মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

আশাবাদী সোনাক্ষী সিনহা

প্রকাশিত : ৪ ডিসেম্বর ২০১৪

২০১২ সালে ‘সন অব সর্দার’ ছবির মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো জুটিবদ্ধ হয়েছিলেন অজয় দেবগন ও সোনাক্ষী সিনহা। তখন তাঁদের ছবি কোটি ক্লাবে অন্তর্ভুক্ত হলেও পোহাতে হয়েছিল নানামুখী সমালোচনা। তাছাড়া ওই ছবিতে অজয় এবং সোনাক্ষী দু’জনই বাজে অভিনেতা-অভিনেত্রীর খেতাব জিতেছিলেন। অবশেষে দুই বছর পর আবারও বলিউডের বর্তমান আলোচিত হিরো অজয় দেবগন ও আলোচিত হিরোইন সোনাক্ষী সিনহা দ্বিতীয়বারের মতো জুটিবদ্ধ হয়েছেন নতুন ছবি ‘এ্যাকশন জ্যাকসন’-এ। প্রভুদেবের পরিচালনায় এই এ্যাকশন কমেডি ছবিটি আগামীকাল মুক্তি পেতে যাচ্ছে। সোনাক্ষীকে নিয়ে প্রভুদেবের এটি তৃতীয় ছবি। অজয়-সোনাক্ষী জুটির ছবি যেমন নানামুখী সমালোচিত হয়েছিল ঠিক তেমনি প্রভুদেবের রাউডি রাঠৌড়ে ও আরৃরাজকুমার দুটি ছবিই চরম সমালোচনার মুখে পড়ে এবং এর প্রধান কারণ ছিল হিরোইন সোনাক্ষী কিন্তু আবারও এই হিরোইনকে নিয়েই ছবি তৈরি করেছেন প্রভুদেব। সমালোচিত হলেও সোনাক্ষী অভিনীত ছবিগুলো যে অনায়াসে কোটি ক্লাবে পৌঁছায়, হয়ত সে জন্যই পরিচালক আবারও তাঁকে নিয়ে কাজ করেছেন। অজয় এবং সোনাক্ষীর সঙ্গে এই ছবিতে আরও অভিনয় করছেন ইয়ামী গৌতম, কুনাল রয় কাপুর, মানাসভি মামগাই এবং দক্ষিণের অভিনেতা আনন্দ রাজ। তাছাড়া বিশেষভাবে উপস্থিত থাকছেন প্রভুদেব, শহীদ কাপুর ও সালমান খান। ছবিটির সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন হিমেশ রেশামিয়া।

সোনাক্ষী সিনহা ছিলেন ২০১২ সালে বলিউডের আলোচিত শোপিস। তাঁর ঝুলিতে এখন পর্যন্ত আছে বেশ ক’টি কোটি রুপি আয় করা ছবি। তবে সোনাক্ষীকে সবাই লাকি মানলেও অন্যদিকে শোপিস বলে তাচ্ছিল্য করতেও পিছপা হন না। কারণ বেশির ভাগ ছবিতে তাঁর ভূমিকা থাকে সামান্য। এছাড়া বড় ধরনের ফ্লপ ছবিও আছে তাঁর ঝুলিতে। তবে এতসব শনির দশা থাকা সত্ত্বেও তাঁর চওড়া কপালে ভাগ্যের দেবি নাকি সৌভাগ্যের বর নিয়ে বসে থাকতেন। ছবির পরিচালকদের কাছে তিনি হলেন বলিউডের লক্ষ্মী। এক কথায় যাকে বলে ছবির লাক ফ্যাক্টর। তিনি থাকলেই নাকি ছবি হয় সোনায় সোহাগা। কারণ তাঁর ছবি নাকি একশ’ কোটির বাজার ছোঁবেই ছোঁবে। বাবা শত্রুঘœ সিনহার পরিচয়ে ফিল্মি মহল্লার পরিচিতি থাকলেও সবাই ইতোমধ্যে তাঁকে দাবাং কন্যা হিসেবেই জানে। ২৭ বছর বয়সী বলিউডের এই তরুণী অভিনেত্রীর বিটাউনে পথচলার শুরু হয় সালমান খানের সেই দাবাং দিয়েই। ২০১০ সালের বলিউড বক্স অফিসে সবচেয়ে বেশি আয় করে দাবাং ছবিটি। প্রথম ছবিতেই এশ’ কোটির ক্লাবের বলিউড নায়িকাদের কাতারে চলে যায় সোনাক্ষী সিনহার নাম। ছবিতে ভালো অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ ফিল্ম ফেয়ারের সেরা নবাগত অভিনেত্রীর পুরস্কারটিও জোটে তাঁর কপালে। দাবাংয়ের সাফল্যের পরই হাতে আসে একাধিক ছবির কাজ। অক্ষয় কুমারের মতো জনপ্রিয় তারকার বিপরীতে অভিনয় করেছেন রাউডি রাঠৌড়ে এবং জোকার ছবিতে। অজয় দেবগনের বিপরীতে অভিনীত সন অব সর্দার তো হিট করা ছবিগুলোর একটি। যদিও এতে দু’জনের গায়ে বাজে অভিনেতা-অভিনেত্রীর তকমা লেগেছিল। আর দাবাংয়ের সিক্যুয়াল দাবাং ২ ছবিটি দিয়ে তো তিনি রীতিমতো কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন বলিউডের বক্স অফিস। তবে তাঁর গায়ে কুবাতাস লাগে সাজিদ খানের বহুল আলোচিত রিমেক ছবি হিম্মতওয়ালার একটি আইটেম গান দিয়ে। হিম্মতওয়ালা ফ্লপ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শনির ছায়াও যেন তাঁকে ভর করে বসে। তারপর রণবীর সিংয়ের সঙ্গে প্রথমবারের মতো জুটি বেঁধে অভিনয় করা ‘লুটেরা’ ছিল সোনাক্ষীর গত বছরের প্রথম ছবি। হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া অভিনয় দিয়ে সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করলেও ‘লুটেরা’ বক্স অফিসে কেন জানি মুখ থুবড়ে পড়ে। তারপর বস ছবিতে অতিথি শিল্পী হিসেবে আবারও দর্শকদের সামনে উপস্থিত হয়েছিলেন সোনাক্ষী। তবে এ্যাকশনধর্মী এই ছবিতেও আহামরি কোন সাফল্য পাননি সোনাক্ষী। তাছাড়া বলিউডের ভিন্নধারার চিত্র নির্মাতা হিসেবে পরিচিত পরিচালক তিঘমাংশু ধুলিয়ার বুলেট রাজা ছবিতে সোনাক্ষী অভিনয় করেছেন কলকাতার এক সাধারণ বাঙালী মেয়ের চরিত্রে। ছবির গল্পে যে কিনা একজন অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন দেখে। তবে এ্যাকশনে ভরপুর এই পলিটিক্যাল থ্রিলার ছবিটিও কোন আনন্দের সংবাদ বয়ে আনতে পারেনি সোনাক্ষীর জন্য। এত সব ব্যর্থতার পরও তিনি এগিয়ে যাচ্ছেন সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে। এসব নিয়ে সোনাক্ষী বলেন, সময় আমার সব ব্যর্থতার বদনাম ঘুচিয়ে দিবে। ছবি ফ্লপ হলে আমি মোটেও ভেঙ্গে পড়ি না আবার ছবির সাফল্যেও আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ি না। বাবার কাছ থেকে এ বিষয়গুলো আমি ভালভাবেই শিখেছি। আমি আমার সব কিছু ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিয়েছি। আসলে নিয়তির ওপর আমাদের কারও হাত নেই। এটাই আমি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি। তাই আমি আমার নতুন ছবি ‘এ্যাকশন জ্যাকসন’ ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিয়েছি।

Ñনাজমুল আহমেদ তন্ময়

প্রকাশিত : ৪ ডিসেম্বর ২০১৪

০৪/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: