কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

একটু ভেবে দেখুন

প্রকাশিত : ৯ মার্চ ২০১৫

আমাদের চলার পথে চোখের সামনে, চারদিকে কতকিছুই আমরা ঘটতে দেখি। কিন্তু গভীরভাবে বেশিরভাগ ঘটনা ব্যস্ততার কারণে দেখা হয় না। যে কারণে ঘটনার আসল বিষয়বস্তু অনুধাবন করা হয়ে ওঠে না। এ রকম কিছু বিষয় তুলে ধরছি।

এক.

গাড়িতে যাতায়াত করতে গেলে আমাদের জ্যামে পড়তেই হয়। জ্যাম বিরক্তিকর বিষয় হওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু এই জ্যামকে অনেকেই মন থেকে আশা করে। তবে কখন, কে? গাড়িতে প্রিয় সঙ্গিনীকে নিয়ে বসে থাকলে কিন্তু তার কাছে এই জ্যাম এত বিরক্তিকর বিষয় নয়। তেমনি বিভিন্ন বিক্রেতা যেমন: বাদাম, আমড়া, গাজর, শসাসহ গাড়িতে-রাস্তায় যারা বিভিন্ন জিনিস বিক্রি করে থাকে, তারা কিন্তু মন থেকেই চায় জ্যাম অনেকক্ষণ স্থায়ী হোক। আপনি বিষয়টা ভেবে দেখেছেন কি?

দুই.

যে শিক্ষক তার ছাত্রের বুদ্ধি নিয়ে পড়ালেখা করায়। সেই শিক্ষক তার ছাত্রদের কি আর শিক্ষা দিতে পারে? এমন শিক্ষকের দায়িত্বে থাকা কোন ছাত্র কি ভাল ভবিষ্যত গড়তে পারবে? ছাত্রের থেকে কম জানা হয়েও যদি তিনি মাস্টারি করে এবং প্রতিনিয়ত তার ছাত্রের কাছে হোঁচট খেতে হয়, তাহলে তিনি যে কত বড় হতভাগা শিক্ষক তা কখনও ঐ শিক্ষক ভেবে দেখেছেন কি?

তিন.

কেউ নিজের যোগ্যতার পরিমাপ না করে যদি অন্যকে জ্ঞান দিতে যায়। যেমন: বিভিন্ন চায়ের দোকানদার, বাসের হেল্পার, অফিসের পিয়নসহ কিছু কম শিক্ষিত মানুষ যখন তার থেকে অনেক বেশি শিক্ষিত, যোগ্যতাসম্পন্ন মানুষকে জ্ঞান দেয়। কিন্তু একবারও বুঝতে চেষ্টা করে না যাকে বোঝাচ্ছে সে তার থেকে কত বেশি যোগ্যতাসম্পন্ন মানুষ। নিজেকে প-িত ভেবে শুধু বলেই যায়। কিন্তু এই বিষয়গুলো কতটা হাস্যকর এবং সে কতটা মূর্খ কখনও সে নিজেকে নিয়ে এভাবে ভাবতে পারে কি?

চার.

নিম্নতম কমনসেন্স নেই বা ব্যক্তি সচেতনও নয়। এমন একজন মানুষ যদি যথেষ্ট পরিমাণ ব্যক্তিসচেতন কোন মানুষকে এই বলে অপবাদ দেয় যে তার কমনসেন্সের অভাব আছে; তাহলে ওই ব্যক্তিকে এড়িয়ে চলা ছাড়া ভদ্রতা দেখানোর আর কোন উপায় আছে কি? কোন ভদ্র পরিবেশে এই লোকগুলো কত অসহায় হবে, তা কখনও ভেবে দেখে কি?

পাঁচ.

প্রতিনিয়ত বিবেকহীন মানুষের মতো অন্যায় করে। নিজ দায়িত্বে অবহেলা করে। এমন একজন কেউ যদি অন্যকে ন্যায়ের কথা বলে এবং অন্যকে দায়িত্ববোধ সম্পর্কে সচেতন করতে যায় তাহলে কে তাকে গুরুত্ব দেবে? এমন মানুষ কখনই নিজের সমস্যা বুঝতে পারে না। বুঝতে চায়ও না। শুধু অন্যকে বোঝাতে চায়। নিজের কাজ অন্যকে দিয়ে বিভিন্ন কৌশলে করিয়ে নিতে চায়। নিজে যতটা না তারচেয়ে বেশি বেশি জাহির করে বেড়ায়; শুধু নিজের দুর্বলতাকে আড়াল করে রাখতে। কিন্তু, এই মানুষগুলোর বিবেকবোধ কখনও জাগ্রত হবে কি?

ছয়.

স্যারের অনুমতি ছাড়াই অফিস থেকে চলে এসে বলছে। স্যার, তাকে কিছুই বলবে না। কারণ, স্যারের অনেক অবৈধ কাজের সাক্ষী হয়ে গেছে সে। কথাগুলো সরকারী অফিসের প্রথম শ্রেণীর এক কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা পিয়নের। একজন প্রথম শ্রেণীর সরকারী কর্মকর্তা হয়ে অবৈধ টাকা আয়ের জন্য তার পিয়নকে যখন ব্যবহার করে তখন নিজেকে ঐ পিয়নের কাছে সে সারা জীবনের মতো ছোট করে। কিন্তু ঐ কর্মকর্তারা এভাবে নিজেদের সম্মানটুকু যে হারাচ্ছে, তারা তা ভেবে দেখে কি?

সাত.

অনার্স, মাস্টার্স, বিবিএ, এমবিএ করা একটা ছেলে যখন বিয়ের পাত্রী হিসেবে উচ্চশিক্ষিত নয় এমন মেয়েকেই পছন্দ করে শুধু এই ভেবে যে, উচ্চশিক্ষিত মেয়েরা সংসার করতে চায় না, স্বামীর কথা শোনে না। এ রকম মনমানসিকতাসম্পন্ন কোন ছেলেকে কি বলা যায়। সে অনেক বেশি শিক্ষিত? এমন ছেলেরা শুধু পড়ালেখা করে বড় ডিগ্রী নেয়। কিন্তু স্বশিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারে না বলেই মনের দিক দিয়ে অনেক বেশি সঙ্কীর্ণ থাকে। এই শিক্ষিত মানুষগুলো তাদের চিন্তা-চেতনায় অনেক পিছিয়ে আছে। কিন্তু এই মানুষগুলো নিজেদের নিয়ে এভাবে ভাবে কি?

এ রকম হাজারও ভারসাম্যহীন কাজকর্ম আমাদের চারপাশে ঘটে চলে। মনে রাখবেন, কোথাও কোন সমস্যা মানেই সেখানে সমন্বয়ের অভাব। প্রকৃতি কখনও ভারসাম্যহীনতা পছন্দ করে না। তাই সর্বক্ষেত্রে সবকিছু ঠিক রেখেই চলা হলো বুদ্ধিমানের কাজ। এতেই বেশি মঙ্গল নিহিত রয়েছে। আসুন, সবাই নিজেকে জানি। নিজেকে যেন অন্যের কাছে ছোট হতে না হয়, এমন কাজ থেকে বিরত থাকি।

শহিদুল ইসলাম

ছবি : আরিফ আহমেদ

মডেল : মৌসুমি হামিদ ও রিয়া

প্রকাশিত : ৯ মার্চ ২০১৫

০৯/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: