আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

সম্পর্কের সমীকরণ বস ও কলিগ

প্রকাশিত : ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

একদিকে বস অন্যদিকে প্রিয় কলিগ। বস কাজের জন্য আপনাকে পছন্দ করলেও আপনার কলিগের সঙ্গে তার খুব একটা ভাল সম্পর্ক নেই। এ ধরনের পরিস্থিতি সামলাবেন কিভাবে? জারা আর অহনা, দু’জনেই একটি এক্সপোর্ট কোম্পানিতে কাজ করেন। দু’জনের মধ্যে বন্ধুত্ব খুবই ভাল। কিন্তু সমস্যাটা দেখা দেয় অন্য জায়গায়। অহনার সঙ্গে বসের সম্পর্ক বেশ ভাল। অহনার সব কাজ, সব প্রজেক্টই বসের বেশ মনের মতো হয়। সত্যি কথা বলতে কি, কাজের দিক থেকে খুবই এফিশিয়েন্ট অহনা। অথচ জারার কোন কাজই বসের ঠিক পছন্দ হয় না। কোন না কোন ফাঁক থেকেই যায়। প্রথম দিকে এই নিয়ে দু’জনের কেউই খুব একটা চিন্তা করত না। তবে ইদানীং জারার ব্যবহারে অদ্ভুত একটা পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছে অহনা। আজকাল অহনাকে একটু যেন এড়িয়েই যায় জারা। একসঙ্গে কোথাও যেতে চায় না, কথায় কথায় মনোমালিন্য হচ্ছে দু’জনের মধ্যে। এর পিছনে আসল কারণটা অহনা কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছে না। তবে আঁচ করতে পারছে যে, আস্তে আস্তে ওদের দু’জনের মধ্যে একটা বড়সড় দূরত্ব তৈরি হচ্ছে।

আমাদের মধ্যে কর্মজীবী অনেকেই জীবনের কোন না কোন সময়ে অফিসে এমন সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের মধ্যে অনেকেই হয়ত তাড়াহুড়া করে একটা ডিসিশন নিয়ে ফেলেন। তবে এমন সময়ে অকারণে বিচলিত হয়ে অথবা রাগারাগি করে কিন্তু কোনভাবেই পরিস্থিতি সামাল দেয়া সম্ভব হবে না। বরং হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনাই বেড়ে যাবে। কিভাবে সামলাবেন এমন একটি স্পর্শকাতর বিষয়, যাতে বস অথবা কলিগ কারও সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট না হয়?

কী করবেন : দু’জনের এই মনোমালিন্যের কথা অযথা অফিসের তৃতীয় কোন ব্যক্তির সঙ্গে আলোচনা করবেন না। এতে অযথা গসিপ হতে পারে অফিসে। যা কোনভাবেই ক্যারিয়ারের পক্ষে ভাল নয়। আপনার কলিগকে কিছু সময় দিন। হয়ত তিনি একটু স্পেস চান। কিংবা হয়ত তার ব্যক্তিগত জীবনে এমন কোন সমস্যা হয়েছে, যার ফলে তিনি এমন অস্বাভাবিক ব্যবহার করছেন। সেই বিশেষ অসুবিধার কথা আপনাকেও হয়ত জানাতে দ্বিধাবোধ করছেন। তাই এমন ক্ষেত্রে ধৈর্যের সঙ্গে কাজ করাই ভাল। দু’জনের মধ্যে যাই হোক না কেন সেই সব কথা বসের কানে না তোলাই ভাল। বিশেষ করে যখন বোঝা যাচ্ছে কলিগের সঙ্গে বসের সম্পর্ক খুব একটা ভাল না, সেক্ষেত্রে অযথা এই টেনশনের কথা বসকে বললে হয়ত পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে যেতে পারে। আপনি যদি ইনোসেন্টলি এ সব কথা বসকে বলে ফেলেন এবং এর ফলে বসের সঙ্গে আপনার কলিগের সম্পর্ক আরও খারাপ হয়ে যায়, তাহলে দোষটা আপনার ওপরই এসে পড়বে। সময় সুযোগ বুঝে আপনার কলিগের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলার চেষ্টা করুন। কারণ আপনি যদি মনে করেন যে, এই বিষয়টা এড়িয়ে গেলে আস্তে আস্তে সব ভুল বোঝাবুঝি মিটে যাবে তাহলে, এমন ধারণা কিন্তু একেবারেই ভুল। কোন সমস্যার সমাধান কখনও চুপ থেকে করা সম্ভব নয়।

সব সময়েই যে কোন পরিবেশ, পরিস্থিতিতে নিজের ব্যক্তিগত অভিমত, স্ট্যান্ড পয়েন্ট থাকা প্রয়োজন। তাই একটু ভেবে দেখার চেষ্টা করুন তো, আপনি অনিচ্ছাকৃতভাবেও আপনার বসের সুনজরে আসার জন্য এমন কিছু করছেন না তো, যা আপনার কলিগের চোখে অস্বাভাবিক ঠেকছে? আর হয়ত এর জন্যেই আপনার সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে তিনি দ্বিধাবোধ করছেন। সব সময়ে খেয়াল রাখবেন অফিসের কোন সম্পর্কই যেন প্রফেশনাল রিলেশনের গ-ি অতিক্রম না করে। সে আপনার কলিগের সঙ্গেই হোক অথবা বসের সঙ্গে। অফিসে কোন রকম পার্সোনাল কথা আলোচনা না করাই ভাল। সব চেষ্টা করার পরও যদি মনে হয় যে, আপনার কলিগের আপনার প্রতি ব্যবহারে কোন রকম পরিবর্তন আসছে না, তাহলে তাকে পরিষ্কার অথচ শান্তভাবে জানিয়ে দিন যে, আপনি এমন ব্যবহার কিন্তু ভবিষ্যতে আর মেনে নেবেন না।

শামিমা আক্তার রিমা

ছবি: লঙ্কেশর

মডেল: সুজিত, সামী, নিহারিকা ও জিএম দোলন

প্রকাশিত : ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

২৩/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: