মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

শিয়ালের চালাকি

প্রকাশিত : ২৫ এপ্রিল ২০১৫
  • মোজাম্মেল হক নিয়োগী

এক কৃষকের বাড়িতে মুরগি চুরি করতে গিয়েছিল এক শিয়াল। কৃষক টের পেয়ে তাড়া করল। কৃষক একা নয়। বলা যায় গ্রামের অনেক মানুষই লাঠিসোটা নিয়ে তাড়া করল। তাড়া খেয়ে শিয়াল একটি বনে গিয়ে ঢুকল। বনের পাশে একটি হাতি দাঁড়িয়েছিল। হাতিকে দেখে শিয়াল বলল, এ বনে হাতি আছে?

হাতি একটু অবাক হয়ে বলল, আমাকে চিনতে পারছে না এ কেমন প্রাণী? হাতি জিজ্ঞেস করল, তুমি কে? আমাকে চিনতে পারছ না?

একটা শক্ত চড় দেব। আমাকে তুমি করে ডাকছ? আমি এই এলাকার সবচেয়ে বড় কলাচাষী শিয়াল। আপনি করে বলবে।

: ঠিক আছে বলব, হাতি বলল। হাতিকে কী প্রয়োজন চাষী সাহেব?

: আছে। আগে একটু পানি খাওয়া। তাড়াতাড়ি যা।

শিয়ালের ধমক খেয়ে হাতি পানি এনে খাওয়াল। সে শান্ত হয়ে বসল। তবে মনে ভয়। গ্রামের লোকেরা এখানে এসে পড়ে কিনা? মনে মনে ঠিক করে ফেলে, এখানে এলে হাতিকে দিয়ে দাবড়ানি দেবে। হাতি শিয়ালের পাশে বসে জিজ্ঞেস করল, কলাচাষী মানে কী? ব্যাপারটা বুঝলাম না। বুঝিয়ে বলেন।

: তা কী করে বুঝবি? শুধু শরীরটাই যা বানিয়েছিস! আদব-কায়দাও কিছু শিখলে না।

শিয়ালের কথা শুনে হাতি আরও বোকা হয়ে গেল। সে বুঝতে পারছে না কলাচাষীকে কেন সম্মান করতে হবে? একটা পুচকে প্রাণী সে কিনা ধমক মারে! মনে মনে ভাবছে, পা দিয়ে একটা ডলা দেবে কি না? আবার তুই তোকারি করছে। সাহস কত!

শিয়াল বলল, কী চিন্তা করছিস? যা আমার জন্য খাবারের ব্যবস্থা কর। কলাচাষীকে খাওয়াতে হয়। এটা পশুদের নিয়ম।

হাতি শরীর দুলিয়ে শুঁড় নাড়িয়ে গেল ডোবার কাছে। কয়েকটা কাঁকড়া ধরে এনে দিল শিয়ালকে। শিয়াল কাঁকড়া দেখে রেগে গেল। বলল, এসব কি খাবার হলো? মুরগির মাংস দিতে হয়। মুরগির মাংস না পেলে খরগোশ এনে দিতে হয়। কলাচাষীকে এসব দিতে হয়। হাতি বলল, আমরা বনের কোনো পশুকে মারি না। সবাই মিলেমিশে থাকি।

শিয়াল খুব রাগ করল। তার চোখ বড় বড় করে বলল, তাহলে কি আমি না খেয়ে মরব?

: না, তা না। আপনি না-হয় আপনার বনে চলে যান।

: কী বললি? বেয়াদবের মতো কথা বলবি না। তোর কান দিয়ে বাতাস কর। আমি কাঁকড়াগুলো খাই। শিয়াল কাঁকড়া খেল। হাতি তার পাশে বসে কান দিয়ে বাতাস করল। শিয়ালের কাঁকড়া খাওয়া শেষ হলে হাতি উঠে চলে যেতে চাইল। শিয়াল একটা ধমক দিয়ে বলল, চুপ করে বসে শোন। ওই যে গ্রামের কলাবাগানটি দেখতে পাচ্ছিস?

: হ্যাঁ দেখতে পাচ্ছি।

: এটি আমার। কলা বিক্রির পর গাছগুলো নিয়ে খুব সমস্যা হয়। তাই হাতির খোঁজে বের হয়েছি। হাতি ছাড়া এই কলাগাছ কে খাবে বল? হাতি শুনে খুব খুশি। তাই তো কলাগাছ তো আর কেউ খায় না। তাহলে কলাচাষীকে ভাল করেই যতœ করতে হয়। শিয়াল বলল, কাল সকালে তোকে বাগানে নিয়ে যাব। এখন একটু ঘুমাই। শিয়াল ঘুমাচ্ছে। হাতি তার বড় বড় কান দিয়ে বাতাস করছে। হাতিকে দেখে বানর অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, এভাবে বোকার মতো বসে আছো কেন? হাতি বলল, চুপ। কলাচাষী ঘুমাচ্ছে। বানর বলল, কলাচাষী আবার কে? হাতি শিয়ালকে দেখিয়ে বলল, এই যে। তুই খাবারের ব্যবস্থা কর। না হয় খবর আছে।

: কী খবর আছে? শিয়াল চোখ মেলে তাকিয়ে বলল, এটাও বুঝতে পারছিস না। বেয়াদব কোথাকার। যা, রাতের খাবারের ব্যবস্থা কর।

বানর কোনো কিছু না বুঝেই বলল, কী খাবার?

: মুরগি হলেই ভালো হয়। খরগোশও হতে পারে। দেখ কী পাওয়া যায়। বানর চলে যাওয়ার পর শিয়াল হাতিকে বলল, মানুষেরা বড়ই খারাপ প্রাণী।

: কেন? মানুষ খারাপ হবে কেন?

: খারাপ না তো কী? আগে মুরগিকে ছেড়ে রাখত। এখন ফার্ম করে বন্দী করে রাখে। আমরা কী খাব? ঘাস খাব? সব পশু কি খাস খেতে পারে? মান-সম্মানের ব্যাপার আছে না? শিয়ালের জাত হলো বড় জাত। ঘাস খেলে মান থাকে?

: না, থাকে না।

এদিকে বানর মুরগির খোঁজে গ্রামে চলে গেল। হায়! একি অবস্থা। মুরগি সব তারের বেড়ার ভেতরে আটকানো। বানর একটা জানালা দিয়ে ঢুকে একটা মুরগি নিয়ে দিল দৌড়। শিয়ালকে হাতি পাহারা দেয়। হাতি কান দিয়ে বাতাস করে আর শিয়াল ঘুমায়। খাওয়ার চিন্তা নেই। বানর প্রতিদিন মুরগি এনে খাওয়ায়। বানরকে শিয়াল বলেছে কলার ছড়ি দেবে। বানর লোভে এসব করছে। একদিন শিয়াল বলল, মুরগি কি আর প্রতিদিন খাওয়া যায়? এই বানর, আজ একটা খরগোশ খাওয়াবি। এক জাতের খাবার খেলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে।

: আমরা পশু মারি না।

শিয়াল বানরকে ধমক দিয়ে বলল, কী বললি? আমার সঙ্গে বেয়াদবি। যা বলছি তাই কর।

বানর হাতির দিকে তাকিয়ে বলল, কী করব হাতি সাব?

: হুকুম তো পালন করতে হবে। একটা বাচ্চামতো ধরে নিয়ে আয়।

: কি? বাচ্চামতো কেন? আমি বাচ্চা চাষী?

: ঠিক আছে। একটা বড় খরগোশ ধরে নিয়ে আয়। বানর খরগোশ ধরতে গেল। খরগোশ দৌড়ে পালিয়ে গেল। সে অনেক চেষ্টা করেও ধরতে পারল না। বানর যখন খরগোশ ধরতে গেল, তখন অন্য পশুরা ব্যাপার জানতে চাইল। বানর বলল, এক কলাচাষী এসেছে। তাকে খাওয়াতে হবে। সে আমাদের কলা দেবে। হরিণের মাথায় আগুন লেগে গেল। সে বলল, কীসের চাষী? আজকে খরগোশ ধরতে বলল। কালকে বলবে হরিণের বাচ্চা ধরে নিয়ে আয়। পরশু বলবে, বানর দিয়ে নাশতা করব। এসব এই বনে হতে দেওয়া যাবে না। চল যাই, ওর মতলবটা বুঝে নিই। বনের সব পশু শিয়ালের কাছে গিয়ে হাজির হলো। শিয়াল আরামে ঘুমাচ্ছে। হাতি তার কান দিয়ে শিয়ালকে বাতাস করছে। পশুদের চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে শিয়ালের ঘুম ভেঙে গেল। সে উঠে বসল। হরিণ বলল, তুমি কীসের চাষী? শিয়াল বলল, বেয়াদব। একটা চড় দিয়ে আঁকাবাঁকা শিং সোজা করে দেব। ফাজিল কোথাকার। গাধা বলল, কেন? শিং সোজা করবে কেন? শিংয়ের দোষ কী?

অন্য পশুরাও চিৎকার করে বলল, শিংয়ের দোষ কী? এখানে তুই থাকতে পারবি না। ওরা তুমুল গোলমাল শুরু করে দিল।

বানর গ্রামে গিয়েছিল মুরগি ধরতে। গ্রামের মানুষ বানরকে করল তাড়া। তারা চিৎকার বলছে, মুরগি চোরকে ধর, ধর। শিয়াল বুঝতে পারে এখানে থাকা আর ঠিক না। সে দৌঁড়ে পালায়। তাকে আর কে খুঁজে পায়?

প্রকাশিত : ২৫ এপ্রিল ২০১৫

২৫/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: