কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ঢাকা সফরে নয়া অধ্যায় শুরুর ইঙ্গিত মোদির

প্রকাশিত : ৩১ মে ২০১৫, ০২:০৩ পি. এম.
  • আনন্দবাজারকে মোদি

অনলাইন ডেস্ক ॥ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মনে করেন, তার ঢাকা সফরে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে এক নতুন অধ্যায় সূচিত হবে। দেশটির আনন্দবাজার পত্রিকাকে গত শনিবার তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে মধুর সম্পর্ক দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলে শান্তি এবং স্থায়িত্ব নিয়ে আসবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কথা বলে সংসদের অনুমোদন নিয়েই বাংলাদেশের সঙ্গে স্থলসীমান্ত চুক্তিটি করতে চলছে ভারত। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর থেকে এই সীমান্ত নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছিল। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ রাষ্ট্র গঠনের পরও সেই বিতর্ক রয়ে গেছে। আমরা এই বিতর্কের অবসান ঘটানোর চেষ্টা করছি এবং সেটা সর্বসম্মতির ভিত্তিতে। এটা আদৌ সামান্য ঘটনা নয়।’ সীমান্ত নিয়ে মনোমালিন্য মিটে গেলে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বন্ধুত্ব আরও মজবুত হবে বলে মনে করেন তিনি।

ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজও শনিবার বলেন, ‘নেহরু প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন ১৯৪৭ সালে। তারপর প্রায় ৬৮ বছর কেটে গেছে। এত দিন পরে দু’দেশের সীমান্ত সমস্যা সমাধানের একটা সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এটা দারুণ ব্যাপার!’

মোদি শনিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় বাংলাদেশ নিয়ে বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে বন্দর, পানিপথে বাণিজ্য, মানবপাচারবিরোধী পদক্ষেপ ইত্যাদি।

ঢাকা সফরের গুরুত্ব সম্পর্কে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের মোদি বলেন, ‘আয়তনে বাংলাদেশ ছোট হলেও আমাদের কাছে দেশটির ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব অনেক।’ হাসিনা সরকার বেশ কয়েক বছর ধরে সন্ত্রাস দমনে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে উন্নয়নই দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক মজবুত করার কাজে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হতে পারে বলে মনে করেন মোদি। তিনি বলেন, দু’দেশের মধ্যে যোগাযোগ যত বাড়বে, পারস্পরিক আস্থাও তত বাড়বে।

এ দিনের মন্ত্রিসভায় ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে জাহাজ পরিবহন বিষয়ক একটি চুক্তির খসড়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সীমান্তবর্তী চেকপোস্ট ও ল্যান্ড কাস্টমস স্টেশন এলাকায় দ্রুত সড়ক তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ায় এই মুহূর্তে ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য সহযোগী বাংলাদেশ। এই চুক্তি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।

এ দিন মানবপাচারবিরোধী এক বিশেষ খসড়াতেও অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

স্থলসীমা নিয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ছবি তুলে ধরতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সফরসঙ্গী হতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন মোদি। মমতা মোদির একদিন আগে ৫ জুন রাতে কলকাতা থেকে ঢাকা পৌঁছাবেন। শনিবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই ওই খবর জানিয়ে বলেছেন, ‘ওখানে স্থলসীমান্ত চুক্তি সই এবং কলকাতা থেকে ঢাকা হয়ে আগরতলা বাসরুটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমি উপস্থিত থাকব।’ ৬ তারিখই ফিরছেন মমতা। মোদি ফিরবেন একদিন পরে, ৭ তারিখে।

প্রধানমন্ত্রীর দফতর সূত্রে বলা হচ্ছে, দুই দেশের মধ্যে স্থলসীমান্তের সবচেয়ে বড় অংশটি রয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। এ কারণে মোদির এই সফরে মমতার সঙ্গী হওয়াটা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

আনন্দবাজারের ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মোদির সঙ্গে হাসিনার বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তিস্তা চুক্তির বিষয়টি তোলা হবেই। তবে প্রকাশ্যে তিস্তা নিয়ে মোদি কোনো কথা বলবেন না বলেই ঠিক হয়েছে। এমনকি কোনো যৌথ বিবৃতিতেও তিস্তার উল্লেখ থাকবে না। কিন্তু গঙ্গা এবং তিস্তা ছাড়া আরও ৫৪টি নদীর পানিবণ্টন ঘিরে দুই দেশের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে, এগুলো খতিয়ে দেখার একটা আশ্বাস ভারতের পক্ষ থেকে দেওয়া হতে পারে। এ বিষয়গুলোকে যৌথ নদী কমিশনের আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টাও হতে পারে বলে সূত্রের খবর। তবে তিস্তাজট ছাড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর তরফে উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের আমলে তিস্তা নিয়ে যে সমাধানসূত্রটি তৈরি করা হয়েছিল, তাতে বলা হয়েছিল শুষ্ক মৌসুমে তিস্তায় যে পরিমাণ পানি থাকবে তা দুই দেশের মধ্যে সমান ভাগে ভাগ হবে। এর মধ্যে আবার প্রত্যেক দেশ থেকেই চার ভাগ পানি বরাদ্দ রাখা হবে নদী খাতে নাব্য বজায় রাখতে চার্জিংয়ের জন্য।

কিন্তু মমতা এই প্রস্তাবে রাজি হননি। তার যুক্তি, শুষ্ক মৌসুমে তিস্তায় কার্যত পানিই থাকে না। আর বর্ষার সময় বাংলাদেশ পানি পায় প্রকৃতির নিয়মেই। তাই সমস্যা মূলত শুষ্ক মৌসুমেই। এদিকে সিকিম প্রশাসন তিস্তায় প্রায় ৮টি হাইড্রোলিক বাঁধ তৈরি করেছে। মমতার আপত্তি রয়েছে এ নিয়েও। সিকিমের বক্তব্য, তারা পানি আটকে বাঁধ দেয়নি। মমতা দাবি করে আসছেন, সিকিমের এই দাবি যাচাই করার দায়িত্ব পুরোপুরি কেন্দ্রের।

সূত্রের খবর, তিস্তা চুক্তি সম্ভব হলে ওই নদী সংস্কার এবং পানি সরবরাহের ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বিশ্বব্যাংক থেকে বিপুল ঋণ পাওয়া যাবে। ফলে এখন তিস্তা প্রকল্পে ভারতের যে ৫৮ হাজার হেক্টর জমিতে পানি যায়, ভবিষ্যতে তা ৯ লাখ হেক্টর জমিতে সরবরাহ করা যেতে পারে। কিন্তু কেন্দ্র-রাজ্যের এই বিতর্ক এখনো মেটেনি। ফলে হাসিনা সরকারের কাছ থেকে মোদিকে আরও খানিকটা সময় নিতে হবে।

প্রকাশিত : ৩১ মে ২০১৫, ০২:০৩ পি. এম.

৩১/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: