কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

পার্বতীপুরের ভয়াল গণহত্যা নজিরবিহীন

প্রকাশিত : ২৭ ডিসেম্বর ২০১৪

শ.আ.ম হায়দার, পার্বতীপুর থেকে ॥ মুক্তিযুদ্ধকালীন নয়মাস দিনাজপুরের পার্বতীপুরে যে গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে তা নজিরবিহীন। রেল কেন্দ্রিক পার্বতীপুর শহর ছিল অবাঙালী অধ্যুষিত। সে কারণে মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে স্থানীয় বাঙালীদের সঙ্গে তাদের সংঘাত বাধে। এদিকে একাত্তরের মার্চের প্রথম সপ্তাহে পার্শ্ববর্তী সৈয়দপুর সেনানিবাস ও তৎকালীন দিনাজপুর ইপিআর ক্যাম্প থেকে বাঙালী সৈন্যরা বিদ্রোহ করে অস্ত্রসস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে বেরিয়ে আসে। প্রথম পর্যায়ে বাঙালী সৈন্যরা পার্বতীপুর শহর তাদের নিয়ন্ত্রণে নিলেও পাকি বাহিনীর ভারি অস্ত্রশস্ত্রের কাছে টিকতে না পেরে পিছু হটে। এ সময় প্রথম শহীদ হন শহরের দক্ষিণপাড়া নিবাসী তৎকালীন ইপিআর সদস্য লালচান। তিনি পাকিস্তান থেকে পালিয়ে এসে দেখতে পান তাঁর ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। কয়েকজন সঙ্গী নিয়ে শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে রাইফেলের গুলি ফুরিয়ে গেলে নিরুপায় হয়ে ধরা পড়েন তাদের হাতে। তাঁর পা চলন্ত মাইক্রোর পেছনে বেঁধে দেয়া হয়। রাস্তায় টেনে-হেঁচড়ে নিয়ে যেতে এক সময় তাঁর মৃত্যু হয়। ৪ লাইনের রেলজংশনের কারণে পার্বতীপুরে ছিল পাকি বাহিনীর শক্তিশালী ক্যাম্প। বিহারিদের নেতা কামরুজ্জামান, বাচ্চা খাঁ, মোঃ ইকবাল, মোঃ ওদুদ খান প্রমুখরা ছিল তাদের অন্যতম সহযোগী। ইঞ্জিনে একটি বগি সংযোগ করে প্রতিদিন তারা অপারেশনে বের হতো। ট্রেন থামিয়ে গ্রাম ও বিভিন্ন জনপদ ঘেরাও করে বাঙালীদের ধরে এনে সোয়েব বিল্ডিংয়ের টর্চার সেলে চরম নির্যাতন শেষে চোখ ও হাত পা বেঁধে লাইনে দাঁড় করে গুলি করে হত্যা করা হতো।এই বিল্ডিং সংলগ্ন আমগাছে পায়ে রশি বেঁধে ঝুলিয়ে মারা হয়েছে অসংখ্য বাঙালীদের। এছাড়াও রেলস্টেশনের উত্তরে লেভেল ক্রসিংয়ের কাছে একটি কয়লার ইঞ্জিন চালু অবস্থায় দ-ায়মান থাকত। এখানে বাইরে থেকে ধরে আনা লোকজনদের নিক্ষেপ করা হতো এই জলন্ত বয়লারে। শহরের বিশিষ্ট ডাক্তার ক্যাপ্টেন আবুল হোসেনের পুত্র ডাঃ সামসাদ, রেলওয়ে হাসাতালের সার্জন ডাঃ আবদুল গফুর, ভবানীপুরের হাকিম চেয়ারম্যান, চ-িপুর ইউনিয়নের চ-িপুর গ্রামের চান মামুদ, বাজারপাড়া গ্রামের মস্তহাজীকে জলন্ত বয়লারে নিক্ষেপ করে মারা হয়েছে।

প্রকাশিত : ২৭ ডিসেম্বর ২০১৪

২৭/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: