কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

মাহবুব-উজ-জামান এ্যাওয়ার্ড পেলেন ১০ নার্স

প্রকাশিত : ১৩ মে ২০১৫

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ডায়াবেটিক সমিতির বিভিন্ন হাসপাতালে কর্মরত দশ জন নার্স পেলেন মাহবুব-উজ-জামান এ্যাওয়ার্ড-২০১৫। পুরস্কার হিসেবে প্রত্যেককে একটি ক্রেস্ট, একটি সনদপত্র এবং নগদ দশ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়। বারডেম, এনএইচএন, বিআইএইচএস ও ইব্রাহিম কার্ডিয়াকসহ বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির বিভিন্ন হাসপাতালে কর্মরত নার্সদের মধ্য থেকে নির্বাচিত ১০ নার্সকে এবার এই পুরস্কার দেয়া হলো। নার্সিং সেবার অগ্রদূত ফ্লোরেন্স নাইটিংগেলের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গত কয়েক বছর ধরে এ পুরস্কার দেয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবার বারডেম মিলনায়তনে সমিতির সভাপতি অধ্যাপক একে আজাদ খানের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রখ্যাত শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ও জাতীয় অধ্যাপক ডাঃ এম আর খান। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেনÑ এ্যাওয়ার্ডের প্রবর্তক বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির ন্যাশনাল কাউন্সিলের সদস্য মাহবুব-উজ-জামান, ডায়াবেটিক সমিতির মহাসচিব মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন, বারডেমের মহাপরিচালক অধ্যাপক নাজমুন নাহার, মেজর জেনারেল (অব) অধ্যাপক এ আর খান। পুরস্কারপ্রাপ্ত নার্সরা হলেনÑ বারডেম হাসপাতলের নার্সিং সুপারভাইজার মিনা রড্রিকস, সিনিয়র স্টাফ নার্স বকুল হালদার, চায়না রানী ম-ল ও চামেলী মেরী ক্রুশ, ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালের সুপারভাইজিং চার্জ নার্সিং শাহানাজ আখতার, স্টাফ নার্স রাশিদা জামান, ন্যাশনাল হেলথ কেয়ার নেটওয়ার্কের সিনিয়র স্টাফ নার্স হাসিনা আক্তার, সায়েরা খাতুন, বিআইএনএইচএস জেনারেল হাসপাতালের স্টাফ নার্স শাহীন আক্তার ও প্রীতিলতা সমাদ্দার। অধ্যাপক ডাঃ এম আর খান বলেন, রোগীর সেবায় সেবিকাদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেবিকাদের সেবার হিসেব দেখা যায় না। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোগীদের অধিকাংশ সময় থাকতে হয় সেবিকাদের তত্ত্বাবধানে। মায়ামমতা মাখানো সেবা দিয়ে একজন রোগীর সুস্থ হওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখেন একজন সেবিকা।

অন্য বক্তারা বলেন, দেশে সেবিকার সংখ্যা বাড়াতে হবে। প্রতি চিকিৎসকের বিপরীতে যেখানে চার থেকে পাঁচ জন সেবিকার দরকার, সেখানে রয়েছে মাত্র এক থেকে দু’জন সেবিকা। দেশে দক্ষ সেবিকা তৈরিতে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। রোগীর সেবায় সেবিকাদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোগীদের অধিকাংশ সময় থাকতে হয় সেবিকাদের তত্ত্বাবধানে। ক্রিমিয়ার যুদ্ধে আহত সৈনিকদের সেবা শুশ্রুষার মাধ্যমে সুস্থ করে তুলে ফ্লোরেন্স নাইটিংগেল বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে, শুধু চিকিৎসা দ্বারা রোগীকে সম্পূর্ণরূপে নিরাময় করা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে সেবিকার ভূমিকা অপরিসীম, যা কেবল শিক্ষিত ও দক্ষ সেবিকা দ্বারাই প্রদান করা সম্ভব। আধুনিক নার্সিংয়ের পথিকৃৎ ফ্লোরেন্স নাইটিংগেলের কর্মকা-ের ভূয়সী প্রশংসা করে বক্তারা বলেন, তাঁর নার্সিং সেবার মাধ্যমে তিনি আজও জীবিত আছেন। ফ্লোরেন্স নাইটিংগেল ছিলেন একাধারে জ্ঞানী ও ভাল মনের অধিকারী। মানুষের কল্যাণে সকলকে জ্বলতে হবে। দক্ষ ও আদর্শবান সেবিকা তৈরি করাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। একজন সেবিকা শারীরিক, মানসিক ও আত্মিকভাবে সেবা দিয়ে থাকে। আধুনিক নার্সিংয়ের অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হলেন ফ্লোরেন্স নাইটিংগেল। নানা প্রতিকূল অবস্থা উপেক্ষা করে তিনি আর্তমানবতার সেবা করে গেছেন।

প্রকাশিত : ১৩ মে ২০১৫

১৩/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: