আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

সফল নারী উদ্যোক্তা বেবী

প্রকাশিত : ২৯ মে ২০১৫

লায়লা আরজুমান বেবী। একজন সফল নারী উদ্যোক্তা। বাড়ি চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর গ্রামে। যিনি অল্প বয়সে বিধবা হয়েও ভেঙ্গে পড়েননি। একদিকে শিশুকন্যা উর্মি ও নাবালিকা আফসানার লালন পালন অন্যদিকে জীবনযুদ্ধে সংগ্রামের কাছে হারেননি তিনি। সংসার চালানোর পাশাপাশি ধীরে ধীরে একক প্রচেষ্টায় গড়ে তুলেছেন ৫ হাজার ধারণক্ষমতার দুটি ব্রয়লার মুরগির খামার। এই খামারের মুরগির বিষ্ঠা দিয়ে চলে বায়োগ্যাস প্লান্ট। এখান থেকে উৎপাদিত বিদ্যুত তার খামার ও গৃহস্থলির কাজে ব্যবহার হয়। পরিশ্রমী ও সংগ্রামী নারী বেবীর সফলতা এলাকার বেকার যুবকদের উদ্যোগী করে তুলেছে। অনেকেই তাঁর দেখানো পথে হেঁটেই গড়েছেন মুরগির খামার, পাচ্ছেন সফলতা।

লায়লা আরজুমান বেবীর স্বামী আলতাফ হোসেন মারা যান ২০০১ সালে। দুটি সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ২০০৯ সালে তিনি মাত্র ২ লাখ টাকা নিয়ে একটি সেড তৈরি করেন। সেখানে ৫০০ মুরগির বাচ্চা দিয়ে শুরু করেন খামার ব্যবসা। গল্পের শুরুটা সেই ২০০৯ সালের। এরপর আর তাঁকে পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি। পরিশ্রম ও মেধা দিয়ে একে একে গড়ে তুলেছেন ১০ কাঠা জমির ওপর দ্বিতল ভবন বিশিষ্ট ২০০০ হাজার মুরগির ধারণক্ষমতার সেড। একদিকে মুনাফা বৃদ্ধি অন্যদিকে তাঁর পালিত মুরগির বাজারে ব্যাপক চাহিদা তাঁকে আরও একটি খামার গড়তে উৎসাহিত করে। এরপর তিনি পৈত্রিকভাবে পাওয়া ৫ কাঠা জমির ওপর আড়াই হাজার মুরগি ধারণক্ষমতার আরও একটি সেড তৈরি করেন। বর্তমানে তাঁর খামারের সংখ্যা দুটি, যেখানে সাড়ে ৪ হাজার মুরগি পালন করেন। খামারি লায়লা আনজুমান বেবী বলেন, ২০০১ সালে আকস্মিক আমার স্বামী মারা যান। তখন কোন দিশা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। কিভাবে আমার সংসার চলবে। মেয়ে দু’টোকে কিভাবে মানুষ করব। এই চিন্তায় যখন মাথা ঘুরপাক খাচ্ছিল ঠিক তখনই আমার এক আত্মীয়র পরামর্শে খামার করার সিদ্ধান্ত নিই। প্রথমে ৫০০ মুরগির বাচ্চা দিয়ে খামার ব্যবসা শুরু করি। এই খামারের লাভের টাকা দিয়েই গড়েছি বাড়ি, কিনেছি ধানি জমিসহ ২০ লাখ টাকার সম্পদ। এর পাশাপাশি দুই মেয়েকে লেখাপড়া শিখিয়েছি। বড় মেয়ে ঢাকার একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। ছোট মেয়ে পড়ে অষ্টম শ্রেণীতে। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কোহিনুর ইসলাম বলেন, বেবি কঠোর পরিশ্রমী। তাঁর ব্রয়লার মুরগির খামারের আয় দিয়ে সে সংসার চালায়। তাঁর দেখাদেখি আশাপাশের অনেক নারী-পুরুষ মুরগির খামার করেছেন। এতে দেশে আমিষের অভাব পূরণের পাশাপাশি দূর হচ্ছে বেকারত্ব। এছাড়াও তিনি বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন করে বিদ্যুত ঘাটতি মিটিয়ে পরিবেশ দূর্ষণ রোধ করছেন।

রাজীব হাসান কচি, চুয়াডাঙ্গা

প্রকাশিত : ২৯ মে ২০১৫

২৯/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: