ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২

টেকনাফে একাধিক পয়েন্ট দিয়ে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ

স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার

প্রকাশিত: ২৩:৫১, ১০ মার্চ ২০২৬

টেকনাফে একাধিক পয়েন্ট দিয়ে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ

টেকনাফে একাধিক পয়েন্ট দিয়ে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ

মিয়ানমারের মংডু টাউনশিপ থেকে সহজে দালালের মাধ্যমে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে একই পরিবারের ৬ জন রোহিঙ্গা। পরে তারা উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১৯ এ তাদের এক আত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নিয়েছে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, ৯ মার্চ রাত সাড়ে ১০টা দিকে ৭০ লাখ কিয়াটের চুক্তিতে দালালের সহযোগিতায় তারা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। পরবর্তীতে ক্যাম্প-১৯ এর ব্লক বি/৯ এ আশ্রিত তাদের আত্মীয় বিবি আছিয়ার ঘরে আশ্রয় নিয়েছে। আগতদের মধ্যে রয়েছে ফারুক আহমেদ (৪৫), সাতারা বেগম (৩৮), বিবি জান (১৮), মজিউর রহমান (১৪), আব্দুর রহমান (১৩) ও হাবিবুর রহমান (৯)। যে বসতঘরে তারা আশ্রয় নিয়েছে, সেই বিবি আছিয়া (২৯) ইউনুছ আহমেদের কন্যা এবং তার এফসিএন নম্বর ৫৫১৬৮৬।

স্থানীয়রা বলেছেন, বাংলাদেশে প্রায় ১৫ লাখের রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে, যাদের একটি পরিবারও এখন পর্যন্ত নিজ দেশে ফিরে যায়নি। তার পরেও মিয়ানমার থেকে ফের বিচ্ছিন্নভাবে আবারও রোহিঙ্গা আসছে সহজ ভাবে। বিষয়টি ইউএনএইচসিআর ভালো করে জানে। তারা তাদের রেজিস্ট্রেশনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। ক্যাম্পে দায়িত্বপালনকারী এপিবিএন পুলিশ ৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহমদ জানান, আমি খোঁজ খবর নিয়ে আপনাকে জানাব।
রোহিঙ্গা ক্যাম্প প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (৯ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ১৯ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি/১৯ ব্লকে নিকট আত্মীয় আছিয়া বিবির বসতঘরে আশ্রয় নেয়। এর আগে তারা টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ জলসীমা দিয়ে ৭০ লাখ কিয়াট মিয়ানমারের মুদ্রার (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৪ লাখ) বিনিময়ে দালালদের সহযোগিতায় এপারে প্রবেশ করে বলে প্রশাসনকে জানিয়েছে। ক্যাম্পের ইনচার্জ ও উপসচিব আজগর আলী বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিকটাত্মীয়ের বাসায় মিয়ানমার থেকে অনুপ্রবেশ করা পরিবারটি অবস্থান করছে এবং এক্ষেত্রে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সহিংসতার ফলে ২০২৪ সাল থেকে ফের সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ বাড়তে থাকে। ইউএনএইচসিআর বলছে, ২০২৪ সালের শেষ দিকে ক্যাম্পগুলোতে নতুন আগতদের একটি বড় ঢল তৈরি হয় এবং গত প্রায় ২০ মাসে নতুন করে দুই লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, যাদের সবার বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের কাজ চলছে। এদিকে রাখাইনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘রোহিঙ্গা খবর’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চলতি মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির কারণে উত্তর রাখাইনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা বেড়েছে।
বুচিদং ও মংডু টাউনশিপ থেকে গ্রেপ্তার, জোরপূর্বক নিয়োগ এবং তরুণীদের আটক করার খবর আসতে থাকায় এই উদ্বেগ আরও বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সাম্প্রতিক অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না পাওয়া গেলেও বিজিবির মিডিয়া উইং সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সীমান্ত কড়া নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে।

প্যানেল হু

×