কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা ॥ শেখ হাসিনার ভূমিকা

প্রকাশিত : ১১ ডিসেম্বর ২০১৪
  • ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর

গত ৩০ নবেম্বর ২০১৪-এ জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার স্বপ্নদ্রষ্টার পদক পাওয়ায় সর্বসম্মতভাবে তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ দিয়ে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়। তাঁকে এবার এ পদক দেয়া হয় তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়ন ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখার জন্যে। তাঁর তরফ থেকে এ পদক গ্রহণ করেন তাঁর সুযোগ্য পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। সজীব ওয়াজেদ জয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। পদকটি দেয়া হয় ওয়াশিংটনে ৫ দিনব্যাপী গোলকায়িত দক্ষিণ-দক্ষিণ উন্নয়ন প্রদর্শনী ২০১৪-এর সমাপনী দিন গত ১৪ নবেম্বরে। এই পুরস্কার জাতিসংঘের মহাসচিবের বিশেষ দূত ই পেন ঝু সজীব ওয়াজেদ জয়কে অর্পণ করেন। সংসদে এই ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করেন সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস। এই প্রস্তাব গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অন্যদের মধ্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, রাশেদ খান মেনন, তারানা হালিম, ড. হাছান মাহমুদ, মাহবুবউল আলম হানিফ এবং জাতীয় দলের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, রুহুল আমিন হাওলাদার, তাজুল ইসলাম চৌধুরী, কাজী ফিরোজ রশিদ এবং জাসদের মইনুদ্দিন খান বাদল বক্তব্য রাখেন। এসব বক্তার বক্তব্যে মূলত তিনটি তথ্য প্রতিভাত হয়েছে। এক, এ কথা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুস্পষ্ট হয়ে স্বীকৃত হয়েছে যে সকল প্রতিকূলতা সত্ত্বেও জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা দিতে সমর্থ হয়েছেন। এই স্থিতিশীলতা তিনি অর্জন করতে পেরেছেন সংবিধান সমুন্নত রেখে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সুরক্ষা করে। দুই, রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা অর্জন ও রক্ষণের সঙ্গে সঙ্গে তিনি বাংলাদেশে অভূতপূর্ব আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন অর্জন করতে সমর্থ হয়েছেন। বস্তুত বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর স্বৈরতান্ত্রিক সরকারসমূহের সকল মিথ্যা অপপ্রচার সত্ত্বেও একমাত্র বঙ্গবন্ধুকন্যাই ১৯৯৬ থেকে ২০০১ এবং পরে ২০০৯ থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের উন্নয়নের শ্রেষ্ঠ সারথির ভূমিকা পালন করে আসছেন। এবং তিন, এ উন্নয়ন অর্জনের সঙ্গে সঙ্গে তিনি দারিদ্র্য বিমোচনমূলক স্থায়ী এবং ফলপ্রসূ কার্যক্রম নিতে সক্ষম হয়েছেন। উন্নয়নের এই পর্যায়ে এই ধরনের সফল দারিদ্র্য বিমোচনমূলক কার্যক্রম অন্য কোন দেশ এখনও নিতে সক্ষম হয়নি।

এর আগে ২০১৩-এর ২৪ সেপ্টেম্বরে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার আন্তর্জাতিক সংগঠন কর্তৃক দক্ষিণ-দক্ষিণ পদকে ভূষিত হন। এই পদক তাঁকে দেয়া হয়েছিল দারিদ্র্য নিরসন ও সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশের ভূমিকা বিস্তৃত ও সফল করার আলোকে এবং এই প্রেক্ষিতে স্বল্পোন্নত দেশসমূহের জন্য অনুসরণীয় দেশ, সমাজ ও সরকার হিসেবে বাংলাদেশকে প্রতিভাত করার জন্যে। এই প্রেক্ষিতে ২০১৩-এর ৭ অক্টোবর বাংলাদেশের মন্ত্রিসভা তাঁকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানায়। ২০১৩-এর পরবর্তী বছর ২০১৪ তে আবার দক্ষিণ-দক্ষিণ পদক প্রাপ্তি বিশ্ব সম্প্রদায়ের সামনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান দৃঢ়তর করেছে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিয়ে উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে জননেত্রী শেখ হাসিনার ভূমিকাকে যথাপ্রাপ্য স্বীকৃতি দিয়েছে।

দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার ধারণা রূপ পায় ১৯৬০-এর দশকের শেষ ভাগে। এই ধারণা তিনটি অবিচ্ছেদ্য অংশে ক্রমান্বয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের সামনে উঠে আসে। এক, দক্ষিণ গোলার্ধের দেশসমূহ মূলত উত্তর গোলার্ধের উন্নত দেশসমূহ থেকে উন্নয়ন সাহায্য ও সহায়তা পেয়ে থাকে। দক্ষিণের গোলার্ধের দেশসমূহ সম্পদের নিরিখে একেবারে নিম্ন পর্যায়ের নয়। দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা এবং এশিয়ার দক্ষিণ অঞ্চলের দেশসমূহে পৃথিবীর জ্বালানি সম্পদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ মজুদ বিদ্যমান। এ সব দেশসমূহের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত আছে বলিভিয়া, ব্রাজিল, ইকোয়েডর, ভেনেজুয়েলা, আলজিরিয়া, লিবিয়া, নাইজিরিয়া, চাঁদ, গ্যাবন বিষুবীয় গিনি, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া। এ দেশসমূহ তাদের সম্পদের একাংশ দক্ষিণ গোলার্ধের অন্যান্য দেশসমূহকে দিয়ে উত্তর গোলার্ধের দেশসমূহ থেকে উন্নয়ন সাহায্যের পরিমাণ ও প্রয়োজন কমিয়ে দিতে পারে। সাম্প্রতিককালে স্নায়ুযুদ্ধ শেষ হওয়ার এই পর্যায়ে উত্তর গোলার্ধের দেশসমূহ থেকে দক্ষিণ গোলার্ধের দেশসমূহে উন্নয়ন সহায়তা দেয়ার পরিমাণ সঙ্কুচিত হয়ে গেছে। বিজ্ঞজনের ধারণা, সম্পদ ও সম্ভাবনার নিরিখে দক্ষিণ গোলার্ধের দেশসমূহ একে অন্যকে আর্থিক ও প্রযুক্তি সহায়তা দিতে সক্ষম। এই সম্ভাবনা বাস্তবে রূপায়িত করা গেলে দক্ষিণ গোলার্ধের উন্নয়নের জন্য উত্তর গোলার্ধের ওপর নির্ভরশীলতা অনেকাংশে কমে যাবে। এ ক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে ব্রাজিলের বার্ষিক এক বিলিয়ন ডলার পরিমাণ বিশেষ বিদেশী সাহায্যের কর্মসূচী উল্লেখ করা যেতে পারে। ব্রাজিলকে অনুসরণ করে চিলি অপেক্ষাকৃত অনুন্নত দেশসমূহ সহায়তা প্রদানের জন্য একটি পৃথক সংস্থা (চিলিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি) গড়ে তুলেছে। এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য এগুলো ইতিবাচক পদক্ষেপ। দুই, প্রথাগতভাবে দক্ষিণ গোলার্ধের বাণিজ্যের সবচাইতে বড় অংশ উত্তর গোলার্ধের দেশসমূহের সঙ্গে সম্পাদিত হয়ে থাকে। এই বাণিজ্য প্রবাহের গঠন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, উৎপাদনের উপকরণ বা কাঁচামাল ও সম্পূর্ণায়িত পণ্যের নিরিখে দক্ষিণ গোলার্ধের দেশসমূহ অধিকতর লাভজনকভাবে নিজেদের মধ্যে বাণিজ্য প্রবাহ প্রসারিত করতে পারে এবং এভাবে প্রসারণ ঘটলে উত্তর গোলার্ধ বাণিজ্যিকভাবে দক্ষিণ গোলার্ধের দেশসমূহের ওপর যে প্রভাব বিস্তার করে আছে তা ক্রমান্বয়ে দক্ষিণ গোলার্ধের দেশসমূহের জন্য লাভজনকভাবে কমিয়ে আনা যেতে পারে। এই ধরনের বাণিজ্য বিস্তৃত হলে বাণিজ্য-শর্তাদি বা টার্মস অব ট্রেড যা সার্বিকভাবে কাঁচামাল উৎপাদনকারী দেশসমূহের প্রতিকূলে আছে তা অনুকূল শর্তে উন্নীত হতে পারে। সাম্প্রতিককালে উন্নয়ন সহায়তার আংশিক বিকল্প হিসেবে বাণিজ্য প্রসারণ বা উন্নয়নের পথ অবলম্বনের কথা অর্থনীতিবিদরা বলে আসছেন। বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থনৈতিক তত্ত্ব অনুযায়ী অধিকতর সম্পদ সৃষ্টি ও ব্যবহার করা সম্ভব। উত্তর গোলার্ধের তথাকথিত অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যবাদী নীতি অনুসরণ করার ফলশ্রুতিতে দক্ষিণ গোলার্ধের দেশসমূহ এত দিন পর্যন্ত বাণিজ্য উৎসারিত সর্বাত্মক উপযোগ গ্রহণ করতে সমর্থ হয়নি। দক্ষিণ গোলার্ধের দেশসমূহের পারস্পরিক বাণিজ্য বাড়লে এই সীমাবদ্ধতা অনেকাংশে দূর হবে। এবং সেসব দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে। তিন, দক্ষিণ গোলার্ধের দেশসমূহের ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানাদি নিজেদের মধ্যে অধিকতর লেনদেন এবং দর্শনগতভাবে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অনুকূলে সামাজিক সঞ্চয় ও বিনিয়োগ সঞ্চালিত করে এক্ষেত্রে এসব দেশে দৃশ্যমান অপূর্ণাঙ্গতা দূর করতে পারে। উত্তর গোলার্ধের দেশসমূহের আর্থিক প্রতিষ্ঠানাদির মধ্যে পারস্পরিক লেনদেন ও সহযোগিতা যতটুকু বিস্তৃত ও ফলপ্রসূ তা দক্ষিণ গোলার্ধের দেশসমূহে তাদের আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এখনো অর্জন করা যায়নি। এই অপূর্ণাঙ্গতা দূর করে যুগপতভাবে দক্ষিণ গোলার্ধের উন্নয়নের জন্য একাধিক বহুজাতীয় উন্নয়ন ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করলে যেমনি উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক মূলধনের সরবরাহ বাড়বে তেমনি উত্তর গোলার্ধে প্রতিষ্ঠিত কিংবা এর প্রভাবাধীন বহুজাতিক উন্নয়ন ব্যাংকসমূহের একচ্ছত্র প্রভাব কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। চার ও সর্বশেষ, একটি পৃথক রাজনৈতিক বলয় হিসেবে দক্ষিণ গোলার্ধের দেশসমূহ তাদের অবস্থান পরিমার্জিত করে উত্তর গোলার্ধের দেশসমূহের বিদ্যমান একচেটিয়া রাজনৈতিক প্রভাবের বলয় থেকে বেরিয়ে আসতে পারে। ২০০৯ সালে এভাবে উত্তর গোলার্ধের রাজনৈতিক প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসার জন্যে লিবিয়ার তৎকালীন নেতা গাদ্দাফি আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার জন্য দক্ষিণ গোলার্ধে উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংগঠন বা ন্যাটোসম একটি নিরাপত্তা মিত্রতা গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। পরে হুগো শ্যাভেজ রাজনৈতিক মিত্রতার ভিত্তিতে দক্ষিণ গোলার্ধের দেশসমূহে একবিংশ শতাব্দীর সমাজতন্ত্র গড়ে তোলার আশা প্রকাশ করেছিলেন। এসবকে অবাস্তব উচ্চাভিলাষী প্রস্তাব হিসেবে ধরে নিলেও এ কথা স্বীকার্য যে দক্ষিণ গোলার্ধের দেশসমূহের মধ্যে অধিকতর মিত্রতা এই গোলকায়িত পৃথিবীতে দক্ষিণ গোলার্ধের স্বার্থানুকূল একটি ভিন্নতর এবং সম্ভবত উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক বলয় সৃষ্টি করতে পারে।

জননেত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক পর পর দু’বছর দক্ষিণ-দক্ষিণ পদক প্রাপ্তির প্রেক্ষিতে বলা চলে যে, এসব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান তাদের অনুসরণীয় দুটি লক্ষ্যের নিরিখে তার সফলতা ও অবদানের স্বীকৃতি দিয়েছে। এক, শেখ হাসিনা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন যে অপেক্ষাকৃত নিম্নতর সম্পদ পর্যায়ে সঠিক আর্থ-সামাজিক নীতি অনুসরণ করলে দারিদ্র্য বিমোচন করা যায় এবং গণতন্ত্রের চর্চা অব্যাহত রাখা চলে। তার নেতৃত্বে সাম্প্রতিক কালে বাংলাদেশে সংবিধান সমুন্নত রাখা এবং গণতন্ত্র রক্ষাকরণে যে সফলতা অর্জিত হয়েছে তা গণতান্ত্রিক পৃথিবীর সকল দেশের কাছে তার ও বাংলাদেশের জনগণের গণতন্ত্রে বিশ্বাস ও অব্যাহত চর্চার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। এবং গণতান্ত্রিক সরকারকে জনগণের কল্যাণে এবং স্বল্প-বিত্ত ও বিত্তহীন জনগণের দারিদ্র্য বিমোচনে কিভাবে সফলতার সঙ্গে প্রয়োগ করা যায় তার উজ্জ্বলতম উদাহরণ প্রদর্শন করেছেন তিনি। দুই, তিনি প্রমাণ করেছেন যে তথ্য প্রযুক্তি অপেক্ষাকৃত নিম্নতর মাথা-পিছু আয়ের দেশেও বিস্তৃত করা যায় এবং এরূপ বিস্তৃতকরণ সেসব দেশে অধিকতর সম্পদ সৃষ্টি ও সৃজনশীল উৎপাদনের অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কিভাবে দেশ ও সমাজের উন্নয়নে ব্যবহৃত হতে পারে তা সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি প্রসারিত করে শেখ হাসিনা দেখিয়েছেন। দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার একীভূত করে সরকারী ও বেসরকারী কাজের সফল সমন্বয় সাধন এবং এর সঙ্গে কোমল সম্ভারের বহিঃউৎসায়নে বা আউটসোর্সিং অনুগঠিত করে বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তির সফল প্রয়োগকারী আত্মবিশ্বাসী দেশ হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছে।

এ কথা স্বীকার্য, বাণিজ্য ক্ষেত্রে দক্ষিণ গোলার্ধের দেশসমূহের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর পরিধি এখনও বিস্তৃত। সাম্প্রতিককালে লাতিন আমেরিকার কতিপয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য প্রান্তিকভাবে বেড়েছে। কিন্তু আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলের দেশসমূহের ভেতর তেমন বাড়েনি। এশিয়ার দক্ষিণ অঞ্চলের দেশসমূহের সঙ্গে লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকার দক্ষিণ অঞ্চলের দেশসমূহের বাণিজ্য সম্পর্ক প্রায় স্থবির হয়ে আছে। দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার সঙ্গে যে দুটি প্রতিষ্ঠান বিদ্যমান তাদের বাইরে বাণিজ্য ক্ষেত্রে বিশ্ববাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) ও জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলনকে (আঙ্কটাড) দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা প্রসারণে অধিকতর এগিয়ে যেতে হবে। এ সকল সফলতা ও অপূর্ণাঙ্গতাকে প্রেক্ষিতে রেখেই জাতিসংঘের ৬৮তম সাধারণ অধিবেশন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুস্পষ্ট ভাবে বলেছেন “আমাদেরকে একটি সর্বজনীন উন্নয়ন কার্যসূচী (এজেন্ডা) সম্পর্কে একমত হয়ে একজোট হতে হবে। এই সর্বজনীন উন্নয়ন কার্যসূচী একটি ন্যায়ভিত্তিক সমৃদ্ধশালী ও টেকসই পৃথিবী-যেখানে কোন ব্যক্তি বা জাতি পেছনে পড়ে থাকবে না, তা স্থাপন করার লক্ষ্যে আমাদের আকাক্সক্ষা পূরণ করবে।” এই লক্ষ্যে বিশ্ববাণিজ্য সংস্থা এবং জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলনকে (আঙ্কটাড) অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার দুই ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার প্রদর্শিত পথ ও সফলতা দক্ষিণ গোলার্ধের অন্য দেশসমূহকে অনুপ্রাণিত করবে, শুধু তাই নয়, দক্ষিণ গোলার্ধের দেশসমূহের বাণিজ্য ও রাজনৈতিক ঐক্য এবং আর্থিক ও ব্যাংক ব্যবস্থার দারিদ্র্যবান্ধব সংশোধন ও সম্প্রসারণে সহযোগিতা করবে। এদিকে থেকে বিবেচনা করলে দক্ষিণ গোলার্ধের সকল দেশের মধ্যে জননেত্রী শেখ হাসিনা সফল নেতা হিসেবে নিজেকে ইতোমধ্যেই প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন বলা চলে। এই প্রক্রিয়ায় তিনি উত্তর গোলার্ধের তথাকথিত উন্নত দেশসমূহের প্রশংসা ও কৃতবিদ্যতার স্বীকৃতিও আদায় করতে পেরেছেন। বস্তুত দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার প্রধান সারথি হিসেবে শেখ হাসিনা অচিরেই বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পেতে চলেছেন। জয়তু শেখ হাসিনা।

লেখক : সংসদ সদস্য, সাবেক মন্ত্রী

প্রকাশিত : ১১ ডিসেম্বর ২০১৪

১১/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: