ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২

তিস্তায় অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনে বাধা দিতে গিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ও পুলিশের ওপর হামলায় আহত ১৭

স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী

প্রকাশিত: ১৭:০৪, ১৯ মার্চ ২০২৬; আপডেট: ১৭:০৪, ১৯ মার্চ ২০২৬

তিস্তায় অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনে বাধা দিতে গিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ও পুলিশের ওপর হামলায় আহত ১৭

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় তিস্তা নদী থেকে বোমা মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনে বাধা দিতে গিয়ে টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান, সাংবাদিক, গ্রাম পুলিশ ও থানা পুলিশের সদস্যসহ প্রায় ১৭ জন আহত হয়েছেন। 

আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) পূর্বখড়িবাড়ি তিস্তা পাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

আহতরা হলেন- ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন, ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক আমির আফসার আলি, টেপাখরিবাড়ী এলাকার আলিমুদ্দিনের ছেলে আনোয়ার হোসেন, লোকমান, পুলিশ সদস্য রবিউল ইসলাম ও ঠাকুরদাস প্রায় ১৭ জনকে ডিমলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে আহতদের মধ্যে ইউপি চেয়ারম্যান সহ ৭ জনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিস্তা নদীতে দীর্ঘদিন ধরে বোমা মেশিন লাগিয়ে একটি চক্র অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করে বিক্রি করে আসছেন। একে ওই এলাকার নদী বাধ এবং রাস্তাঘাট চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। এতে টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন নদী থেকে পাথর উত্তোলনে প্রতিরোধের   ঘোষণা দেন।  আজকে সকালের দিকে  চক্রটি নদী থেকে পাথর উত্তোলন শুরু করেন। সেটি জানার পরে চেয়ারম্যান কয়েকজন গ্রাম পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যান৷ এসময়ে পাথর উত্তোলনকারী চক্রের সদস্যরা চেয়ারম্যানের ওপর হামলা করেন। এতে চেয়ারম্যান ও গ্রাম পুলিশ গুরুতর আহত হয়। পরে থানা পুলিশ ও সাংবাদিক খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালায় চক্রের সদস্যরা। এসময়ে তিনজন পুলিশ আহত হয় এবং পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দায়িত্বরত চিকিৎসক চেয়ারম্যানসহ ৭জনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। 

জামায়াতের টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের সাবেক আমির আফসার আলী বলেন, আজকে সেখানে চেয়ারম্যান তিস্তা নদী থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ করতে যায়। সেখানে আমিও ছিলাম আমিসহ অনেকে আহত হয়েছে।

এবিষয়ে ডিমলা থানা পুলিশের উপপরিদর্শক পরিতোষ রায় বলেন, তিস্তা নদীতে পাথর উত্তোলন বন্ধ করতে গিয়ে চেয়ারম্যানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। সেখানে পুলিশ গেলে পুলিশের ওপরও হামলাকারিরা হামলা চালায়। এতে ৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে  এবং পুলিশের গাড়ী ভাঙচুর করা করে হামলাকারিরা।

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা( ইউএনও) ইমরানুজ্জান বলেন, তিস্তা নদী থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ করতে গেলে ইউপি চেয়ারম্যানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। ঘটনার পর অতিরিক্ত পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবির সদস্যরা এসেছেন।হামলাকারীদের আটক করতে অভিযানের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ।

 

রাজু

×