আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

মামলা

প্রকাশিত : ১ মে ২০১৫
  • মুহাম্মদ ফরিদ হাসান

পড়ন্ত বিকেল। সূর্য হেলে পড়েছে পশ্চিমে। গরমকাল হলে এ সূর্যের শেষ আভায় উত্তাপ মিলতো। এখন শীতকাল। তাই রোদে উত্তাপ নেই। নিস্তেজ ছায়া আছে শুধু। গ্রীষ্ম আর শীত, যাই হোক না কেনো গোধূলি সময়ে মুন্সিরহাটে থাকেন আরশাদ আলী। মনসুরের চায়ের দোকানে বয়স্কদের আড্ডা জমে। কথার সঙ্গে সঙ্গে চায়ের কাপ খালি হয়, সিগারেটের ছাই পড়ে, কালচে ধোঁয়া ওড়ে বাতাসে। আরশাদ আলী চা-সিগারেট কিছুই খান না। এসবে তার নেশা নেই। চায়ের দোকানে তিনি পান চিবোন। ডাক্তারের নিষেধ আছে চা-সিগারেটের ওপর। পানের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা নেই, তাও না। নিষেধ ভেঙ্গে তিনি পান খান। বুড়ো বয়সে বিকেলের সময়টুকু দোকানে ভালোই কাটে। উত্তরপাড়া থেকে ষাটোর্ধ্ব ইদ্রিস শেখ আসে, কলমির হাট থেকে আজিজ মাস্টার আসে, খাঁ বাড়ি থেকে ক্রাচে ভর করে আসে ইব্রাহিম খাঁ। এরাই আড্ডার প্রাণ। আরশাদ আলী সারাদিন অপেক্ষা করেন কখন সূর্যটা পশ্চিমে হেলবে। তার অবশ্য আরামের জীবন। কাজকর্ম থেকে ইস্তফা দিয়েছেন অনেক আগেই। এখন দু’ছেলে কামাই করে। তাকে সাপ্তাহিক হাত খরচা দেয় ছেলেরা। প্রতি সপ্তাহে এক হাজার। এক মাসে চার হাজার, আবার কোন কোন মাসে টাকার অঙ্কটা পাঁচ-ছয় হাজার গড়ায়। স্ত্রী হামিদা নেই। মারা গেছে বছর বিশেক হলো। হয়তো আরো বেশি সময়; কমও হতে পারে। মৃত্যুর হিসেবটা আরশাদ আলীর নিজের আন্দাজ। ইদানীং তার মাঝে মাঝে স্মৃতিভ্রম হয়। এক কথা তিনি দু’তিনবারও বলেন। পুত্র বউরা শ্বশুরের বিস্মৃতিতে ভ্রƒ কোঁচকায়। আড়ালে আবডালে স্পষ্ট বিরক্তি দেখায় হয়তো। আসলে সত্য হলো বুড়ো অকোজো। কাজে আসে না। পরের বাড়ির মেয়েদের কাছে তারা শুধুই বোঝা বৈকি! তাই বুড়োদের মাঝে মাঝে বউ-ঝিয়ের ভ্রƒ কোঁচকানো দেখতে হয়। কারো কারো ভাগ্য ততটুকুও ব্যাপৃত নয়। তারা স্ত্রী-কন্যা-পুত্রের তীর্যক কথা শোনে। গালাগালও শুনতে হয় মাঝে মাঝে। বুড়োরা কেউ কেউ এসব গায়ে মাখে, কেউ কেউ নিভৃতে কাঁদে। আরশাদ আলী এসবের কিছুই করেন না। চোখের জল তিনি অনেক আগেই ভুলেছেন। কতো প্রাণ কতো আনন্দ তার চোখের সামনেই মিশে গেছে মাটিতে তাজা রক্ত শুকিয়ে বাতাসে ছড়িয়েছে অপ্রত্যাশিত গন্ধ। তিনি নির্লিপ্ত থেকেছেন। প্রাণের বন্ধু ছিল মতিন। তার চোখের সামনে গুলিতে ছিটকে গেল মতিনের মগজ, মতিন ‘মা’ বলেও ডাকতে পারল না একবার। কী আশ্চর্য! আরশাদ আলী সেদিন কাঁদেননি। দেশের জন্য যুদ্ধে যে প্রাণ গেছে তার জন্য কাঁদবে কেন? আর বউদের বিরক্তিতে অবহেলার চিহ্নে কাঁদার মানুষ তিনি না, কোন যুক্তিও নেই। যতদিন বাঁচবেন, খুশি মনে বাঁচবেন। দুপুর বেলা থেকেই আরশাদ আলী ভাবছিলেন আজ হাটে যাবেন কিনা। ছোট বউ তো লজ্জা-শরমের মাথা খেয়ে কাল বললোÑ ‘আব্বা আপনের তো বয়স হইছে। ঘরে থাকবেন। আর আল্লারে ডাকবেন। আপনে এই বয়সে দোকানে গল্প গুজব করেন। মাইনসে কত কী কয়...।’ কী কয়? তা আর বউকে জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে হয়নি আরশাদ আলীর। নিজের ভালো লাগা অন্যের কথায় বিসর্জন দেবার কোনো মানে নেই। কিন্তু বিকেল হয়ে এসছে তবু হাটের দিকে পা বাড়াননি তিনি। মন থেকে সায় পাচ্ছেন না। তারপরই মনে পড়লো আজগরের কথা। শুনেছে সে নাকি আজ হাটে আসবে। একাত্তরের সেই আজগর মিয়া। কতো স্মৃতি! কতো বিস্মৃতির অতল জল!

বিছানার নিচে টাকা রাখেন তিনি। যৌবনকাল থেকেই এই অভ্যেস। বুড়োকালে এসেও তা ছাড়তে পারেননি। এই মাসে বিছানার নিচে বিশ হাজার টাকা জমেছে। সবটাই ছেলেমেয়েদের দেয়া। চার হাজার টাকা পাঞ্জাবির পকেটে পুরে আরশাদ আলী হাটের দিকে পা বাড়ান। হাটের পথ পাকা হয়েছে গেল বছর। এই আগে ইট বিছানো ছিল। তারও আগে কাঁচা রাস্তা। বর্ষায় রাস্তায় পানি জমতো। কাদা হতো। গ্রামের ভাষায় বলে ‘প্যাক’। এ পথেই কৈশোরে বাবার সঙ্গে হাটে যেতেন আরশাদ আলী। প্যাক দেখলে তিনি প্যাকে পা ডুবাতেন। লাফালাফি করতেন। বাবাও ছিলেন অদ্ভুত। অন্য কেউ হলে ছেলের কা- দেখে কষে চড় মারতেন। কিন্তু আজমল আলী ছিলেন তার উল্টো। তিনি ছেলের আনাড়িপনা দেখতেন। কখনো মিটিমিটি হাসতেন। তিনি কি আরশাদ আলীর দুরন্তপনায় তখন নিজের কিশোর জীবনে ফিরতেন?

আরশাদ আলীর লাঠি পাকা রাস্তায় ঠক্ ঠক্ শব্দ বোনে। ঠক! ঠক! পাশ ঘেঁষে দু’একটা রিক্সা যায়। বাজারফেরত হাটুরেরা যায়। কারো মাথা টুকরি। সেই টুকরির ওপর লাউয়ের চোখমুখ উঁকি দেয়। কারো হাতে এক তোড়া কলা। আধপাকা। আরশাদ আলী ঠিক করেন আজ নতুন কিছু করবেন। একেবারেই নতুন। কিন্তু চমকপ্রদ! সামনে মোল্লা বাড়ি আজকাল নাকি ছবি হয়েছেÑ ‘মোল্লা বাড়ির বউ।’ এ বাড়িতে একদল আট-দশ বছরের ছেলে মেয়ে আছে। তারা তাকে দেখলে ডাকে ‘দাদাজান’ বলে। কচি কচি মুখগুলো থেকে দাদাজান ডাক শুনতে তার ভালো লাগে। চমকপ্রদ ব্যাপারটা এদেরকে দিয়ে শুরু করা যাক। ছেলেমেয়েরা সাত চাঁড়া খেলছিল। তিনি তাদের হাত উঁচিয়ে ডাকলেন। তারা দল বেঁধে আসলো। আরশাদ আলী বললেনÑ তোমরা কি খেতে চাও দাদা ভাইরা? শুধুমাত্র এই ছেলেমেয়েদের সঙ্গে তিনি শুদ্ধ করে কথা বলেন। দলের ভেতর গুঞ্জন উঠতে দেরি হয় না। কেউ কেউ আরশাদ আলীর পাঞ্জাবি ধরে টানাটানি করে। আরশাদ আলী ছেলেমেয়েদের হাটে নিয়ে এলেন। যার যা পছন্দ সবাইকে তা দেয়া হলো। তার খরচ হয়েছে তিন শ’ ছয় টাকা। কিন্তু দলটার সবাই হাসছে। সবার হাতে কিছু না কিছু। তিনি সবাইকে বাড়ি পাঠালেন। তারপর নিজে এসে দাঁড়ালেন মুনসুরের চায়ের দোকানে তার খুশিখুশি লাগছে।

লোকটা জড়িয়ে ধরার আগে তাকে খেয়াল করেননি আরশাদ আলী। যখন ছাড়লো ততক্ষণে তাদের ঘিরে ভিড় জমে গেছে। দাড়ি গোফঅলা লোকটাকে দেখে মনে হলো তাকে চিনেন না।

লোকটা হাসি হাসি মুখ করে বললোÑ চিনেছিস্ আরশাদ?

আরশাদ আলী মাথা নাড়েন। চিনেননি।

লোকটা আরো কাছে এসে বললোÑ

‘সর্বষাং মজ্ঞালং ভুয়াৎ সর্বে সম্ভু নিরাময় ঃ

সর্বে ভদ্রানি পশ্যম্ভু মা কশ্চিত দুঃখ ভাগ ভবেৎ॥’

আরশাদ আলী চমকে উঠেন। তার হাতের লাঠি কেঁপে ওঠে। নিজের অজান্তেই লাইন দু’টোর তরজমা আওড়ান।

‘সকলের মঙ্গল হোক, সকলে নীরোগ হোক,

সকলে শুভ দেখুক, কেউ যেনো দুঃখ না পায়।’

এ প্রার্থনা, বাক্যাংশ কেবল তার কোনো, ক্যাম্পের সকলেরই ঠোঁটস্থ ছিলো। কেউ সংস্কৃত বললে অন্য একজন তার অনুবাদ করতো বাংলায়। এবার ঠাওর হয়। তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে আজগর! কত বছর পর দেখা! আজগরকে আরশাদ আলীর হাত আরো ঝাপটে ধরেন। আলী আজগর হু হু করে কাঁদেন।

আরশাদ আলী আজগরকে বাড়িতে নিয়ে আসলেন। আজ সে তার কাছেই থাকুক। রাত্রে একসঙ্গে ঘুমাবেন। ঘুমাবেন? আসলে ঘুমাতে কি পারবেন? ঘুম কি আসবে? বরং গল্প হবে। গল্পের ডালপালা ছড়াবে। আলী আরশাদ হয়তো আবার কাঁদবেন। তার জীবনের গন্তব্য খোলাসা করবে কিছু। যুদ্ধের সময় আজগর প্রায়ই বলতো- ‘বুঝলি দোস্ত; বিয়া শাদি করমু না। বিয়া শাদি সবার লাগি নাই। কপালে জোটে না। আমার কপাল মন্দ।’

আরশাদ আলী কিংবা ক্যাম্পের কেউ তার উক্তিকে সুতোয় গাঁথতো না। বেচারার দুঃখ অনেক। হয়তো চাইতো আলী আজগরের দুঃখ নিজের কাছেই থাকুক। নিজের দুঃখের বোঝা ভারী করে আর কী লাভ? নিজেদের জীবনে কষ্টের পরিমাণটাও তো নেহাৎ কম নয়। বরং সহ্যের সীমানা ছাড়িয়ে অস্থির হয়ে উঠেছে বাতাস। আজগরের দুঃখ তাই একান্তই তাঁর ছিলো। তার গল্পটাও দুঃসময়ের। দুর্দিনের। গল্পটা আরশাদ আলীকে শুনিয়েছিলো সে-ই।

সত্তর সাল। সবেমাত্র ঢাকায় উঠেছিল আজগর। চাকরি পেয়েছে। মরিচের আড়তে। বয়স তখন ত্রিশের কোঠায়। চুল পাকতে শুরু করেছে সবে। কিন্তু বিয়ে থা করে থিতু হওয়া হয়ে উঠেনি এখনো। মেয়ে অবশ্য ঠিক। গ্রামের ফুলবানু। আজগর তাকে ডাকতো শুধু ফুল। চাকরির জন্য বিয়ে করা লটকে আছে। চাকরিহীন বিয়ে অশান্তি ডাকবে। তাই করেননি। এবার মাসখানেক পর গ্রামে ফিরেই ফুলবানুকে ঘরে তুলবে সে। যথাসময়ে ঘরেও তুলেছিলো তাকে। তারপরই দেশে বাঁধলো যুদ্ধ। আশ্বিনের এক মাসে ফুলকে পাকিস্তানীরা ক্যাম্পে ধরে নিয়ে গেলো। আজগর ছিলো গঞ্জে। সন্ধ্যার খবরে সে বিমূঢ় হয়ে থাকে। ফুল কি আর ফিরে আসবে? পাকিস্তানীরা পশ্চিম পাড়ার মতিবিবিকে ক্যাম্পে নিয়ে ছিলো। মতি আর ফেরেনি। তার লাশ পাওয়া গিয়েছিলো মেঘনার স্রোতে। ফুলের কী হবে? আজগর রাত্রে ঘরে ফেরে না। রাতের পর রাত কাটে আতঙ্কে, দুশ্চিন্তায়। একবার মনে হয়, সে নিজে ছুটে যায় পাকিস্তানী ক্যাম্পে। কিন্তু বাস্তবতা তাকে যেতে দেয় না। এক সপ্তাহ যায়; দু’ সপ্তাহ যায়। ফুল ফেরে না।

এক মাস পর ফুল ফেরে। একদিনের জন্য। ঘরে এসে আজগরকে ছোঁয় না সে। দূরে দাঁড়িয়ে স্বামীকে দেখে। আজগর তাকে ছুঁতে এলেই সে পালিয়ে যায়। যেতে যেতে বলেÑ ‘তোমারে একবার দেখার বড় স্বাদ ছিলো গো। মরলে মাফ কইরো অভাগীরে...!’

ফুল পালিয়ে গেল। শত চেষ্টা করে তাকে খুঁজে পেলো না আজগর।

দু’দিন পরে সিংহের বাগানে তার দেহটা পাওয়া গেলো। দেহে প্রাণ নেই। গলায় দড়িই ছিলো তার শেষ সম্বল।... তার পরদিনই আলী আজগর মুক্তিবাহিনীতে ঢুকে গেলো। ‘শালা! পাকিস্তানীদের একটারও ছাড়বে না সে।’

এতদিন পর এসে আজগর হয়তো সেই পুরনো গল্পই বলবে আরশাদ আলীকে। গল্প শুনতে শুনতে রাত আরো গভীর হবে। নিস্তব্ধ হবে গ্রাম। পানের থালার মতো চাঁদ উঠবে আকাশে। তারা জ্বালাবে মোমবাতি আলো। ঘুমন্ত মুখের ভেতর জেগে উঠবে স্বপ্ন। গাছের ছায়া পড়বে মাটির পুরোনো ধুলোয়। পথিকের পদছাপ মুছে দিয়ে যাবে বিশুদ্ধ বাতাস। দূরে কোকিল ডাকবে একটু পর পর। ডানা ঝাপটাবে হলদে পাখি। তবু কথা শেষ হবে না। রাত শেষ হবে। তখনো জেগে থাকবো দু’জন মানুষ। দু’জন মুক্তিযোদ্ধা!

আজগর রাতে সেসব গল্প বললো না। কোনো পুরনো কথাও বলেনি। রাত গভীর হলেও ঘুম আসে না আরশাদ আলীর। দুশ্চিন্তায় মাথাটা নুয়ে আসে। বোবার মতো স্থির হয়ে দু’জনেই বসে থাকে। এই বুড়ো বয়সে এসব কি আর সইবে? খুন খারাবিতে যাওয়ার বয়স সেই কবে শেষ হয়েছে। অথচ আশ্চর্য দেশের শত্রু তখনো শেষ হয়নি। দেশের ভেতরই তারা নানা বেশে বেঁচে আছে। যারা ছিলো রাজাকার, তাদের আজ কতো কী হয়েছে। আজগর খুক খুক কাশে। যক্ষ্মা রোগীর মতো কাশিতে শব্দ হয়। আলী আরশাদ মুখ তুলে তাকান। বয়সের ভারে নুয়ে গেছে আজগরের দেহ। সে কি পারবে হাসমত মিয়ার সঙ্গে লড়তে? আজগর বলে,‘দোস্ত! হাছা কই, যুদ্ধ শেষ হলো সত্য, শত্রুরা যে বাঁইচা আছে তাহাও সত্য। হাসমত মিয়া তো রাজাকার আছিলো। তারে তো আমি ছাড়ি দিতে পারি না! এ গেরামে আইছি শুধু তার নামে একখান মামলা দিতে।’

আলী আরশাদ বলতে চেষ্টা করেÑ‘হাসমত মিয়া কি হাসমত আছে। হেয় অহন সমাজসেবক। তার ডাইন হাত কানা রফিক চিহ্নিত খুনি। পুলিশ অগরে ছুঁইয়াও দেহে না। মামলা করলি তো তোকে মারি ফেলবে।’

আজগর কি আর সেই কথায় কান দেয়। ‘জান লাইগলে দিয়াম নি। কুলাঙ্গারগুলার বিচার না হইলে আঁর বাঁচি থাকি লাভ নাই। মামলা সকালেই দিয়াম।’

সারা রাত আলী আরশাদের ঘুম হয় না। আজগর ঘুমিয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পর তার নাক ডাকার শব্দ শোনা যায়। হাসমত মিয়া আসামি করলে তার পরিবারের জন্য হুমকি নয় কি? আলী আরশাদ কী করবেন বুঝতে পারেন না। ফজরের আযান শোনা যায়। দু’একটা কুকুর ডাকে। যখন আজগরের ঘুম ভাঙ্গে তখন সকাল ন’টা। নাস্তা খেয়ে আরশাদ আলী বলেন- ‘আরেকটু ভাববি কি দোস্ত?’ আজগর হাসে। পাঞ্জাবিটা টেনে সিদে করতে করতে বলে- ‘থানায় যাচ্ছি। মামলা না দিলে রাজাকারগো জয় হবিনি। মামলা না দিয়ে উপায় নেই। হাসমত আলীর লোকেরা যদি মারিও ফেলায় তয়ও আঁই খুশি আছুইন।’ আজগর আলী গঞ্জের পথে হাঁটতে থাকে। সেখানে থানা। দারোগা, পুলিশ... আরশাদ আলী নির্বাক বনে যান। আজগরের হাঁটা আরো দ্রুত হয়। আরশাদ আলী চেয়ার ছেড়ে ওঠে দাঁড়ান। হাতের লাঠিটা নিয়ে জোরে আজগরকে ডাকেন- ‘দোস্ত! খাড়াও আঁইও আসতাছি।’

প্রকাশিত : ১ মে ২০১৫

০১/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: