মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীরের ৪টি বই

প্রকাশিত : ১ মে ২০১৫
  • নির্যাতনের ইতিহাস ও অন্যান্য প্রবন্ধ

‘রবীন্দ্রনাথ জাতীয়তাবাদী স্বাধীনতার পক্ষে ছিলেন না। তিনি ছিলেন সাধারণ মানুষের মুক্তির পক্ষে। জাতীয়তাবাদী স্বাধীনতার বিকল্প : মুক্তি। এই নতুন বিকল্পের মধ্য দিয়ে জাতীয় চেতনার পরপারে সামাজিক চেতনার রূপান্তর সম্ভব। রূপান্তরিত সামাজিক চেতনাই মানুষকে মুক্ত করে।’ রবীন্দ্রনাথকে পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে এতটাই গভীরে প্রবেশ করেছেন বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর যেখানে প্রকাশিত হয়েছে মানব মুক্তির প্রকৌশল। প্রবন্ধকারের লালিত নিজস্ব দর্শনের সঙ্গেও খুঁজে পান সাজুয্য। রবীন্দ্রনাথের বর্তমান প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে যারা প্রশ্ন তোলেন তাদের মুখে ছাই দিয়ে বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর রবীন্দ্রনাথের হাত ধরে এগিয়ে যান সামনে। চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেন অন্ধদেরকেÑ সগর্বে ঘোষণা দেন : এই তো আমাদের আশ্রয় রবীন্দ্রনাথ।

মহান একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীরের প্রবন্ধ সঙ্কলন ‘নির্যাতনের ইতিহাস ও অন্যান্য প্রবন্ধ’ নামের গ্রন্থে পাঠক পাবেন রবীন্দ্রনাথকে ভিন্ন আলোয় পর্যবেক্ষণসহ চলমান সময়কে কেন্দ্র করে নানা প্রবন্ধ। সাহিত্য, সংস্কৃতি, রাজনীতি নিয়ে ভাবনার কথামালা সাজিয়েছেন তিনি। সমাজ নিরীক্ষার এক অনবদ্য চিত্র ফুটে উঠেছে এ গ্রন্থে। রয়েছে চল্লিশ বছরের রাজনীতি নিয়ে নিরীক্ষণ। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি জামায়াতে ইসলামী নিয়ে তার পর্যবেক্ষণ, সন্ত্রাসবাদের উত্থান নিয়ে বিশ্লেষণ পাঠককে নতুন করে ভাবাবে। ২৪টি প্রবন্ধের সমন্বয়ে গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে বর্ষাদুপুর। প্রচ্ছদ এঁকেছেন শিবু কুমার শীল। সমাজ, সাহিত্য সংস্কৃতি, রাজনীতি সচেতন পাঠক আরও ঋদ্ধ হবেন বইটি পাঠে।

অন্ধকারের শিল্প

‘অন্ধকারের শিল্প’ বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীরের কবিতার বই। গ্রন্থের নামেই প্রকাশ পায় এক ধরনের কুয়াশাচ্ছন্নতা। পাঠাকের আবেগের সঙ্গে যুক্ত হয় কৌতূহল প্রবণতা। নান্দনিকতাকে ভর করে কবিতাকে উপস্থাপনের কত রকম নিরীক্ষা যে হতে পারে এ গ্রন্থটি তার প্রমাণ। কবিতার বিষয়বস্তুও বিচিত্র।

‘কাঠের সিঁড়িতে’ কবিতাটি মনকে ছুঁয়ে যায়। আলোড়িত করে। প্রাথমিকভাবে মনে হতে পারে ব্যক্তিগত কষ্টগাঁথা। পাঠ শেষে সেটি আর কারও ব্যক্তিগত মনে হয় না। মনে হয় সময়ের চিত্র, সমগ্র মানুষের কথা।

এই যেমন তিনি বলেন-

‘...আমি সিঁড়িতে পড়ে যাই রাস্তায় পড়ে যাই/আমার মাথা এখন ঘোরায়/পৃথিবীটা সরল না কোন রাস্তাই সরল না।’

শিল্পের জন্মপ্রকরণ নিয়ে কবির আছে অন্যরকম ব্যাখ্যা। দৃশ্যত শিল্প সৃষ্টি মনে হতে পারে খুব সাধারণ আয়োজন। কিন্তু কবি এর নেপথ্যে দেখতে পান ভিন্ন আঙ্গিক। তাঁর দৃষ্টিতেÑ

‘...বিষণœ দিন বিষণœ বেঁচে থাকা/আমাদের হাড় থেকে আমরা রং বানাই/শিল্প হাজার হাজার বছর বেঁচে থাকে।’ (আমাদের হাড় থেকে)

যে কবি রাজনৈতিক সামাজিকভাবে দায়বদ্ধ তাঁর কলমে, সৃষ্টিতে ‘১৯৭১’ বিশেষত্ব পাবে এটাই স্বাভাবিক। বাঙালী জীবনের এই মাহেন্দ্রকাল কবি তুলে ধরেছেন বৈশ্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে। তিনি বলেন এভাবে-

‘... পৃথিবীর যে কোন জায়গায় আমরা/১৯৭১ ভুলি না মাপ করি না।’ (১৯৭১)

প্রেম, ভালোবাসা, স্বদেশ, স্বদেশের রাজনীতি, বৈশ্বিক বাস্তবতা, শিল্প নিয়ে ভাবনা এমন নানা বেচিত্র্যে ভরপুর ‘অন্ধকারের শিল্প’ কাব্যগ্রন্থটি পাঠে ভিন্ন রস আস্বাদন করতে পারবেন পাঠক। দৃষ্টিনন্দন আকারের গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে জার্নিম্যান বুকস প্রকাশনী। মূল্য ১২০ টাকা। এটিও বেরিয়েছে চলতি বছর বইমেলায়।

প্রকাশিত : ১ মে ২০১৫

০১/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: