছর ম্যালেরিয়ায় বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার লোক মৃত্যুবরণ করে থাকে। ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র এক পরজীবী অনুজীব এই রোগের জন্য দায়ী। মশার কামড়ের মধ্য দিয়ে এই অনুজীব এক দেহ থেকে আরেক দেহে ছড়ায়। অথচ ব্যাপারটা ঘটে মশার অজ্ঞাতসারে ও অনিচ্ছাকৃতভাবে।

মশা মানুষ ও জীবজন্তুকে কামড়ায় তাদের রক্তপানের জন্য। তবে শুধু স্ত্রী জাতের মশাই কামড়ায়, পুরুষরা নয়। কারণ রক্ত তাদের প্রজননের জন্য প্রয়োজন। ডিম উৎপাদনের জন্য যে প্রোটিন, দরকার তা এই রক্তেই পাওয়া যায়।

বেশিরভাগ প্রজাতির স্ত্রীজাতীয় মশার জন্য মানুষ ও জীবজন্তুর রক্তপান একান্তই প্রয়োজন। তবে কিছু কিছু স্ত্রীজাতীয় মশা আছে, সেগুলো রক্তপানের জন্য জীবজন্তুর চেয়ে মানুষকেই বেশি পছন্দ করে। এদের বলা হয় এনথ্রোপোফিলিক। এরাই ম্যালেরিয়া জীবাণুর সবচেয়ে দক্ষ বাহক।

স্ত্রী মশা হুল ফুটিয়ে রক্তপানের সময় তাদের মুখের লালা মানুষের শরীরে চলে যায়। মশারা এই লালা জ্ঞাতসারেই দেয় যাতে করে তার টেনে নেয়া রক্ত খেতে পারে। রক্তপান করতে করতে তার শরীরের ওজন তিনগুণ, হয়ে যেতে পারে।

পাঁচ কোটি বছর আগে মশারা যেমন ছিল শারীরিক গঠনের দিক দিয়ে আজকের মশারাও ঠিক তাদের মতোই। তবে তাদের জেনেটিক বিবর্তন এমন হয়েছে যে, তারা দ্রুত প্রজনন করতে এবং হাজার হাজার বংশধর তৈরি করতে পারে। কিছু কিছু মশার আবার মশা মারার ওষুধ প্রতিরোধের ক্ষমতা গড়ে উঠেছে, যার ফলে মানুষকে মশার কামড় ঠেকাতে উদ্ভাবিত এই ওষুধে কাজ দিচ্ছে না এবং ম্যালেরিয়ারও বিস্তার ঘটে চলেছে।

একই জায়গায় থেকে কিছু কিছু মানুষ মশার কামড় খেয়ে অস্থির হয়, আবার কিছু মানুষের গায়ে মশা বসে না পর্যন্ত Ñ কামড়ানো তো পরের কথা। এর পেছনে কাজ করে শরীরের ঘ্রাণ, যা ঘামের মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসে। কারোর কারোর ঘামের গন্ধ মশাকে আকৃষ্ট করে আবার কারোর কারোর ঘ্রাণ মশার কাছে অনাকর্ষণীয়। এদের ঘ্রাণ প্রাকৃতিক রিপেলেন্ট হিসেবে কাজ করে।

আরেকটা ব্যাপারও আছে। ম্যালেরিয়ার জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত নয় এমন মশার তুলনায় ম্যালেরিয়ার জীবাণুবাহী মশা মানুষের শরীরের ঘ্রাণের প্রতি অধিকতর আকৃষ্ট হয়।

জেমস লোগান নামে এক ব্রিটিশ বিজ্ঞানী বলেন, যাদের শরীরের ঘ্রাণ মশার বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক রিপেলেন্ট হিসেবে কাজ করে তাদের সেই ঘ্রাণের জন্য দায়ী জিনটিকে চিহ্নিত করা গেলে মশার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার নতুন ওষুধ আবিষ্কার এবং মশাকে নিয়ন্ত্রণে আনা যেতে পারে।

তবে ম্যালরিয়ার ক্ষেত্রে মশা হলো গোটা সমস্যার অর্ধেকটা মাত্র। যে পরজীবী প্রটোজোয়া বা এককোষী অনুজীব ম্যালেরিয়া রোগের কারণ ঘটায় সেগুলোও মশার আচরণকে অনুকরণ করতে সমর্থ। এ কারণে সেই পরজীবীগুলোরও পরিবর্তন ঘটেছে এবং কোন কোন ম্যালেরিয়ার ওষুধ এই অনুজীব দমনে আর আগের মতো কার্যকর হতে পারছে না। এখানেই হলো এক মস্ত সমস্যা।

ড. লোগান দেখিয়েছেন যে, ম্যালেরিয়ার পরজীবী জীবাণু তাদের বাহক মশার আচরণ অনুকরণ করে। এই মশাগুলো তখন অতি অনুভূতিসম্পন্ন মশায় পরিণত হয়। এর পরিণতিতে সংক্রমিত মশার দ্বারা মানুষের আক্রান্ত হওয়ার এবং ম্যালেরিয়া জীবাণু এক দেহ থেকে অন্য দেহে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

প্রকৃতি ও বিজ্ঞান ডেস্ক

সূত্র : এনিমেল সায়েন্স

প্রকাশিত : ৩ জুলাই ২০১৫

০৩/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: