মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

পাঁচ বছরে কৃষি উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা

প্রকাশিত : ১৯ জুন ২০১৫
  • আসছে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা

হামিদ-উজ-জামান মামুন ॥ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী ৫ বছরে কৃষি উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা নিচ্ছে সরকার। এক্ষেত্রে খাদ্যশস্য, প্রাণিসম্পদ এবং মৎস্য খাত সব ক্ষেত্রেই অগ্রগতির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, লক্ষ্য বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক অর্থ বরাদ্দের বিষয়টিও লক্ষ্য রাখা হচ্ছে। আগামী জুলাই মাস থেকে শুরু হতে যাওয়া সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় এ মহাপরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, পরিকল্পনায় গবেষণা কাজে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এটি বাস্তব সম্মত। এর আগে মন্ত্রী বলেছিলেন, আমাদের প্রবৃদ্ধির এক তৃতীয়াংশ আসে কৃষি খাত হতে। কৃষি সামগ্রিক উন্নয়নের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন। খদ্যের কোন বিকল্প নেই। খাদ্যশক্তি যেমন প্রাণশক্তিকে বাঁচিয়ে রাখে আর প্রাণশক্তি শ্রমশক্তিকে বাচিয়ে রাখে।

পরিকল্পনা তৈরির দায়িত্বপ্রাপ্ত সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম বলেন, সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় কৃষি খাত উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য পূরণ করতে শিল্পের উন্নয়নের পাশাপাশি কৃষিতে বিশেষ নজর দেয়া প্রয়োজন। কেননা খাদ্য নিরাপত্তা বর্তমানে একটি বড় ইস্যু। এক্ষেত্রে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় শুধু শস্যই নয় এর বাইরে নন ক্রপস সেক্টর, লাইভ স্টোক উপখাত, ফিসারিজ উপখাত, ফরেস্ট্রি উপখাত, পানি সম্পদ, খাদ্য নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা এবং গ্রামীণ উন্নয়নের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকছে।

সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) সূত্র জানায়, আগামী ৫ বছরে ২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার আওতায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট চাহিদা ও লক্ষ্য নির্ধারণ করা হচ্ছে। এগুলো হলো, ২০১৫ সালে চালের প্রয়োজন হবে ২৮ দশমিক ৮ মিলিয়ন মেট্রিক টন, উৎপাদন হবে ৩৫ দশমিক ৩৯ মিলিয়ন মেট্রিক টন। ২০২১ সালে চালের চাহিদা হবে ৩২ দশমিক ৮০ মেট্রিক টন আর পরিকল্পনা অনুযায়ী উৎপাদন হবে ৩৬ দশমিক ৮১ মিলিয়ন মেট্রিক টন। গমের ক্ষেত্রে দেখা যায় ২০১৫ সালে উৎপাদন হয়েছে ১ দশমিক ১৬ মিলিয়ন মেট্রিক টন আর পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২১ সালে গমের উৎপাদন হবে ১ দশমিক ৪০ মিলিয়ন মেট্রেক টন। আলু ২০১৫ সালে উৎপাদন হয়েছে ৮ দশমিক ৭৬ মিলিয়ন মেট্রিক টন, পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২১ সালে সেটি বেড়ে দাঁড়াবে ১০ দশমিক ৩৪ মিলিয়ন মেট্রেক টনে। তৈল বীজ ২০১৫ সালে উৎপাদন শূন্য দশমিক ৪৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন, সেটি পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২১ সালে বেড়ে দাঁড়াবে শূন্য দশমিক ৫২ মিলিয়ন মেট্রিক টন।

দুধ, মাংস এবং ডিমের ক্ষেত্রে চাহিদা ও উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হচ্ছে। এগুলো হলো, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে দুধের চাহিদা ছিল ১৪ দশমিক শূন্য ২ মিলিয়ন টন, উৎপাদিত হয়েছে ৬ দশমিক শূন্য ৯ মিলিয়ন টন, পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দুধের চাহিদা হবে ১৪ দশমিক ৬১ মিলিয়ন টন আর উৎপাদন হবে ৭ দশমিক ৬০ মিলিয়ন টন। ২০২০-২১ অর্থবছরে চাহিদা হবে ১৫ দশমিক ২২ মিলিয়ন টন আর উৎপাদন হবে ১০ দশমিক ৩৫ মিলিয়ন টন।

মাংসের ক্ষেত্রে দেখা যায়, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৬ দশমিক ৭৩ মিলিয়ন টন আর উৎপাদন ৪ দশমিক ৫২ মিলিয়ন টন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৬-১৭ অর্থবছরে চাহিদা হবে ৭ দশমিক শূন্য ১ মিলিয়ন টন আর উৎপাদন হবে ৫ দশমিক ২৬ মিলিয়ন টন। ২০২০-২১ অর্থবছরে মাংসের চাহিদা হবে ৭ দশমিক ৭০ মিলিয়ন টন আর উৎপাদন হবে ৬ দশমিক ৭০ মিলিয়ন মেট্রিক টন।

ডিমের ক্ষেত্রে দেখা যায়, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে চাহিদা ছিল এক হাজার ৫৯৭ কোটি ৪৪ লাখ পিস ডিমের আর উৎপাদন এক হাজার ১৬ কোটি ৮০ লাখ পিস। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ডিমের চাহিদা হবে এক হাজার ৬৬৫ কোটি ২ লাখ পিস আর উৎপাদন হবে এক হাজার ২০০কোটি ৭৪ লাখ পিস। ২০২০-২১ অর্থবছরে ডিমের চাহিদা দাঁড়াবে এক হাজার ৭৩৪ কোটি ৪০ লাখ আর উৎপাদন হবে এক হাজার ৫৮৪ কোটি ৪৩ লাখ পিস। ডিম উৎপাদন ও চাহিদা বিষয়ে ড. শামসুল আলম বলেন, এত ডিম উৎপাদন হচ্ছে এবং সক্ষমতা অনেক বেড়েছে। তারপরও দেখা যাচ্ছে চাহিদার তুলনায় উৎপাদন এখনও কম রয়েছে। সুতরাং পরিকল্পনা অনুযায়ী দুধ, ডিম এবং মাংসের উৎপাদন বাড়বে, তবে চাহিদাও বাড়বে তার অনেক বেশি। ফলে চাহিদার তুলনায় উৎপাদনে ঘাটতি থেকেই যাবে।

মৎস্য সম্পদ উন্নয়ন এবং চিংড়ি চাষ বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ থাকছে এই মহাপরিকল্পনায়।

অর্থ বরাদ্দের লক্ষ্য মাত্রা ॥ এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আগামী পাঁচ বছরে মন্ত্রণালয় ভিত্তিক অর্থ বরাদ্দের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে, কৃষি মন্ত্রণালয়ের জন্য ২০১৬ অর্থবছরে ১৮ দশমিক ৭ বিলিয়ন টাকা, ২০১৭ অর্থবছরে ২৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন টাকা, ২০১৮ অর্থবছরে ২৯ দশমিক ৪ বিলিয়ন টাকা, ২০১৯ অর্থবছরে ৩৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন টাকা এবং ২০২০ অর্থবছরে বিনিয়োগ করতে হবে ৪০ দশমিক ৮ বিলিয়ন টাকা।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে আগামী পাঁচ বছরের প্রস্তাবিত অর্থ বরাদ্দ হচ্ছে। ২০১৬ অর্থবছরে থেকে ২০২০ অর্থবছর পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে ৬ দশমিক ১ বিলিয়ন টাকা, ৭ দশমিক ৮ বিলিয়ন টাকা, ৯ দশমিক ৩ বিলিয়ন টাকা, ১১ বিলিয়ন টাকা এবং ১২ দশমিক ৯ বিলিয়ন টাকা।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে আগামী পাঁচ বছরে প্রস্তাবিত অর্থ বরাদ্দ হচ্ছে, ২০১৬ অর্থবছর থেকে ২০২০ অর্থবছর পর্যন্ত যথাক্রমে ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন টাকা, ৮ দশমিক ১ বিলিয়ন টাকা, ৯ দশমিক ৭ বিলিয়ন টাকা, ১১ দশমিক ৪ বিলিয়ন টাকা এবং ১৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন টাকা।

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে আগামী পাঁচ বছরে প্রস্তাবিত অর্থ বরাদ্দ হচ্ছে, ২০১৬ থেকে ২০ অর্থবছর পর্যন্ত যথাক্রমে ২৮ দশমিমক ১ বিলিয়ন টাকা, ৩৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন টাকা, ৪৩ দশমিক ৯ বিলিয়ন টাকা, ৫১ দশমিক ৬ বিলিয়ন টাকা এবং ৬০ দশমিক ৮ বিলিয়ন টাকা। পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের অনুকূলে আগামী পাঁচ বছরে প্রস্তাবিত অর্থ বরাদ্দ হচ্ছে, যথাক্রমে ১০ বিলিয়ন টাকা, ১৩ বিলিয়ন টাকা, ১৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন টাকা, ১৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন টাকা এবং ২১ দশমিক ৫ বিলিয়ন টাকা।

প্রকাশিত : ১৯ জুন ২০১৫

১৯/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

অর্থ বাণিজ্য



ব্রেকিং নিউজ: