ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২

শেরপুরে কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে আহত সজীবের মৃত্যু

নিজস্ব সংবাদদাতা, শেরপুর

প্রকাশিত: ১৪:২৯, ১৫ মার্চ ২০২৬

শেরপুরে কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে আহত সজীবের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত।

শেরপুরের নকলায় কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে কলিজা কেটে আলাদা হওয়া কিশোর সজীব মিয়া (১৪) চারদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর অবশেষে মারা গেছে। 

শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু ঘটে। নিহত সজীব মিয়া নকলা উপজেলার টালকি ইউনিয়নের বিবিরচর গ্রামের কৃষক ফারহান মিয়ার একমাত্র ছেলে। 

রবিবার দুপুরে সজীবের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিপন চন্দ্র গোপ। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০ মার্চ রাত ১০টার দিকে সজীবকে আড্ডা দেওয়ার কথা বলে ডেকে নকলা বাইপাস ব্রিজের নিচে নিয়ে যায় একই গ্রামের রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে মো. রিফাত (১৮) সহ আরো ৩/৪ জন। পরে একটি মোবাইল ফোন হারানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে কিশোর সজীবকে শরীরের একাধিক জায়গায় ছুরিকাঘাত করে কলিজা বিচ্ছিন্নসহ পেট থেকে ভুরি বের করে ফেলে রিফাত। তার ডাক-চিৎকার শুনে গুরুতর অবস্থায় সজীবকে উদ্ধার করে নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় এলাকাবাসী। অবস্থা গুরুতর দেখে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ’তে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চারদিন পর শনিবার বিকেলে সজীব মারা যায়। হামলাকারীরা কিশোর গ্যাং এর সদস্য বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। আলোচিত এ ঘটনার পরদিন ১১ মার্চ দুপুরে পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাসরিন আক্তারসহ নকলা থানার পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং পরিবারসহ ওই গ্রামের মানুষের সাথে বিস্তারিত ঘটনা সরেজমিন তদন্ত করেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। 


স্থানীয় ব্যবসায়ী তৈয়বুর রহমান জানান, আমাদের সামাজিক ও পারিবারিক অবক্ষয়ের কারণেই সমাজে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটছে। এ ঘটনায় অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেফতার চাই করে সুুষ্ঠু বিচার চাই। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, যাতে আর কেউ এমন অপরাধে জড়িত না হতে পারে। নকলার টালকি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও নকলা উপজেলা বিএনপি’র সাবেক আহ্বায়ক আলহাজ্ব খোরশেদুর রহমান জানান, সজীবের লাশ এখনো এলাকায় পৌঁছেনি। আমরা তার পরিবারের লোকজনের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি।

এ ব্যাপারে নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিপন চন্দ্র গোপ জানান, সজীবের ওপর হামলার ঘটনায় নকলা থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তর করতে আদালতে আবেদন করা হবে। একইসাথে দ্রুত সময়ে আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

এম.কে

×