কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

নজরুলের কাছে আমাদের ঋণ

প্রকাশিত : ২২ মে ২০১৫
  • আহমদ ছফা

বাংলা কাব্য গগনে কাজী নজরুল ইসলামের আবির্ভাব নানা কারণেই একটা যুগান্তকারী ঘটনা। বাংলা কবিতার বিকাশধারায় নজরুল একটা চমৎকার ক্যাটালিস্ট বা অনুঘটকের ভূমিকা পালন করেছিলেন, সে বিষয়ে সাহিত্য-সমালোচকদের অনেকেই একমত। তাঁর সাধনার সিদ্ধির ব্যাপারে মতান্তর থাকতে পারে, কিন্তু শক্তি সন্বন্ধে মতদ্বৈধতার অবকাশ অল্পই আছে।

সে যা হোক, বর্তমান রচনাটি নজরুলের কাব্যের উৎকর্ষ-অপকর্ষ নিরূপণের উদ্দেশ্যে লিখিত নয়। সমস্ত সীমাবদ্ধতা, অসম্পূর্ণতা এবং অসঙ্গতি সত্ত্বেও কবি হিসেবে, মানুষ হিসেবে, যুগনায়ক হিসেবে কাজী নজরুল ইসলাম যথার্থই যে একজন অনন্য পুরুষ, এই অনন্যতার একটি পরিচয় তিনি কবিতা, গান, এমনকি গদ্য রচনায়ও যে ভাষারীতিটি ব্যবহার করেছেন, তার মধ্যে মূর্ত করে তুলেছেন। বক্ষ্যমান প্রবন্ধে নজরুলের ব্যবহৃত ভাষা রীতিটির একটি ঐতিহাসিক-সামাজিক পরিপ্রেক্ষিত আবিষ্কারের চেষ্টা করা হয়েছে।

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে শুরু করে আধুনিক যে ভাষাটি গিরিগাত্রের সংকীর্ণা স্রোতস্বিনীর মতো বিকশিত হতে হতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অবধি এসে ভরা যৌবনা প্রমত্তা পদ্মার আকার ধারণ করেছিল, নজরুল ইসলাম সেই ভাষাতেই গান-কবিতা রচনা করেছিলেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে শুধুমাত্র এটিকেই কাজী নজরুল ইসলামের অনুসৃত ভাষারীতি বলে স্বীকার করে নিলে, আজকের দিনে আমরা নজরুল সাহিত্যের অভিনবত্ব বলতে যে জিনিসটি বুঝি বা বোঝাতে চাই, তার ওপর সুবিচার করা হবে না।

সচরাচর সাহিত্য-সমালোচকরা প্রায় সকলেই একটি অভিধা নজরুলের বেলায় প্রয়োগ করে থাকেন। তিনি এন্তার আরবী-ফার্সী শব্দ বাংলা ভাষায় সার্থকভাবে প্রয়োগ করেছিলেন। এ সকল বিভাষী শব্দের প্রয়োগ-নৈপুণ্যের ব্যাপারে নজরুলের দক্ষতা তাঁর সময়কার সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বা মোহিতলাল মজুমদার অপেক্ষা কিঞ্চিৎ অধিক। তবে এটা নিছকই বাইরের ব্যাপার, তারপরেও কিন্তু অনেক কথা থেকে যায়। নজরুলের আরবী-ফার্সী শব্দ ব্যবহারের বেলায় তাঁর একটা গাঢ় অঙ্গীকার প্রকাশ পেয়েছে, কোনো কোনো সময় সেটা এক ধরনের অনমনীয় জেদ বলেও মনে হয়। মোহিতলাল কিংবা সত্যেন দত্তের কাছে আরবী-ফার্সী শব্দের ব্যবহার ছিল এক ধরনের স্বাদ পাল্টানোর মতো ব্যাপার। কবিতার প্রকাশভঙ্গির মধ্যে বৈচিত্র্য এবং ভারব্যঞ্জনা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে মোহিতলাল-সত্যেন দত্ত আরবী-ফার্র্সী শব্দ বাংলা কবিতায় নিয়ে এসেছেন। প্রমথ চৌধুরী মশায় ফিরনির মধ্যে কিশমিশের মতো গদ্যের মধ্যে আচমকা দু-একটি আরবী-ফার্সী শব্দের ব্যবহার করে যে ধরনের চমক সৃষ্টির ওস্তাদি দেখাতেন, অনেকটা সেরকম।

নজরুলের আরবী-ফার্সী শব্দ ব্যবহারেও চমক সৃষ্টি হতো বটে, কিন্তু সে সকল শব্দ ব্যবহারের আরো গুরুতর কারণ কবির উপলব্ধির গভীরে প্রোথিত ছিল। যে সকল আরবী-ফার্সী শব্দ নজরুল ব্যবহার করেছেন, সেগুলোর প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ করলে একটি পরিষ্কার ধারণার সৃষ্টি হবে। কতিপয় আরবী-ফার্সী শব্দ তাঁর কবিতা-গানে একেবারে মনের ভেতর থেকে উঠে এসেছে। আর কতেক শব্দ তিনি ভাষাজ্ঞানের জোরে বাংলা কবিতায় নিয়ে এসেছেন। যে শব্দগুলো একেবারে তাঁর অস্তিত্বের ভেতর থেকে মাতৃভাষার মতো স্বাভাবিকতায় বেরিয়ে এসেছে সেগুলোর পরিপূরক হিসেবে পড়ে পাওয়া শব্দগুলো এসে পোষ মেনেছে।

তাই মোহিতলাল কিংবা সত্যেন দত্তের আরবী-ফার্সী শব্দের ব্যবহার ছিল একটা নিরীক্ষার ব্যাপার মাত্র। কাজী নজরুর ইসলামের মধ্যে ক্রিয়াশীল ছিল একটা ঐতিহাসিক কর্তব্যবোধ। নজরুল ইসলাম তাঁর কাব্যভাষা নির্মাণে চলতি ভাষারীতির পাশাপাশি গৌণভাবে হলেও মুসলমান লিখিত পুঁথিসাহিত্যের ভাষাশৈলীটির দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তাঁর সৃষ্টিশীলতার স্পর্শে পুঁথিসাহিত্যের ভাষার মধ্যে নতুন একটা ব্যঞ্জনার সৃষ্টি হয়েছে। এই বিষয়টিকে শুধুমাত্র সাহিত্যস্রষ্টার বিশেষ স্টাইল হিসেবে চিহ্নিত করলে নজরুলের সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নটি উপেক্ষা করা হবে বলে মনে করি।

পাছে প্রতিবেশী হিন্দু সমাজের পাঠকেরা উপহাস করতে পারেন, এই হীনম্মন্যতা থেকেই কি মুসলমান লেখকেরা আপন সমাজে, পরিবারে, সংসারে সচরাচর ব্যবহৃত আরবী-ফার্সী শব্দসমূহ তাঁদের রচনায় যতটা সম্ভব পরিহার করতেন? বঙ্কিমচন্দ্র মীর মশাররফ হোসেনের রচনা পাঠ করে মন্তব্য করেছিলেন, ‘এই লেখকের রচনা পেঁয়াজ-রসুনের গন্ধ বেশি পাওয়া যায় না’। এটাকেই গ্রন্থ রচনার সবচাইতে বড় প্রশংসা বলে মুসলমান লেখকেরা কবুল করে নিয়েছিলেন।

মুসলিম লেখকেরা অবশ্য কলকাতাকেন্দ্রিক ভাষারীতি গ্রহণ করে সুবুদ্ধির পরিচয় দিয়েছিলেন। দুনিয়ার সব দেশেই ভাষার সর্বাধিক বিকশিত রূপটিকেই তাঁদের লেখার মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করে থাকেন লেখকরা। মুসলমান সমাজের সাংস্কৃতিক নেতা বলে স্বীকৃত লেখক-কবিরাও তাই করেছিলেন।

কাজী নজরুল ইসলামের বেলায় একটা ভিন্ন রকমের ব্যাপার ঘটে গেল। তাঁর রচনায় আরবী-ফার্সী এবং উর্দু শব্দাবলী প্রাণ-পাতালের উত্তাপে যেন ভাপিয়ে উঠতে থাকল। এটা কেন ঘটল, নজরুল ইসলাম এ সকল শব্দ কেন ব্যবহার করতে থাকলেন, জানা মতে কোনো লিখিত কৈফিয়ত তিনি কোথাও দেননি। যদি তাঁকে কৈফিয়ত দিতে হতো সম্ভবত আত্মপক্ষ সমর্থনে এ জাতীয় কথা তিনি বলতেনÑ মুসলমান সমাজে পেঁয়াজ-রসুনের চল আছে। তাই মুসলমানের রচনায় পেঁয়াজ-রসুনের গন্ধ থাকবেই। সেটা গোপন করা কোনো ভালো কাজ নয়। কারো নাসারন্ধ্রে সেজন্য যদি ব্যাঘাত সৃষ্টি করে, করার কি আছে! এমনকি সে নাসারন্ধ্র স্বয়ং সাহিত্য-সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্রেরও হতে পারে। তারপরেও তো একটা সমাজকে তার আত্মপরিচয় ফুটিয়ে তুলতে হবে। পুঁথিসাহিত্যের ভাষা নিয়ে কৃতবিদ্যা প-িতেরা যতই নাসিকাকুঞ্চন করুন না কেন, এই ভাষাটি কদাপি উর্দু, আরবী এবং ফার্সী ভাষা নয়। এটা বাংলা ভাষারই একটা বিশেষ ফলিত রূপ। একটি সমাজের মধ্যে তার যথেষ্ট আদর রয়েছে এবং সেই বিশেষ সমাজের অন্তরঙ্গ অভিজ্ঞতাসমূহ এই ভাষার মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে। নজরুল ইসলাম সাহিত্যে নাসিকা-সমস্যা সমাধানের জন্য একটা ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করলেন। অর্থাৎ তিনি অধিকহারে ঐ জাতীয় শব্দ ব্যবহার করতে থাকলেন। তাঁর দক্ষতা সুফলপ্রসূ হয়েছিল। সর্বশ্রেণীর পাঠক ক্রমে ‘যাবনী মিশাল’ ভাষাভঙ্গির সঙ্গে পরিচিত হয়ে ওঠেন। হিন্দু সমাজের অগ্রণী সাহিত্যিকেরা এই অভিনব ক্ষমতা প্রকাশের জন্য নজরুলকে অভিনন্দিত করেছিলেন এবং তাঁরাই ছিলেন তাঁর সাহিত্যের প্রাথমিক সমঝদার। আর মুসলমান সমাজের চেনাজানা মানুষদের অনেকে, যাঁরা ঘরে-সংসারে উচ্চারিত শব্দসমূহ প্রকাশ্যে উচ্চারণের দুঃসাহস কখনো প্রদর্শন করেননি। তাঁদেরই একাংশ, মহাসমারোহে নজরুলকে ‘কাফের’ ফতোয়া দিতে এগিয়ে এলেন। সেই মূঢ়তার আলোচনা অবশ্য বর্তমান প্রবন্ধের বিষয়বস্তু নয়।

নজরুল ইসলামের আরবী-ফার্সী শব্দের ব্যবহারের মধ্যে অতীতের পুঁথিসাহিত্যের নবজীবন দানের ইশারা লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু নজরুল পুঁথি লেখেননি। আধুনিক যগোপযোগী সাহিত্য সৃষ্টি করছিলেন। শুধুমাত্র ফোর্ট উইলিয়ম কলেজের প-িতদের প্রয়াসের ফলে স্তব্ধ হয়ে যাওয়া একটা ভাষারীতিকে বাংলা সাহিত্যের স্বাভাবিক প্রবাহের সঙ্গে যুক্ত করে দিয়ে বাংলা ভাষাকে জনগোষ্ঠীর সত্যিকার প্রতিনিধিত্বশীল ভাষা হিসেবে গড়ে তোলাই ছিল তাঁর লক্ষ্য। এতে তিনি যে সফলতা লাভ করেছিলেন, এক কথায় তাকে অতুলনীয় বললে অধিক বলা হবে না। নজরুল মসুলমানদের ঘরে-সংসারে ব্যবহৃত শব্দসমূহ ব্যবহার করে এমন একটা প্রক্রিয়া সূচনা করলেন, যার ফলে বাংলা ভাষার অভিধান- সংকলকদের প্রতি নতুন সংস্করণে নতুন-নতুন শব্দ সংযোজনের একটা বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি হয়ে গেল। এটা নজরুল ইসলামের একটা বড় কৃতিত্ব।

সাহিত্যস্রষ্টা হিসেবে এই ভাষারীতি ব্যবহারে নজরুলের সাফল্যের পিছনে দুটি কারণ বর্তমান। প্রথমত, রবীন্দ্রনাথ পর্যন্ত সময়ে এসে বাংলা ভাষা যে গতিময়তা অর্জন করেছিল নজরুল ইসলাম এই প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণরূপে আত্মস্থ করেছিলেন। বাংলা ভাষা যে সর্বাধিক শব্দসম্ভার সংস্কৃত থেকে ধার করেছে, সে দিকটিতে নজরুল সজাগ এবং ওয়াকিবহাল ছিলেন। তিনি তাঁর রচনায় আরবী-ফার্সী শব্দ ব্যবহার করেছেন বটে, এমনটি ইচ্ছা করলে অন্য কোন বিদেশী ভাষার একটি শব্দও ব্যবহার না করে বিশুদ্ধ সংস্কৃত-প্রধান বাংলা গান, কবিতা, গদ্য সৃষ্টি করতে পারতেন; নজরুলের সাহিত্য-সঙ্গীতে তার প্রচুর প্রমাণ রয়েছে। নজরুল যদি পুরোপুরি এই ভাষারীতি অবলম্বন করে সাহিত্য-সঙ্গীত সৃষ্টি করতেন, তাহলে আজকে তাঁর সাহিত্যের রস গ্রহণ করার জন্য ভিন্ন ধরনের বিচার-বিশ্লেষণ এবং মানদ- নিরূপণের প্রয়োজন হতো।

দ্বিতীয়ত, কাজী নজরুল ইসলাম মুসলিম সমাজে আত্মগোপন করে থাকা পুঁথি-সাহিত্যের ভাষারীতির সঙ্গে পুরোপুরি পরিচিত ছিলেন। তাঁর বাল্য এবং কৈশোরের একটা উল্লেখযোগ্য সময় তাঁকে এই পুঁথি সাহিত্যের পরিম-লে কাটাতে হয়েছে। এই সাহিত্যের শৈল্পিক উৎকর্ষ-অপকর্ষ সম্বন্ধে একটা বিশেষ ধারণা তাঁর গড়ে উঠেছিল। সমাজের যে অংশের মানুষের মধ্যে এই সাহিত্যের চল্ ছিল, সেই মানুষদের মানস-জগৎ এবং মনস্তাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য সম্বন্ধে তিনি জানতেন। সর্বোপরি বোধবুদ্ধিতে পরিপক্বতা অর্জনের পূর্বে এই ধরনের সাহিত্যের প্রতি একটা অনপনেয় শ্রদ্ধাবোধ জন্মানোই হলো আসল কথা। নিজের সমাজের চর্চার জিনিস কিছুতেই ফেলনা হতে পারে না। বাকরুদ্ধ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তাঁকে এ বোধ আমরা লালন করতে দেখি।

নজরুল সাহিত্যে বাংলা কাব্যভাষার যেমন সৃষ্টিশীল প্রকাশ ঘটেছে, তেমনি এই পুঁথিসাহিত্যের ভাষাটিও সৃষ্টিশীল নির্বাচনের মাধ্যমে বিশিষ্টতা অর্জনের পর সাহিত্যে স্থান করে নিয়েছে। নজরুল পুঁথি সাহিত্যের প্রাণের আগুনটুকু গ্রহণ করেছেন, তার জীর্ণ কঙ্কাল বহন করেননি। তাই নজরুল সাহিত্যে পুঁথিসাহিত্যের জীবাশ্ম দৃষ্টিগোচর হলেও সেই ভাষা-কাঠামো খুঁজে পাওয়া যাবে না। পুঁথি-লেখকেরা বাঙালী মুসলমানের স্বাতন্ত্র্য-চেতনা উজ্জ্বল করে দেখার উদ্দেশ্যেই এই বিশেষ ভাষারীতি তৈরি করেছিলেন। নজরুল স্বাতন্ত্র্য-প্রয়াসী এই মুসলিম সমাজটিকে বাঙালী সমাজেরই একটি অংশ হিসেবে প্রমাণ করার জন্যই ঐ ভাষা ব্যবহার করেছিলেন।

নজরুল উর্দু ভাষায় গজল ও গান লিখেছেন। রাজ নওয়াব আলী রচিত সঙ্গীত বিষয়ক আকরগ্রন্থ ‘মারিফুন্নাগামাতে’র অংশবিশেষের স্বচ্ছন্দ বাংলা তর্জমা করেছিলেন। ভাষার ওপর কি রকম দখল থাকলে এরকম একটি দুরূহ গ্রন্থের এমন সাবলীল অনুবাদ করা যায়, তা অনুমান করা অসম্ভব নয়। হাফিজ এবং ওমর খৈয়ামের গজল-রুবাই-এর মূল ফার্সী থেকে তিনি বাংলায় কাব্যিক রূপান্তর ঘটিয়েছিলেন। সুতরাং ফার্সীর ওপর নজরুলের পরিপূর্ণ দখল ছিল, এটা অনুমান এবং কল্পনার বিষয় নয়। হিন্দী ভাষায় রচিত নজরুলের ভজন নেহায়েত কম নয়। ভাষাটি না জানলে শুধুমাত্র স্মৃতি এবং শ্রুতির ওপর ভরসা করে ভজন রচনা সম্ভব নয় বলেই ধারণা করি।

নজরুল আরবী গানের সুরে বাংলা গান লিখেছেন। আরবী ছন্দে বাংলা কবিতা লিখেছেন। ভাষাটি তিনি কতটা জানতেন, সে সংবাদ আমাদের জানা নেই। তবে ভাষার ওপর বিশদ অধিকার না থাকলেও গতিপ্রকৃতি সম্বন্ধে স্পষ্ট ধারণা নজরুলের ছিল, এটা মনে করা অসঙ্গত নয়। নজরুল ইসলাম বেশ কয়েকটি ভাষা জানতেন, এটা আমাদের কাছে একটা সংবাদ মাত্র। এই ভাষাজ্ঞান দিয়ে তিনি সাহিত্যের কায়া এবং প্রাণের মধ্যে একটা নতুন সংশ্লেষ ঘটিয়েছিলেন, সেই ব্যাপারটি কদাচিৎ আমরা চিন্তা করে দেখি। সে যা হোক, আমাদের মূল বক্তব্য হচ্ছে- আরবী, ফার্সী, উর্দু ইত্যাদি ভাষায় নজরুলের সমধিক অধিকার ছিল এবং সেই কারণে পুঁথিসাহিত্যের ভাষায় নতুন মাত্রা এবং ব্যঞ্জনা সৃষ্টি তাঁর পক্ষে কোনো অসম্ভব বা কঠিন কর্ম ছিল না।

নজরুলের কাছে বাঙালী মসুলমান সমাজের অন্যতম প্রধান প্রণিধানযোগ্য ঋণ এই যে, নজরুল তাদের ‘ভাষাহীন পরিচয় ঘুচিয়ে দিয়ে তাদের সামাজিক ভাষাকে সাহিত্য সৃষ্টির ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা দান করলেন এবং স্বীকৃতি অর্জন করে দিলেন। আর নজরুলের কাছে সমগ্র বাঙালী সমাজের ঋণ এই যে, নজরুল বাংলা ভাষা এবং সাহিত্যকে বাংলার হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের ভাষা হিসেবে চিহ্নিত করে নব বিকাশধারায় ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে অনেক দূর পর্যন্ত গাঁথুনি নির্মাণ করেছিলেন। (সংক্ষেপিত)

প্রকাশিত : ২২ মে ২০১৫

২২/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: