মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

‘জামদানিতে বিদেশি ক্রেতা টানতে সক্রিয় সরকার’

প্রকাশিত : ১ জুলাই ২০১৫, ০৫:০৫ পি. এম.

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, দেশের ঐতিহ্যবাহী জামদানি শিল্পের সুরক্ষা ও বিকাশে সরকার কাজ করছে। এ শিল্প উন্নয়নে ইতোমধ্যে পরিকল্পিত অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে; যাতে বিদেশি ক্রেতা এখানে এসে আরও আকৃষ্ট হতে পারেন। বুধবার জাতীয় জাদুঘরে ১০ দিনব্যাপী ‘জামদানি প্রদর্শনী-২০১৫’ মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) ও বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের যৌথ উদ্যোগে এ মেলার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, দেশের ঐতিহ্যবাহী শিল্প বিশেষকরে জামদানির বিকাশে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। এর জন্য পরিকল্পিত অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। রূপগঞ্জের তারাবোতে ২০ একর জমির ওপর একটি জামদানি পল্লীও গড়ে তোলা হয়েছে। যেখানে ৩৬৩টি প্লটে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়ে গেছে। সরকার এই পল্লীর আধুনিকায়ন করার চেষ্টা করছে; যাতে পোশাক শিল্পের মতো এ শিল্পের প্রতি বিদেশি ক্রেতারা আকৃষ্ট হতে পারেন। এই পল্লীতে এসে কিনতে পারে তাদের পণ্য। একই সঙ্গে বেশি বেশি অর্ডার দিতে পারেন। তবে জামদানি কারুশিল্পীদের নামে অন্য কেউ প্লট বরাদ্দ নিয়ে থাকলে, তা বাতিল করে দ্রুত প্রকৃত কারুশিল্পীদের মাঝে বরাদ্দ দিতে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পকে (বিসিক) নির্দেশনা দিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সরকার দেশের অর্থনৈতির উন্নতির জন্য বিভিন্ন স্থানে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। এখানে বিদেশি বিনিয়োগকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হবে। তবে যদি দেশিও কোনো বড় উদ্যোক্তা এই জোনে শিল্প স্থাপন করতে চায় তবে তারাও প্রাধান্য পাবে।

অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম জামদানির পাশাপাশি মিরপুরের বেনারসি পল্লীর বিকাশ নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, জামদানির মতো বেনারসি পল্লীর জন্য সরকার কাজ করছে। পদ্মার ওপারে একটি বেনারসি পল্লী স্থাপনের উদ্যোগ ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে শিল্প সচিব মোশাররফ হোসেন ভূইয়া বলেন, দেশিও এই পণ্যকে জনসাধারণের মাঝে তুলে ধরাই এই মেলার উদ্দেশ্য। আগের অভিজাত শ্রেণির জামদানি ক্রেতা ছিল। তবে আমাদের কারিগরদের দক্ষতার কারণে এখন জামদানি সবার জন্য ব্যবহার উপযোগী হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, ভারতীয় মার্কেটে বাংলাদেশের জামদানির অনেক চাহিদা রয়েছে। তবে ট্যারিফ সমস্যার সমাধান না হওয়ায় সেই চাহিদাকে কাজে লাগাতে পারছে না বাংলাদেশ। শিগগিরই এটা সমাধান হওয়া দরকার বলে মনে করেন তিনি।

বিসিক সভাপতি আহমদ হোসেন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী, বিসিক ও জাদুঘরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ, দশ দিনব্যাপী আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে ৩৮টি জামদানি শাড়ি ও বস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। এতে বাহারী নকশার জামদানি শাড়ি, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, মানিব্যাগ, রুমাল ও হাত ব্যাগ, মেয়েদের বিভিন্ন পোশাক, টেবিল ক্লথ ও অন্যান্য পণ্য প্রদর্শিত হচ্ছে। ক্রেতা দর্শকদের জন্য এ প্রদর্শনী প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

প্রকাশিত : ১ জুলাই ২০১৫, ০৫:০৫ পি. এম.

০১/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: