ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ৩০ জুন ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩

সোনাইমুড়ীতে ইউনিয়ন পরিষদে সনদ বিক্রি!

নিজস্ব সংবাদদাতা, সোনাইমুড়ী নোয়াখালী

প্রকাশিত: ১৬:১১, ১০ মার্চ ২০২৬

সোনাইমুড়ীতে ইউনিয়ন পরিষদে সনদ বিক্রি!

ছবি: দৈনিক জনকণ্ঠ।

ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নাগরিক সনদ পেতে গুণতে হয় ১৫০ থেকে স্থানভেদে ২০০ টাকা পর্যন্ত। আর ওয়ারিশ, প্রত্যয়ন পত্র ও পারিবারিক সনদ ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা দিতে হয়। নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে উদ্যোক্তাসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে রয়েছে এমন অভিযোগ।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে উপজেলার ১০ টি ইউনিয়ন পরিষদ ঘুরে জানা যায়, উপজেলার দেওটি ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা হিমেল সেবা গ্রহীতাদের কাছ থেকে প্রতি নাগরিক সনদ ১শ থেকে ২শ টাকা নিচ্ছে। জন্ম সনদে তথ্য সংশোধনে ৫শ থেকে ১ হাজার ও বয়স সংশোধনের জন্য ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা নিয়ে থাকে। শুধু তাই নয়, সেবা নিতে আসা নাগরিকদের সাথে খারাপ ব্যবহার, অযথা হয়রানি সহ নানা বিষয়ে অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। 

সেবা নিতে আসা জসিম উদ্দিন বলেন, হিমেল মূলত এই ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা না। তাছাড়া তার বাড়িও এখানে না, তার নানার বাড়ি ২নং ওয়ার্ডে। সে এই ইউনিয়নের মানুষকে অযথা হয়রানি করছে। মানুষ থেকে বিপুল টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এসকল কারণে গত কিছুদিন পূর্বে সাধারণ মানুষের হাতে মারও খেয়েছে সে। তবুও সে আগের মতোই মানুষকে হয়রানি করেই চলেছে। মূল্য সহ সেবা তালিকা প্রদর্শন ও নিয়মিত মনিটরিং-ই হতে পারে সঠিক সেবা পাওয়ার কারণ।

নদনা ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা ইমাম হোসেন নাগরিক সনদের আবেদন করেই প্রতি সনদে নিচ্ছে ১০০ টাকা করে। সরকারি ফি ৫০ টাকার কথা বলে নিয়ে থাকে প্রতি সনদে। ঐ সনদটি প্রিন্ট দিতে হয় ইউনিয়ন পরিষদের পাশের দোকান থেকে ২০ টাকা করে। সেই দোকানির সাথে ইমাম হোসেনের কমিশন চুক্তি থাকায় মানুষ বাধ্য হয় ঐ দোকানে যেতে।
শুধু নাগরিক সনদ নয়, ওয়ারিশ সনদ, পারিবারিক সনদে নেন ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা। 

নদনা ইউনিয়নের কালুয়াই গ্রামের বাসিন্দা তোফায়েল আহমেদ বলেন, তার ছেলেদের নতুন ভোটার করতে দুটি নাগরিক সনদ নিয়েছেন। উদ্যোক্তা ইমাম হোসেনকে ২০০ টাকা দিতে হয়েছে। 

দেওটি ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা হিমেল বলেন, তার নিজের ইচ্ছায় নাগরিক সনদ দিতে ১০০ টাকা করে নিচ্ছেন। এটা দীর্ঘ এক বছর ধরে চলছে। বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সচিব জানেন। তবে এই সনদে সরকারি কোনো ফি নেই। 

আমিশাপাড়া ইউনিয়নের উদ্যোক্তা আবদুজ জব্বার সুমনের বিরুদ্ধেও রয়েছে নানা অভিযোগ। প্রত্যয়ন পত্র, নাগরিক সনদ সহ অন্যান্য সনদে ১শ থেকে ২শ টাকা, জন্ম সনদে তথ্য সংশোধনে ৫শ থেকে ১ হাজার ও বয়স সংশোধনের জন্য ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা চুক্তি করে থাকে। বিভিন্ন অযুহাতে মানুষকে হয়রানি করে প্রতিমাসে লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সাধারণ মানুষ থেকে। বিগত সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পায়নি সেবা প্রহিতারা।

বজরা ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা আবদুল মতিন নাগরিক সনদ, পারিবারিক সনদ সহ অন্যান্য সনদ দেড় থেকে ২শ টাকা করে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও প্রতি ওয়ারিশ সনদ ৫শ টাকা করে নিচ্ছে ঐ উদ্যোক্তা। শুধু তাই নয়, চুক্তিতে পাসপোর্টের কাজ করার সুবাদে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনগুলো থেকে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকার চুক্তিতে নামে বেনামে জন্ম সনদ করে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তাঁর এ সকল কর্মকাণ্ডে সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার কানিজ ফাতেমা কয়েকবার তাকে সতর্ক করেছিলেন।

চাষির হাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হানিফ মোল্লা বলেন, তার ইউনিয়ন পরিষদে নাগরিক সনদসহ অন্যান্য সনদ প্রদানে ৫০ টাকা করে নিচ্ছে উদ্যোক্তা। তবে অন্যান্য ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তারা কত করে নিচ্ছেন তা তিনি জানেন না। 

দেওটি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বাবলু বলেন, সনদ প্রদানে উদ্যোক্তা ১০০ টাকা করে নিচ্ছে। তবে এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের কেউ জড়িত নয়। 

বক্তব্য নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন আকতারের মুঠোফোনে একাধিক বার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এম.কে

×