ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২

মোংলা-ঘোষিয়াখালী চ্যানেলে বাঁধ দেয়ার চেষ্টা প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে ভন্ডুল

স্টাফ রিপোর্টার, বাগেরহাট

প্রকাশিত: ১৯:৪৯, ১৩ মার্চ ২০২৬; আপডেট: ১৯:৪৯, ১৩ মার্চ ২০২৬

মোংলা-ঘোষিয়াখালী চ্যানেলে বাঁধ দেয়ার চেষ্টা প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে ভন্ডুল

বাগেরহাটের রামপালে মোংলা-ঘোষিয়াখালী আন্তর্জাতিক নৌ চ্যানেলের একটি অংশে বাঁধ দিয়ে দখলের চেষ্টা প্রতিমন্ত্রী ড. ফরিদুল ইসলামের নির্দেশে ভন্ডুল হয়ে গেল। প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে অভিযান পরিচালনা করে বাঁধ নির্মাণ ভুল করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিৎ চক্রবর্তী।

জানা গেছে, মোংলা-ঘোষিয়াখালী ভারত বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক নৌ চ্যানেলটির ৫ কিলোমিটার নদী খনন না করায় পলি পড়ে ভরাট হয়ে যায়। এক সময় চ্যানেলের মুজিবনগর এলাকার নদী ভরাটি জমি কথিত জমির মালিকেরা নদী ভাঙ্গা জমির কাগজপত্র তৈরি করে হাজার একর জমি দখল করে নেয়। এছাড়াও সরকারি মালিকানা জমিও দখলবাজেরা দখল করে বাড়ি-ঘর নির্মাণ করে দখলে নিয়ে মৎস্য চাষ শুরু করে। গত সরকারের সময়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নজরদারির অভাবে কোটি কোটি টাকার জমি এভাবে বেহাত হয়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে বিগত সেটেলমেন্ট জরিপের সময় অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে নদী ভাঙ্গা জমি রেকর্ড করায়। শিখস্তি বা পয়োস্তি দাবি করে আবার কেউ কেউ নদী ভরাটি জমি নিজের দাবি করে আদালত থেকে একতরফা রায় করিয়ে সরকারি জমি মালিকানায় নিয়েছে।

এভাবে মোংলা-ঘোষিয়াখালী চ্যানেলের মুজিবনগর এলাকার ৫ কিলোমিটার নদীর চর ভরাটি হাজার একর জমি দখল হয়ে গেছে। সরকারি বিধি অনুযায়ী নদীর তীরভূমি বা প্লাবনভূমি সরকারের মালিকানায় থাকার কথা। কিন্তু সেসব জমি এখন ভূমিদস্যুেদর দখলে। তারা এখানেই থামেনি। বর্তমান নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরেও জবরদখল চলতে থাকে। 

সকালে চ্যানেল দখলের বিষয়টি রামপাল-মোংলা আসনের সংসদ সদস্য ও বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলামকে এলাকাবাসী জানান। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি রামপাল উপজেলা সহকারী কমিশনারকে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহনের নির্দেশ দেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিৎ চক্রবর্তী তাৎক্ষণিকভাবে মুজিবনগর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। সরোজমিনে গিয়ে তিনি চ্যানেলে বাঁধ দিতে দেখেন। জমির মালাকানা দাবি করা উপস্থিত ফকির রুহুল আমিনকে প্রশ্ন করা হয়, চ্যানেলে বাঁধ দিচ্ছেন কেন? সে জানায় জমি তার ভাই শাহাদাৎ, জাফর ও তাদের। তাই সে বাঁধ দিচ্ছে! তখন বাঁধ দেয়া বন্ধ করার নির্দেশ দেন সহকারী কমিশনার।

ওই একই সময়ে স্যাদলার পাশ খালের বাঁধ দ্রুততম সময়ের মধ্যে কেটে দেয়ার নির্দেশ দেন ওই কর্মকর্তা। এছাড়াও বাইনতলা ইউনিয়ের দূর্গাপুর গ্রাম জনৈক প্রভাবশালী ব্যক্তির দখলে থাকা কাটাখালির খাল এ গোহালটের জায়গা ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ দেন। নির্দেশ অমান্য করা হলে আইনি ব্যাবস্থা গ্রাহন করা হবে বলেও উল্লেখ করেন।

 

রাজু

×