রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

পিয়ারের মুক্তি মিলল না, জেলগেটে আবার গ্রেফতার

প্রকাশিত : ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

ফজলুল বারী, সিডনি থেকে ॥ জামিন হলেও মুক্তি মিলল না অস্ট্রেলিয়ায় গ্রেফতারকৃত বাংলাদেশী সাংবাদিক পিয়ার রহমানের! সোমবার সিডনির লোকাল কোর্টে তাঁর জামিনের আবেদন করা হয়েছিল। সরকার পক্ষের কৌঁসুলির শক্ত বিরোধিতার মুখেও শর্তসাপেক্ষে জামিন দিয়েছিলেন ম্যাজিস্ট্রেট এন্ড্রু। তিনজন জিম্মাদার জামিন বন্ডের টাকা নগদ জমা দেয়াসহ আনুষঙ্গিক পেপার ওয়ার্কের কাজও শুরু করেছিলেন। কিন্তু বাগড়া দিল অস্ট্রেলিয়ান ইমিগ্রেশন! ইমিগ্রেশনের লোকজন এসে ভিসা বাতিল করে নিজেদের জিম্মায় নিয়ে যায় পিয়ারকে। এরপর তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের নিজস্ব ডিটেনশন সেন্টারে। এ যেন জামিনে মুক্তির পর জেলগেটে আবার গ্রেফতার! গত ডিসেম্বরে নতুন একটি আইন চালু করেছে অস্ট্রেলিয়ান ইমিগ্রেশন। স্বল্পমেয়াদী ভিসা নিয়ে যারা অস্ট্রেলিয়া আসবে কোন ক্রিমিন্যাল অফেন্স পাওয়া গেলে তাদের ভিসা বাতিল করার নয়া এ আইনের খড়গ হলেন বাংলাদেশের ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভি চ্যানেলের এই ক্রীড়া সাংবাদিক। সিডনি আসার পথে বিমানে এক অপ্রাপ্ত বয়স্কা কিশোরীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। পাসপোর্টে তাঁর নাম মোঃ গোলাম রহমান। বাবা ঢাকার একটি নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল। সোমবার সিডনির লোকাল কোর্টে পিয়ারের জামিনের আবেদন করেন আইনজীবী মাইক ব্রডওয়েল। জামিনের শুনানি উপলক্ষে আদালতে আনা হয়েছিল পিয়ারকে। ঢাকা থেকে রওনার সময় কালো যে ফুলহাতা শার্ট তার পরনে ছিল সেটি এখনও পরনে। উদ্বিগ্ন বিধ্বস্ত চেহারা। সিডনির এসব কোর্ট রুমের মাঝখানে কাঠের ফ্রেমের কাচের ঘেরা একটি এলাকায় আসামিদের এনে বসানো হয়। সেটির সিঁড়ি বেয়ে কাচের ঘেরা এলাকাটিতে উঠতে-নামতে হয়। সেখানে পৌঁছে পিয়ার তাঁর পক্ষে আসা জিম্মাদারদের দেখেন। পিয়ারের পক্ষে জিম্মাদার হতে কোর্টে উপস্থিত ছিলেন কমিউনিটি লিডার সিরাজুল হক, এনটিভির অস্ট্রেলিয়া প্রতিনিধি রাশেদ শ্রাবণ ও পারিবারিক সুহৃদ সাইফুল ইসলাম। সরকার পক্ষের কৌঁসুলির শক্ত বিরোধিতার মুখে ম্যাজিস্ট্রেট শর্তসাপেক্ষে জামিন দেন পিয়ারকে। শর্তগুলো হচ্ছেÑ পিয়ারকে তাঁর জিম্মাদার রাশেদ শ্রাবণের সিডনির কোগরার বাসায় থাকতে হবে। প্রতিদিন একবার করে হাজিরা দিতে হবে কোগরা থানায়। তাঁর পাসপোর্ট জমা থাকবে অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের কাছে। দুই জামিনদার দুই হাজার ডলার করে চার হাজার ও পুলিশের কাছে জব্দ পিয়ারের ডলার থেকে দুই হাজার মিলিয়ে মোট ছয় হাজার ডলার জামিন বন্ডমানি হিসেবে জমা রাখতে হবে আদালতের অফিসে। জামিনে মুক্ত অবস্থায় তিনি নিউ সাউথওয়েলস রাজ্যের বাইরে যেতে পারবেন না। কিন্তু এ সব আয়োজন চলার সময় ইমিগ্রেশনের লোকজন এসে জানান, তাঁরা পিয়ারের ভিসা বাতিল করতে এসেছেন। নতুন আইনে এমন ক্রিমিন্যাল অফেন্স করা যে কারও ভিসা তাঁরা দশ মিনিটের নোটিশে বাতিল করার ক্ষমতাপ্রাপ্ত। এরপর পিয়ারকে নিয়ে যাওয়া হয় সিডনির ভিলাউড ডিটেনশন সেন্টারে। ১০ মার্চ তাঁর মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ।

প্রকাশিত : ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

১৭/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

খেলার খবর



ব্রেকিং নিউজ: