মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বিবিকিং ॥ একজন ব্লুজ সম্রাটের বিদায়

প্রকাশিত : ২১ মে ২০১৫

‘দ্য থ্রিলার ইজ গন’, ‘প্লিজ লাভ মি’, ‘সুইট ব্ল্যাক এ্যাঞ্জেল’, ‘রক মি বেবী’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গানের গায়ক বি বি কিং বিদায় নিয়েছেন পৃথিবী থেকে। গত বৃহস্পতিবার রাতে ঘুমের মধ্যেই মারা যান তিনি। শেষ হয় ব্লুজ মিউজিকের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। প্রায় সাত দশকের ক্যারিয়ারে ইলেকট্রিক গিটার হাতে অনুপ্রেরণা সঞ্চার করেছেন অসংখ্য ভক্ত আর ব্লুজ ঘরানার গায়কদের মাঝে। সর্বকালের সেরা গিটার বাদকদের তালিকায় তার নাম তিন নম্বরে। এই মহান ব্লুজ ঘরানার গায়ককে নিয়ে লিখেছেন ইমরান হোসেন

এক সময়ের নিতান্তই সাধারণ খামারকর্মী। অথচ সেই মানুষটিই কি জাদু-মন্ত্রবলে হয়ে উঠলেন কয়েক দশকের সেরা ব্লুজ শিল্পী। সেই গল্প হলিউড সিনেমার রূপকথাকেও হার মানায়। সেই মানুষটির গিটারের সংস্পর্শেই ব্লুজ সং কৃষ্ণাজ্ঞ আমেরিকানদের হাত থেকে হয়ে উঠলো বিশ্ব সঙ্গীতের অন্যতম ধারা। বি বি কিং নিজের পঞ্চদশতম গ্রামি এ্যাওয়ার্ড বগলদাবা করেছিলেন ২০০৯ সালে তার ‘ওয়ান কাইন্ড ফেভার’ এ্যালবামের জন্য। ১৯২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপিতে জন্ম নেয়া এই গায়ক গত শতকের চল্লিশের দশকে গানের জগতে আসেন। ১৯৮৭ সালে তিনিই সূচনা করেন ‘রক এ্যান্ড রোল হল অব ফেম’ । তাকে মনে করা হয় সর্বকালের সেরা ব্লুজ শিল্পী। ১৯৯০ সালে বি বি কিং আমেরিকার সেই সময়ের প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের কাছ থেকে গ্রহণ করেন ‘প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অফ ফ্রিডম’। একজন তুলাচাষীর ঘরে জন্ম নেয়া এই শিল্পীর মা তার বাবাকে ছেড়ে যায়, বি বি কিংয়ের যখন মাত্র চার বছর বয়স। দাদীর কাছেই মানুষ হয়েছেন তিনি। মাত্র বারো বছর বয়সে পনেরো ডলার দিয়ে কিনে ফেলেন একটা আস্ত গিটার। ১৯৪১ সালের দিকে তুলাক্ষেতে কাজের ফাঁকে রেডিওতে মিসিসিপির ‘ডেল্টা ব্লুজ’ এর গান শোনেন। এরপর তিনি মনস্থির করে ফেলেন যে, তিনি গায়কই হবেন। ১৯৪৩ সালে সুযোগটা এসেই পড়লো। সেই সময় কিং ক্ষেতের কাজ ছেড়ে দিয়ে ট্রাক্টর চালানোর কাজ নেন আর গিটার বাজাতে শুরু করেন বিখ্যাত গায়ক সেন্ট জন কোয়ার্টেটের সঙ্গে। এরপর কয়েক বছর আমেরিকার নানা অঙ্গ রাজ্যে ঘুরে ঘুরে গিটার বাজাতে শুরু করেন তিনি। মাঝে মধ্যে চলে রেডিওতে শো করা। ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠতে শুরু করেন কিং। ভক্তরা আদর করে ডাকতে শুরু করে বি বি কিং। ২০১২ সালে ২১ ফেব্রুয়ারি এক অনুষ্ঠানে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বি বি কিং-এর সঙ্গে গেয়ে ওঠেন, ‘সুইট হোম শিকাগো’। বছরে প্রায় গড়ে ২০০-এর মতো কনসার্ট করে নতুন রেকর্ড গড়েছেন। লড়াই করে বাঁচাটা, তার ফেলে আসা শ্রমিক জীবন থেকেই শিখেছিলেন কিং। ২০১৪ সালের শুরুতেই কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়েন কিং। অনেকগুলো কনসার্ট বাতিল করতে হয় শারীরিক অসুস্থতার জন্য। বেশ কিছুদিন থেকেই উচ্চ রক্তচাপ এবং বহুমূত্র রোগে ভুগছিলেন তিনি। অসুস্থ হওয়ার আগে বেশকিছু টিভি শোতে অতিথি চরিত্রে অংশ নিয়েছেন। শিশুদের জন্য দাতব্য কর্মকা- করেছেন। আমেরিকার নানা শহরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বি বি কিং ব্লুজ ক্লাব। নিজের প্রিয় গিটার ‘লুসিল’। নিজের প্রিয় গিটারটা কখনও হাতছাড়া করেননি।

তিনি পশ্চিমের ব্লুজ ঘরানার সঙ্গীতের জনক। যতদিন বেঁচে ছিলেন আলো ছড়িয়েছেন গিটার হাতে। ৮৯ বছর বয়সে লাস ভেগাসের নিজ বাসভবনে মারা যান তিনি। বি বি কিং-এর মতো গায়করা তৈরি করেন একেকটি ঘরানা আর সেইসব ঘরানা টিকে থাকে বছরের পর বছর। আজ থেকে হয়তো অনেক বছর পরে বি বি কিং-এর ‘সুইট হোম শিকাগো’ অথবা ‘প্লিজ লাভ মি’ শুনে আনমনা হয়ে উঠবে কোন তরুণ অথবা তরুণীর হদয়। শ্রদ্ধা আর স্মৃতিতে তিনি নিশ্চয়ই বেঁচে থাকবেন অগনিত ভক্তদের হৃদয়ে।

প্রকাশিত : ২১ মে ২০১৫

২১/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: