কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

নারীরা বেশি মনোযোগী!

প্রকাশিত : ২৪ এপ্রিল ২০১৫

নারীরা পুরুষের তুলনায় অনেক সচেতন গাড়িচালক হতে পারে। কীভাবে? গবেষকরা বলেছেন, নারীদেহে নিঃসৃত এস্ট্রোজেন নামক হরমোনের কারণেই নারীরা বিশেষ করে প্রান্তিক কাজগুলো ভালভাবে করতে পারে। যেমনÑ ড্রাইভিং। গবেষণায় দেখা গেছে কোন নিয়ম-কানুন রপ্ত করার ক্ষেত্রে মনোযোগকারী পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়ন ক্ষমতা পুরুষদের তুলনায় নারীদের অপেক্ষাকৃত ভাল। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা লন্ডনে হরমোন বিষয়ক এক কনফারেন্সে মনস্তাত্ত্বিক জটিলতাগুলো নারীদের ক্ষেত্রে বেশি কাজ করে, এ বিষয়টি সম্পর্কে একটি গবেষণাপত্র উপস্থাপনা করেন। তারা বলেন, মানব মস্তিষ্কের সঙ্গে সম্পৃক্ত এস্ট্রোজেন হরমোন নারীদের এ ধরনের দক্ষতা বাড়ায়।

এ গবেষণার জন্য নির্বাচন করা হয়েছিল ১৮-৩৫ বছর বয়সী ৪৩ নারী এবং পুরুষ। তাদের দিয়ে এ কাজগুলো করানো হয়েছিল স্মৃতিচারণ নিয়মকানুন রপ্তকরণ, মনোযোগী হওয়া, পরিকল্পনা এবং মোটর নিয়ন্ত্রণ। জরিপের ফলাফলে জানা যায়, মনোযোগকে দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা এবং প্রতিদিনের কার্যক্রম যেমন ড্রাইভিং এবং রিডিং নারীরা পুরুষের তুলনায় খুব সহজেই রপ্ত করতে পারে। এটা অবশ্যই বিশ্লেষণযোগ্য যে, কেন স্কুলে মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় বেশি মনোযোগী এবং কেনই বা গবেষকরা ধারণা করেন, নারীরা পুরুষদের তুলনায় অপেক্ষাকৃত সচেতন ড্রাইভার। ‘সোসাইটি ফর এ্যানডোক্রোনোলজি’ শিরোনামে এক মিটিংয়ে বক্তারা বলেন, মনস্তাত্ত্বিক জটিলতাগুলো মেয়েদের ক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত বেশি কাজ করার কারণ অবশ্যই কেবল লিঙ্গগত পার্থক্য নয়, বরং ড্রাইভিংয়ের দক্ষতাকে প্রাত্যহিক জীবনেও প্রয়োগ করা যেতে পারে। এস্ট্রোজেন নামক হরমোন আমাদের মস্তিষ্কের স্নায়বিক কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করে। অন্য গবেষকরা অবশ্য ভিন্নমত পোষণ করতেন কিছুকাল আগ পর্যন্ত। তারা বলেন, কতিপয় নারীর ক্ষেত্রে অবশ্য দক্ষতাপূর্ণ কাজ করানো যায় না, যেমন ম্যাপ রিডিং। কেননা কোন নারীর ডিম্বাশয় থেকে খুবই সামান্য পরিমাণ টেস্টোস্টেরন নিঃসৃত হয়। ড্রাইভিং প্যাসনেয়র লেখক ড. পিটার মার্শ বলেন, মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী নারী এবং পুরুষের ক্ষেত্রে এক ধরনের পার্থক্য কাজ করে। ঝুঁকি নেয়া এবং থ্রিলিং কাজে মেয়েরা বেশি সাবধানী পুরুষদের তুলনায়। এছাড়াও দেখা গেছে, নারীরা অপেক্ষাকৃত ধীরগতিতে গাড়ি চালায় কেননা হঠাৎ করে কোন দুর্ঘটনায় মেয়েরা দ্রুত ব্রেক করতে পারে না ঠিক যতটা প্রয়োজন।

ড. নিক নিভ, নর্থামব্রিয়া ইউনিভার্সিটির বিবর্তনবাদী মনস্তাত্ত্বিক যিনি জেন্ডার ইস্যুতে বিশেষভাবে গবেষণা করেন। তিনি বলেন, ড্রাইভিং কখনই একমুখী দক্ষতা নয় অনেক দক্ষতার সমষ্টিকরণ। অর্থাৎ মোটর নিয়ন্ত্রণে দক্ষতা, নিয়ম-কানুন রপ্তকরণ, মনোযোগ এবং আত্মবিশ্বাসÑ এ সব গুণের একত্রীকরণ। জরিপে পাওয়া গেছে ‘মনোযোগের ক্ষেত্রে মেয়েরা অপেক্ষাকৃত ভাল’। এছাড়াও কিছু ফ্রন্টাল কর্টেক্স কাজের জন্যও মহিলারা বিশেষ সুবিধা পেয়ে থাকে। উল্লেখ্য এস্ট্রোজেন হরমোন নিঃসরণের কারণে নারীরা অপেক্ষাকৃত দক্ষ ড্রাইভার এ বিষয়টি সম্পর্কে খুব সামান্য গবেষণা হয়েছে। তবে এ গবেষণালব্ধ তথ্য থেকে আরও ব্যাপক এবং গভীর বিশ্লেষণ করার সুযোগ রয়েছে।

বিপাশা চক্রবর্তী

প্রকাশিত : ২৪ এপ্রিল ২০১৫

২৪/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: