মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

আমি অবাক হয়ে রই!

প্রকাশিত : ২২ মার্চ ২০১৫
  • পাভেল সাহিদ সারওয়ার

আমি প্রায়শই বেশ অবাক হই। সেটা হলো যে কোন একটি ব্যাপারে, ধরা যাক বন্ধুদের সঙ্গে কোন রেস্তরাঁয় খেতে যাওয়া, পারিবারিক কোন সিদ্ধান্ত নেয়া কিংবা নিদেনপক্ষে স্ত্রীর সঙ্গে কোথাও বেড়াতে যাবার সময়েও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আমি কোন মতৈক্যে পৌঁছাতে পারি না। ঐকমত্যে পৌঁছানোটা আমার জন্য বেশ কষ্টকর হয়ে ওঠে। প্রায়শই দেখা যায় যে, এখানে ‘নানা মুনির নানা মত।’ আমি অবাক হই এই ভেবে যে, একজন মানুষ কিভাবে তার একটি ডাকে, একটি নির্দেশনায় সাড়ে সাত কোটি বাঙালীকে একমতে এনে একটি মতৈক্যে পৌঁছাতে পেরেছিলেন। তিনি যখন যেই ডাক দিয়েছেন, যে আদেশ-নির্দেশ দিয়েছেন, সাড়ে সাত কোটি বাঙালী সেই আদেশ-নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছে। একটু লক্ষ্য করলেই দেখা যাবে তাঁর ঐতিহাসিক সাতই মার্চের ভাষণে তিনি যখন অসহযোগের ডাক দিলেন, তিনি নির্দেশ দিলেন রিক্সা-ট্রেন-গাড়ি ইত্যাদি চলবে। পক্ষান্তরে অফিস-আদালতে কোথাও কোন কাজ হবে না বলেও ঘোষণা দিলেন। তাঁর দূরদৃষ্টি এখানে স্পষ্ট যে, একদিকে গরিব দুঃখী বা সাধারণ মানুষের যেন কোন কষ্ট না হয়, আবার অন্যদিকে সরকারও যেন কার্যত অচল হয়ে পড়ে। তিনি ধারণা করেছিলেন যে, এই আন্দোলন হয়ত বেশ কয়েকদিন ধরে চলতে পারে, এবং এতে সাধারণ মানুষের কষ্ট-দুর্ভোগ লাঘবে এমন নির্দেশনা তিনি দিয়েছিলেন। আমার আরও অবাক লাগে এই ভেবে যে, তিনি পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে যদিও সবাইকে শরিক হতে নির্দেশ দিলেন, কিন্তু সাধারণ মানুষের কথা ঠিকই চিন্তা করেছেন। তারা যেন খেয়ে পরে বাঁচতে পারে, সেই ব্যবস্থাই করেছিলেন। সেদিন একটি স্বাধীন দেশের স্বপ্ন ছিল, আন্দোলনে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল! কেবল পাকিস্তানপন্থী কিছু রাজাকার আলবদর ছাড়া, যাদের সংখ্যা নিতান্তই ছিল কম। তিনি দেশের জনগণের জন্য একটি দিকনির্দেশনা, একটি পথনির্দেশনা দিলেন, একটি নতুন পথ, একটি স্বপ্ন দেখালেন।

কিন্তু লক্ষ্য করুন এখনকার হরতাল (বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিএনপি মার্কা হরতালের কথা বাদ দিলেও), এই হরতাল সফল করতে এবং সাধারণ মানুষকে বাধ্য করতে আজ হিংসাত্মক কর্মকা- কিংবা বলপ্রয়োগ করতে হয়। মানুষকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঐক্যবদ্ধ করাটা যে কি দুরূহ কাজ, সেটা স্বাধীনতাপরবর্তী আমাদের দেশের নেতা-নেত্রীরা বেশ হাড়ে হাড়েই টের পাচ্ছেন! আর বিএনপির বর্তমান প্রেক্ষাপটের হরতাল তো এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। এতে তাদের বাহবা দিতে হয় বৈকি! এই নতুন মাত্রায় হরতাল অর্থাৎ নিরীহ গরিব দুঃখী সাধারণ মানুষ হত্যা কিংবা পুড়িয়ে মারা। এদের পুড়িয়ে না মারলে যে হরতাল সফল করা যায় না! হরতালে মানুষ মরবে, গাড়ি, দোকানপাট পুড়বে কিংবা ভাংচুর হবে, সেটাই তো স্বাভাবিক। এই ষোলো কোটি মানুষের দেশে দু-দশজন সাধারণ মানুষ মরলে এমন কি ক্ষতি! আগে যেখানে অবরোধ হরতালে কিংবা যে কোন সরকারবিরোধী আন্দোলনে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল এবং এতে যে কটি সহিংসতা থাকত, তা ছিল সরকারী বাহিনী অর্থাৎ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কিংবা বড়জোর রাজনৈতিকভাবে সরকারী এবং বিরোধী দলে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যখন সরকারী নির্দেশে জনগণকে বাধা দিত, বলপ্রয়োগ করত, তখন জনগণও তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াত এবং পাল্টা বল প্রয়োগ করত। এতেই সাধারণভাবে কিছুটা হিংসাত্মক ঘটনা ঘটতে পারত।

সেদিন আমার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলছিলেন যে এরশাদবিরোধী আন্দোলনে ঢাকা কলেজে পড়ার সময়ে তিনিও পুলিশকে লক্ষ্য করে বহু ঢিল ছুড়েছেন। যে বন্ধুটি কারও সঙ্গে দুর্ব্যবহার তো দূরের কথা, একটি মশা মারতেও যিনি দু’বার চিন্তা করেন, তিনি এমন দুর্ধর্ষ কা- করেছেন ভাবতেও অবাক লাগে। পাঠকগণ লক্ষ্য করুন, স্বাধীনতা পরবর্তী বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনেও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল। কিন্তু এতে সাধারণ মানুষ পুড়িয়ে মারা কিংবা হত্যা করার কোন ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু আজকের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। হরতালের সংজ্ঞা পরিবর্তন করার জন্য কিংবা একে একটি সম্পূর্ণ নতুন মাত্রায় নিয়ে যাবার জন্য বিএনপি একটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেতেই পারে। এই পুরস্কার পাবার অবশ্য আরও দুটি কারণ আছে। প্রথমত এই হরতাল-অবরোধকে মানুষের কাছে একটি ‘সহনীয়’ পর্যায়ে নিয়ে আসার জন্য। অতি দুঃখের সঙ্গে ‘সহনীয় পর্যায়’ কথাটি এ কারণে উল্লেখ করলাম যে, বর্তমানে সাধারণ মানুষ আর হরতাল-অবরোধকে ততটা ভয় পাচ্ছে না। এটা জনসাধারণের কাছে সহনীয় হয়ে গেছে। কারণ সাধারণ মানুষ জানে এবং বিশ্বাস করে যে, মরতে যখন হবেই, তখন না হয় আগুনে পুড়ে দুদিন আগেই মরলাম। কিন্তু তাই বলে তো মৃত্যুর ভয়ে দিনের পর দিন ঘরে বসে থেকে পরিবার পরিজন নিয়ে না খেয়ে মরতে পারি না। কাজকর্ম করে তো নিজে খেতে হবে, পরিবার পরিজনকে খাওয়াতে হবে। দ্বিতীয় কারণটি হলো, এই হরতালে রাস্তাঘাট কিছুটা ফাঁকা থাকায় ঢাকার সুবিখ্যাত ট্র্যাফিক জ্যাম ম্যানেজমেন্টে কিছুটা অবদান রাখতে পারার জন্য। বেচারা ট্রাফিক পুলিশ যেটা করতে আদাজল খেয়েও হিমশিম খেয়ে যাচ্ছে, বিএনপি সেটা বেশ অনায়াসেই একটি মাত্র গায়েবী বিবৃতি দিয়েই করে ফেলছে। কিন্তু দিনকাল যেভাবে যাচ্ছে, তাতে বিএনপির এই পুরস্কার অচিরেই হাতছাড়া হয়ে যাবার সম্ভাবনাই বেশি।

কয়েকদিন আগে এ দেশের স্বনামধন্য লেখক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের একটি লেখায় (দৈনিক জনকণ্ঠে প্রকাশিত) তাঁর সুচিন্তিত মতামত পড়েছিলাম। তিনি লিখেছিলেন যে, যে দল হরতাল আহ্বান করবে, শিগগির সেই দলকেই যদি নিজ উদ্যোগে এবং খরচে এই হরতাল ডাকার বিষয়টি প্রচার করতে হয়, তাহলে খুব ভাল হয়। এখানে সাংবাদিক ভাই/বোনেরা যদি ইলেকট্রনিক এবং প্রিন্ট মিডিয়ায় এই হরতালের খবরটি প্রচার না করেন এবং হরতাল আহ্বানকারী দলকেই তাদের নিজ নিজ খরচে এবং গরজে এটি করতে দিতে পারা হয়, তাহলে বেশ হয়। তিনি সুন্দর করে লিখেছেন, তিনি যেন কল্পনায় দেখতে পারছেন যে, হরতাল আহ্বানকারী দলটি লিফলেট ছেপে এবং বিলি করে, পাড়ায় মহল্লায় মাইকিং করে এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে মুঠোফোনে বার্তা পাঠিয়ে কিংবা আরও নানা উপায়ে হরতালের খবর প্রচার করছে। তাহলে অবশ্য বোঝা যেত যে কত ধানে কত চাল!

আর বর্তমানের বিএনপিকে দেখুন, বেচারারা একটি হরতালের বিবৃতি পাঠাচ্ছেন, তাও অজ্ঞাত স্থান থেকে এবং কাটাছেঁড়া করে, অর্থাৎ এক জায়গার স্বাক্ষর কেটে আরেক জায়গায় লাগিয়ে। এবং সেই বিবৃতি আবার পত্রিকায় প্রকাশিত হচ্ছে। এটা ভেবেও আমি কম অবাক হই না যে, গ্রেফতারের ভয়ে লুকিয়ে-পালিয়ে অজ্ঞাত স্থান থেকে পাঠানো বিবৃতি যদি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়, তাহলে যে কেউ যে কোন স্থান থেকে যে কোন বিষয়ে বিবৃতি দিলেই, তাও পত্রিকায় অবশ্যই প্রকাশিত হওয়া উচিত।

আমি আরও অবাক হই এই ভেবে যে, বঙ্গবন্ধু লাখ লাখ লোকের সামনে প্রকাশ্যে এসব দিকনির্দেশনা দিতেন এবং এতে তাঁর বলিষ্ঠ এবং বজ্রকণ্ঠই যথেষ্ট ছিল। গ্রেফতার, নির্যাতন এমনকি ফাঁসির জন্যও তিনি ভীত ছিলেন না কিংবা এই ভয় তাঁকে দমাতে পারেনি। কত বিরাট মনের ও মাপের মানুষ হলে এটা সম্ভব হয়! তিনি কেবল দৈহিকভাবেই বড় ছিলেন না, তাঁর উঁচু মন-মানসিকতার কথা চিন্তা করেও শ্রদ্ধায় আমাদের মাথা নত হয়ে আসে।

জানি এবং মানি যে, দ্বিতীয় বঙ্গবন্ধু কোনদিন হবে না কিংবা হওয়া সম্ভব নয়, কিন্তু ‘জাতীয়’ নেতা-নেত্রীদের কাছ থেকে আমরা আমজনতা এটুকু তো আশা করতে পারি যে, আপনারা যা বলবেন, সামনা সামনি স্পষ্ট করে বলুন, দেশের মানুষের স্বার্থের কথা বলুন, এতে গ্রেফতার হতে হয় হোন, কিন্তু সাধারণ মানুষ হত্যা করার জন্য বক্তৃতা বিবৃতি চোরের মতো লুকিয়ে থেকে দেবেন না। অন্তত নিজেদের আত্মসম্মানটি বজায় রাখুন। তাহলে অন্তত দেশের মানুষ আপনাদের সম্মান করবে।

আমাদের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে পরিবার কিংবা সংসারে বাবা কিংবা তাঁর অবর্তমানে বড় ভাইকেই বেশি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হয়। বন্ধু মহলে যে বন্ধু একটু বেশি দায়িত্ববান, তাঁর ওপরেই বিভিন্ন অনুষ্ঠান, বনভোজন, পার্টি ইত্যাদি আয়োজনের ভার পড়ে। যে কোন সংগঠন কিংবা প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিদেরও একই কারণে বেশি দায়িত্ববান না হলে চলে না। তেমনিভাবে তাদের প্রতি অন্যদের আশা আকাক্সক্ষাও বেশি থাকে। ভাবখানা এমন যে, দায়-দায়িত্বও তোমার এবং যে কোন ভুলত্রুটি হলে দোষখানাও তোমার।

ঠিক তেমনিভাবে আমাদের রাজনৈতিক কালচারেও দুই প্রধান ব্যক্তিত্ব শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়া। দুজনের মধ্যে শেখ হাসিনার কাছেই এই আমার মতো সাধারণ মানুষের আশা-আকাক্সক্ষা অনেক বেশি। যেহেতু তিনি বেশি দায়িত্বশীল, পরিবারের ‘বড়’, আমাদের সবার নেত্রী (ম্যাডাম নন), তিনি সাধারণ মধ্যবিত্ত বাঙালী পরিবারের একজন সন্তান, মমতাময়ী মাতা, স্নেহময়ী আপা, একজন সাধারণ নারী। এজন্যই তাঁকে দেখি প্রধানমন্ত্রী হয়েও সমস্ত প্রটোকল ভেঙ্গে স্টেজ থেকে নেমে এসে তাঁর শিক্ষিকাকে সম্মান জানাতে। এজন্য তাঁকে দেখি প্রধানমন্ত্রী হয়েও জনতার কাতারে একাধিকবার এসে দাঁড়াতে। এজন্য তাঁর কাছে সাধারণের গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি। এজন্য পোশাক-আশাক, খাবার-দাবার, চাল-চলনে সবকিছুতেই তিনি একজন খাঁটি বাঙালী। তিনি সবার নেত্রী কিংবা আপা। তিনি ‘জননেত্রী’। পক্ষান্তরে আমাদের ম্যাডাম হলেন ‘দেশনেত্রী’- অর্থাৎ তিনি কেবল এই দেশের নেত্রীই থাকতে চান। তিনি সর্বদাই কর্ত্রী, নেত্রী নন। তাই তো তিনি ‘চুপ, বেয়াদপ’ বলে গাল দেন, তাই তো তিনি সবাইকে ধমকের সুরে, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে কথা বলেন। তিনি যে অনেক উঁচুতে। একটি স্বাধীন দেশের স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীকেও তিনি দরজার বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখেন। এতে তিনি গর্ব অনুভব করেন, অহঙ্কার বোধ করেন। মনে মনে তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলেন।

পাঠক, চলুন যাই এক কল্পনার জগতে! নিজেকে এদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কল্পনা করুন। আপনি একজন প্রধানমন্ত্রী শুধু নন, আপনি একজন বাবা কিংবা মাও বটে। তাই আরেকজন বাবা কিংবা মার পুত্র হারাবার শোকে তাঁকে সমবেদনা জানাতে গেলেন, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সে বাড়িতে আপনাকে ঢুকতেই দেয়া হলো না। যে জাতি অত্যন্ত অতিথিপরায়ণ জাতি হিসেবে বিশ্বে সুপরিচিত। সামান্য পরিচয়েও কেউ কারও বাড়িতে গেলে নিদেনপক্ষে চা-বিস্কুটসহ আপ্যায়নের কিংবা মেহমানদারিতে নিজে না খেয়ে অতিথিকে খাওয়ানোর কিংবা নিজের সন্তানের বদলে অতিথির পাতে মাছের মুড়োটা কিংবা মুরগির রানটা তুলে দেবার রেয়াজ যে জাতির গর্ব, সেই ‘জাতীয়তাবাদী’ একজন মহিলা কিনা স্বাধীন দেশের একজন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই ব্যবহার করলেন! যে কোন দাওয়াতে গেলেও ঠিকমতো যতœ বা সাদরে অভ্যর্থনা না পেলে কিংবা পাতে খাবারটা তুলে না দিলেও আমরা মনঃক্ষুণœ হই। সেখানে এই রূঢ় ব্যবহার। পাঠক, আরও কল্পনা করুন, খালেদা জিয়া এদেশের প্রধানমন্ত্রী, শেখ হাসিনা এমনকি বিরোধী দলের নেত্রীও নন, তিনি বেগম খালেদা জিয়াকে এভাবে বাড়িতে ঢুকতে দিলেন না, তার ফল কি হতে পারত? বাজি ধরে বলতে পারি তাহলে শেখ হাসিনার কপালে ‘দুর্গতি’ ছিল! সে হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া বরং এখনও বহাল তবিয়তে আছেন বৈকি!

তবে যা বলছিলাম যে সংসারে বাবা-মাকেই সন্তানের সমস্ত দুষ্টুমি কিংবা অন্যায় আবদার ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখতে হয়। কখনও শাসন, কখনও তিরস্কার কিংবা কখনও পুরস্কার দিয়ে ছেলেমেয়ে শেখাতে হয়। এটাও সত্য যে ছোটরা বড়দের থেকেই শেখে। কথায় বলে, ‘চ্যারিটি বিগিনস এট হোম।’ সেই রাজার গল্পটি নিশ্চয়ই সবার জানা, রাজা তাঁর বিশাল বাহিনী নিয়ে শিকার করতে গিয়ে সবার খেয়াল হলো যে রান্না-বান্নার সব কিছু আনা হলেও লবণ আনা হয়নি। রাজা তখন তাঁর মন্ত্রীকে হকুম দিলেন যে পাশের গ্রাম থেকে যেন লবণ কিনে আনা হয়। মন্ত্রী অবাক হয়ে জানতে চাইলেন যে, পুরো রাজ্যই তো রাজার, সুতরাং সামান্য লবণ কিনে না এনে তো এমনি এমনিই নিয়ে আসা যায়। কিন্তু রাজা বলে কথা। রাজা বোঝালেন যে তিনি যদি সামান্য লবণ চেয়ে আনতে বা এমনি এমনি নিয়ে আসতে বলেন, তবে তাঁর পাইক পেয়াদারা চাল-ডাল অন্যান্য জিনিসও চেয়ে বা এমনিই নিয়ে আসবে। পরবর্তীতে এই চেয়ে আনা জোর করে নিয়ে আসায় পরিণত হবে। কাউকে ডেকে আনতে বললে বেঁধে আনবে।

তাই এ ক্ষেত্রে আমি মনে করি শেখ হাসিনা যদি তাঁর বাক্যবাণে আরও একটু সংযত হোন, শব্দ চয়নে আরও একটু যতœবান হোন তবে তাঁরই মর্যাদা বাড়বে বই কমবে না। ‘তুমি অধম তাই বলে আমি উত্তম হব না কেন?/ এতে তাঁর দলীয় লোকজন আরও মার্জিত ব্যবহারে উৎসাহী হবেন। তাছাড়াও দুষ্টের দমন এবং শিষ্টের পালন এখানে অতি প্রয়োজন। মনে রাখা প্রয়োজন, আজকে তিনি প্রধানমন্ত্রী, কালকে হয়ত প্রধানমন্ত্রী থাকবেন না। কিন্তু তিনি আজীবন বঙ্গবন্ধু কন্যা, আমৃত্যু তিনি শেখ হাসিনা। আমার বাড়ির মা-বোন যদি বাড়ির গৃহকর্মীর সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করে, সেটাও শ্রুতিকটু লাগে। আমরা আমাদের মা-বোনের থেকেও যেরকম মার্জিত ব্যবহার আশা করি, ‘ম্যাডাম’কেও অনুরোধ করব যে, আপনি আগে ‘আত্মমর্যাদা’ বজায় রাখুন। সম্মান বা মর্যাদা আদায় করে নিতে হয়, এটা বাজারে কিনতে পাওয়া যায় না বা জোর করে আদায় করা যায় না।

নবাব সিরাজউদ্দৌলা এবং মীরজাফর, দুজনেই ইতিহাসে যার যার কর্মফলের জন্য স্থান করে নিয়েছেন। কিন্তু দুজনের স্থান ভিন্ন।

pavel.sarwar@gmail.com

প্রকাশিত : ২২ মার্চ ২০১৫

২২/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: