মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

খুলনায় জয় না ড্র ফয়সালা আজ

প্রকাশিত : ৭ নভেম্বর ২০১৪
  • ‘চতুর্থ দিন শেষে ২৬৬ রানে এগিয়ে বাংলাদেশ, হাতে আছে ৫ উইকেট’

মিথুন আশরাফ, খুলনা থেকে ॥ তৃতীয় দিন খেলার যে অবস্থা ছিল, খুলনা টেস্ট যে ড্র হতে চলেছে; তাই বোঝা গেছে। কিন্তু চতুর্থদিন শেষে ২৬৬ রানে এগিয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনাই জেগে গেছে। বাংলাদেশ দলও এখন জয়ের জন্যই খেলবে। এমনটিই জানিয়েছেন টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে সবার আগে ১০০০ রানের মাইলফলক অর্জন করা মুমিনুল হক, ‘আমরা জয়ের জন্যই খেলব।’

এ জয়ের জন্য খেলতে গেলে কী করতে হবে? স্বাভাবিকভাবেই ঝুঁকি নিতে হবে। পঞ্চম দিনে মধ্যাহ্ন ভোজের আগে বাংলাদেশ অলআউট না হলেও ইনিংস ঘোষণার ঝুঁকি নিতে হবে। আর ৩৪ রান যোগ হলে জিম্বাবুইয়ের সামনে টার্গেট দাঁড়াবে ৩০১ রানের। এ টার্গেট অতিক্রম করতে গিয়ে জিম্বাবুইয়ে ব্যাটসম্যানরা জয়ের জন্য ঝুঁকি নিতে গেলেই হয়ে যায়। রান আসবে। কিন্তু উইকেটও টপাটপ পড়ার সম্ভাবনাই বেশি। আর জিম্বাবুইয়ে যদি উইকেট না হারানোর জন্য খেলতে থাকে তাহলে রানও আসবে না। তখন হয়ত ম্যাচটি ড্র হয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে যদি এক টেস্টে শতক ও ৫ উইকেট নেয়া সাকিব আল হাসান, তাইজুল ইসলামদের ঘূর্ণির জাদুতে বেহাল হয়ে পড়ে জিম্বাবুইয়ে ব্যাটসম্যানরা তাহলেও হার হবে জিম্বাবুইয়ের। চতুর্থদিনে উইকেটের যে আচরণ তাতে যে স্পিনাররা পুরোপুরি সুবিধা ভোগ করবে তা বোঝাই যাচ্ছে। আর এই শক্তিই বাংলাদেশকে জয়ের সম্ভাবনা বেশি করে জাগিয়ে দিয়েছে।

প্রথম ইনিংসে সাকিবের ১৩৭, তামিম ইকবালের ১০৯ ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ৫৬ রানে ৪৩৩ রান করে বাংলাদেশ। এ রানের জবাব দিতে নেমে তৃতীয় দিন শেষে হ্যামিল্টন মাসাকাদজার অপরাজিত ১৫৪ ও রেগিস চাকাবভার অপরাজিত ৭৫ রানে ৫ উইকেটে ৩৩১ করেছিল জিম্বাবুইয়ে। বাংলাদেশ ১০২ রানে এগিয়ে ছিল। তখন মনে করা হচ্ছিল জিম্বাবুইয়ে যদি চতুর্থদিনে মধ্যাহ্ন ভোজের বিরতির পরও খেলতে পারে নিশ্চিতভাবে টেস্টটি ড্র হয়ে যাবে। কিন্তু দেখা গেছে একেবারে ভিন্ন কিছু। বার বার বলা হচ্ছিল, নাটকীয়তাও ঘটতে পারে।

চতুর্থদিনে স্পিনাররা উইকেট থেকে এতটাই সহায়তা পেয়েছেন যে মাসাকাদজা (১৫৮) দিন শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই আউট হয়ে গেছেন। সাকিবের বল বুঝতে না পেরে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফিরেছেন। সেই যে জিম্বাবুইয়ের ইনিংসে ভরাডুবি শুরু হয়ে যায়, ৩৭ রানের মধ্যে জিম্বাবুইয়ের হাতে থাকা ৫ উইকেটের পতন ঘটে যায়। এর মধ্যে চাকাবভা ক্যারিয়ারের প্রথম শতক (১০১) তুলে নেন। কিন্তু দলকে এগিয়ে নিতে পারেননি। দলীয় ৩৩৬ রানে মাসাকাদজার আউটের পর ১৫ রানের মধ্যে ওয়েলার (৬), চাতারা (০), এমসাঙ্গির (০) উইকেটের পতন ঘটে। সেখান থেকে পানিয়াঙ্গারাকে (১*) সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে যেতে ৩৬৮ রানেই দম ফুরান চাকাবভাও। তবে নিচের সাড়িতে ব্যাট করতে নেমে যে লড়াকু ইনিংস খেলেছেন চাকাবভা, এ জন্য প্রশংসা ঠিকই কুড়িয়েছেন। জিম্বাবুইয়ে ৬৫ রানে পিছিয়ে থাকতেই অলআউট হয়ে যায়। আরও পিছিয়ে থাকত জিম্বাবুইয়ে, যদি তৃতীয় দিনের মতো চতুর্থদিনেও বাংলাদেশ ফিল্ডাররা ক্যাচ মিসের মহড়ায় মেতে না উঠতেন।

জিম্বাবুইয়ে ইনিংস শেষে যখন বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানরা ব্যাট করতে নামে তখন মনে হয়েছিল অনায়াসেই দিনটি পার করে দেবে। কিন্তু অতি নাটকীয় কিছু ঘটে যাওয়ার সম্ভাবনা জেগে যায়। ২৮ রানেই তামিম (২০) আউট হয়ে যান। ৭৫ রানে গিয়ে ব্যর্থতা সঙ্গী করে চলা শামসুর রহমান শুভর (২৩) উইকেটও হারায় বাংলাদেশ। বাংলাদেশ যে খানিক বিপাকে পড়ে যায়। এরপর মুমিনুল হক ও মাহমুদুল্লাহ মিলে দলের উইকেট পড়ার মিছিল কিছুটা থামান। যেই দুইজন মিলে ৫৬ রানের জুটি গড়েন, এমন সময় দলীয় ১৩১ রানে গিয়ে মুমিনুল (৫৪) আউট হয়ে যান। চতুর্থদিনেই বেশি উইকেট পড়ার সম্ভাবনা জেগে যায়। যদি এমনটি হয়ে যায় তাহলে টেস্টে পঞ্চমদিনে বাংলাদেশই বিপর্যস্ত অবস্থার মধ্যে পড়ে যেতে পারে।

এরপরও দলকে নিয়ে ভরসা থাকে। মাহমুদুল্লাহ ব্যাটিংয়ে আছেন। সাকিব, মুশফিক, শুভগত, তাইজুলরাও এখনও আউট হননি। কিন্তু একি! সাকিব, মুশফিক ব্যাট হাতে নেমেছিলেন যেন শুধু আউট হতেই। ৪ উইকেট নেয়ার সঙ্গে হ্যাটট্রিকের আশা জাগানো লেগ স্পিনার ওয়েলারের ঘূর্ণির জাদু এতটাই কাবু করে দিয়েছে সাকিব, মুশফিককে যে পরপর দুই বলে দুইজনই আউট হয়ে যান! সাকিব ৬ রান করে আর মুশফিক রানের খাতা খোলার আগেই ১৪৫ রানের সময় সাজঘরে ফেরেন। ৫ উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ।

এখন সবার ভেতর ধুক ধুক শুরু হয়ে যায়। না জানি কি হয়, সেই ভয়ও কাজ করে। কিন্তু দিন শেষে দেখা গেছে বাংলাদেশই সুবিধাজনক অবস্থানে চলে গেছে। সাকিব, মুশফিক যখন আউট হন তখনই বাংলাদেশ ২১০ রানে এগিয়ে যায়। কিন্তু উইকেট যে ছিল মাত্র ৫টি। যে কোন সময় আউটের মিছিল শুরু হলেই বিপত্তিতে পড়তে হতো। সেখান থেকে দলকে বাঁচান মাহমুদুল্লাহ ও শুভগত। দুইজন মিলে ষষ্ঠ উইকেটে ৫৬ রানের জুটি গড়েন। এরচেয়েও বড় বিষয় হচ্ছে, আর কোন উইকেটই হারায়নি বাংলাদেশ। যেখানে একটা সময় বাংলাদেশ কী চতুর্থদিনেই অলআউট হয়ে যাবে কিনা, এমন শঙ্কাও জাগে; সেখান থেকে দিন শেষে ৫ উইকেট হাতে থাকে। এ বিষয়টিও বাংলাদেশকে খুলনা টেস্টে এগিয়ে রাখছে। আজ পঞ্চম দিনে একের পর এক টেস্টে অর্ধশতক করতে থাকা মাহমুদুল্লাহ (৬৩*) ও তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দেয়া শুভগত হোম (২৩*) ব্যাট করতে নামবেন। যদি বাংলাদেশ ম্যাচ থেকে ফল বের করে আনতে চায়, জয়ের জন্য ঝুঁকি নিতেই হবে। সেক্ষেত্রে দ্রুতই রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে দিতে হবে। এরপর জয়ের জন্য খেলতে নামতে হবে। যে কাজটি করতে চায় মুশফিকবাহিনীও।

প্রকাশিত : ৭ নভেম্বর ২০১৪

০৭/১১/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: